পাকিস্তানের ঐতিহাসিক লাল মসজিদ সংযুক্ত মাদরাসা জামিয়া হাফসা পুলিশ কর্তৃক অবরোধের প্রেক্ষাপট এবং সর্বশেষ আপডেট!

0
628

পাকিস্তানের ঐতিহাসিক লাল মসজিদ নামটি শুনলেই মনে হয় আরেক কারবালার ঘটনা। চোখের সামনে ভেসে আসে হোসাইনের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উত্তরসূরীদের ত্যাগ ও কুরবানির নজরানা। ২০০৭ সালে এই লাল মসজিদ এবং এর সাথে সংযুক্ত জামিয়া হাফসা মাদরাসায় আমেরিকার কাছে ঈমান বিক্রেতা গাদ্দার পারভেজ মোশাররফ সামরিক অভিযান চালিয়ে লাল মসজিদের সম্মানিত খতিব আল্লামা  গাজি আব্দুর রশিদ রাহি. সহ শত শত শিক্ষার্থীকে শহীদ করে দেয়।

সেই ঐতিহাসিক লাল মসজিদ সংযুক্ত জামিয়া হাফসা মহিলা মাদ্রাসা গত দুদিন ধরে সেখানকার পুলিশ-প্রশাসন অবরুদ্ধ করে রেখেছে।  কারেন্ট, গ্যাস, সব কিছুর সংযোগ কেটে দেয়া হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত বাহির থেকে নিয়ে আসা বোনদের খাবারও আটকে রাখা হয়েছিল।

স্থানীয় লোকেরা মাদরাসায় খাবার নিয়ে যেতে চাইলে প্রশাসন তাদেরকেও প্রবেশ করতে দেয়নি।

এই অবরোধের মূল কারণ তো সেটাই যার ভিত্তিতে পাকিস্তান ভারত থেকে পৃথক হয়েছিল। আল্লাহর বিধানের বাস্তবায়ন চাওয়া। তাছাড়া পাকিস্তানে সংগঠিত প্রতিটি অপরাধের বিরুদ্ধে জামিয়ার সাথে সংশ্লিষ্টরা সর্বোচ্চ সোচ্চার ছিলেন। শহিদান আর গাজিদের রক্ত থেকে দ্বীনের সিপাহসালারই জন্ম নিবে, এই চিরন্তন সত্য ত্বগুত সরকার ভাল করেই জানে। তারা কখনোই এই প্রতিষ্ঠানকে সহ্য করবে না। তাই এবার সুকৌশলে প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের পায়তারা করছে তারা।

২০০৭ সালে লাল মসজিদ এবং জামিয়া হাফসাকে রীতিমতো ধ্বংস করার পর ২০০৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায় ছিল, সরকার মসজিদ – মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে দিবে। কারেন্ট বিল, গ্যাস বিলসহ বেশ কিছু ব্যয় তাদের দায়িত্বে থাকবে। কিন্তু ১২ বছরের মধ্যে এ ব্যাপারে সরকারের তেমন কোন পদক্ষেপ প্রতিষ্ঠানের নজরে আসেনি। তখন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ লাল মসজিদ সংলগ্ন জায়গাতে কিছু ঘর তৈরি করে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে। সেখানে একটি দারুল ইফতাও চালু হয়। সর্বশেষ, ২০১১ সালে উলামাদের সাক্ষরসহ সরকার জামিয়া হাফসাকে একটি জায়গা দেয়। শর্ত হল, লাল মসজিদের পুরাতন জায়গায় তারা জামিয়া হাফসা প্রতিষ্ঠা করবে না। সেই জায়গার সাথে তাদের কোন সম্পর্ক থাকবে না। শর্ত মেনে নিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সেখানে কোটি টাকা খরচ করে মাদ্রাসার একটি ভবন তৈরি করেন। কিন্তু কিছুদিন আগে সেই জায়গাটাও সরকার নিয়ে যায় কোন কারণ দর্শানো ছাড়াই। সেখান থেকে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আবার লাল মসজিদ সংলগ্ন রুমগুলোতে শুরু করা হয়। গত ঈদের সময়ও ছাত্রীরা এখানে অবস্থান করে। ছুটিতে কিছু ছাত্রী বাসায় গেলে যখন ফেরার সময় হয়, তখন সরকার আরেক খেলা দেখায়! লাল মসজিদের খতিব মাওলানা আমেরকে দিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করে। সে ইফতা বিভাগের রুমগুলো বন্ধ করে দেয়। এক কথায় দারুল ইফতা বন্ধ করে দেয়। আর প্রশাসন এই মর্মে অবরোধ চালু করে যে, গাজী আব্দুল আজীজ দাঃবাঃ দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন।

 

এর মাধ্যমে সরকার একটি দ্বীনি মামলাকে চাচা-ভাতিজার মামলা হিসেবে উপস্থাপন করছে। যেন সাধারণ মুসলিম জনতাকে বিভ্রান্ত করে চুপ রাখা যায়।আর হচ্ছেও তাই। অনেকেই বিষয়টাকে ব্যক্তিগত মামলা হিসেবে দেখছে। অথচ পুরো বিষয়টিই দ্বীনি এবং আদর্শিক। ইসলাম ও কুফরের লড়াই। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল পূর্বে লাল মসজিদ এবং জামিয়া হাফসাকে শহীদ করার সময় প্রচলিত দ্বীনি শ্রেণী থেকে তেমন সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি।( কেউ কেউ তো মৌনসম্মতিও প্রকাশ করেছিল) এবারও তাঁদের নিরবতা উম্মতকে ভাবিয়ে তুলছে। আল্লাহর পানাহ!

এরপর জামিয়া হাফসার (মহিলা মাদরাসা) প্রিন্সিপাল উম্মে হাসান আজ সকালে সকলের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে মাদরাসা হাফসার অফিসিয়াল প্যাডে একটি সাহায্যনামা লিখে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন। সেখানে তাদের অবস্থার কথাও আলোচনা করা হয়।

অতঃপর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তান সরকার নড়েচড়ে বসে।

ঘটনার সর্বশেষ আপডেইট সংবাদ হচ্ছে, আজ সকালে প্রশাসন মাদরাসার ভেতরে খাবার পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে কিন্তু বাকি সব ধরণের সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ অবরোধ এখনো জারি আছে।

মাদরাসার পক্ষ থেকে এক অডিও বার্তায় পাকিস্তান ও সারা বিশ্বের মুসলিমদের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

আল্লাহ তাঁদের কবুল করে সবর এবং কুওয়াত দান করুন। হক্বের উপর অবিচল রাখুন। আমীন।

 

অবরুদ্ধ জামিয়া হাফসার কিছু দৃশ্য-

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন