পর্দার বিরুদ্ধে যেকোনো বক্তব্য নারীর নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি:- মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

1
385

ধর্মপ্রাণ মুসলিম নারীদের বাইরে চলাচলের সময় হাতে-পায়ে মোজা পরা ও চেহারা ঢাকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ইসলাম অবমাননাকর একটি বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের সাবেক সিনিয়র নায়েবে আমির ,চট্রগ্রাম ফটিকছড়িস্থ জামিয়া বাবুনগরের মহা পরিচালক আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী দাঃবাঃ।

বিবৃতিতে মুহিব্বুল্লাহ্‌ বাবুনগরী বলেন ,হিজাব বা পর্দা ইসলামের অন্য দশটি ফরজ বিধানের মত একটি অতিব জরুরি ও কল্যাণময় বিধান ৷ যা পবিত্র ক্বুরআনের সাতটি সুস্পষ্ট আয়াত ও অর্ধশত পবিত্র হাদিস দ্বারা প্রমাণিত ৷ নামাজ আদায় না করা কবিরা গুনাহ। কিন্তু এ নামাজ অস্বীকারকারী কাফের৷ অনুরূপ পর্দা বা হিজাব কারো ইচ্ছা না হলে সে পরবে না ৷ তাতে সে গুনাহগার হবে৷ কিন্তু মুসলিম হয়ে পর্দার অস্বীকৃতি জানালে সে আর মুসলিম থাকতে পারে না৷ সে কাফের হয়ে যায়।

পর্দা নারীর রক্ষাকবচ। পর্দার মাধ্যমে নারী জাতি সুরক্ষিত থাকে৷ পর্দার বিধান মেনে চলার মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারী ধর্ষণ ও ইভটিজিং বন্ধ হবে। পর্দা নারীর সম্মান বৃদ্ধি করে। পর্দা নারীর সম্ভ্রম রক্ষা করে। পর্দার বিরুদ্ধে যেকোনো বক্তব্য নারীর নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।

উল্লেখ্য যে, গত ৯ই জুন রোজ রবিবার গণভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনের একপর্যায়ে ধর্মপ্রাণ মুসলিম নারীদের পর্দার প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেছে, “হাত মোজা পা মোজা নাক-চোখ ঢাইকা একেবারে এটা কি? জীবন্ত ট্যান্ট (তাঁবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো, এর তো কোনো মানে হয় না”! পর্দা করা ইসলামের আদেশ, হাত-পা মোজা ও নেকাব মুসলিম পর্দানশীন নারীদের পোশাক৷ তাই, শেখ হাসিনার এই বক্তব্য ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে কটাক্ষ করার শামিল।

এই বক্তব্যে ইসলামের অপরিহার্য বিধান পর্দাকে বাজেভাবে কটাক্ষ করা হয়েছে, পবিত্র কুরআনের পর্দা সম্পর্কিত ৭টি সুস্পষ্ট আয়াত ও বহু হাদীসকে অবমাননা করা হয়েছে। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহর আক্বিদা হলো, পবিত্র কুরআনুল কারীমের ক্ষুদ্রতম অংশও অস্বীকার করা ইমান ভঙ্গের কারণ।

আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের কারণে ইসলামের পক্ষে ইতোপূর্বে প্রদত্ত তার সকল বক্তব্য ও কাজগুলো এমনকি পবিত্র রমাদ্বানে উমরাহকালে তার বোরকা ও হিজাব পরিধান জাতির কাছে এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আল্লাহ্‌ভীরু ধর্মপ্রাণ পর্দাশীল নারীদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যমূলক ও মুসলিম সেন্টিমেন্ট বিরোধী এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্য তাওবা করা প্রধানমন্ত্রীর জন্য উচিৎ বলে মন্তব্য করেন আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ্‌ বাবুনগরী দাঃবাঃ।

অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রী তার এ বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে দেশ ও জাতির কল্যাণকামী শান্তি প্রিয় ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনগণের ক্ষোভের কারণে দেশে যেকোনো রকমের কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে এবং তার জন্য প্রধানমন্ত্রী একক দায়ী থাকবে বলেও কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক সিনিয়র এই নায়েবে আমীর।

১টি মন্তব্য

  1. শেখ হাসিনা তার বক্তব্য প্রত্যাহার করলেই বা কি আর না করলেই বা কি! বক্তব্য প্রত্যাহার করলে কি সকল দায় থেকে শেখ হাসিনা নিষ্কৃতি পেয়ে যাবে ? আলেম সমাজের কাছে অনুরোধ, গতানুগতিক আল্টিমেটাম দেয়া, অবরোধ করা, লং মার্চ, শাস্তি দাবী, ফাঁসির দাবী…. ইত্যাকার সময় ক্ষেপণ ও জিহাদকে এড়িয়ে চলে সমস্যা সমাধানের ব্যর্থ প্রচেষ্টা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। এই সমস্যার স্মাধান আল্লাহ রেখেছেন একমাত্র ক্বিতালের মধ্যে। এই সত্য এড়িয়ে উম্মাহ কোন দিন সফলতা পেতে পারে না।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন