গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়াতে, বিদ্যুৎ সংযোগে টিআইএনের প্রস্তাব!

0
121

এমনিতেই বিদ্যুৎ সংযোগের গ্রাহকদের ভোগান্তির শেষ নেই। তাঁর সাথে নতুন করে, করের আওতা বাড়াতে এবার বাজেটে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেছে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের দরিদ্র মানুষের হয়রানি বাড়বে। একই সঙ্গে কর্মঘণ্টা অপচয়ের পাশাপাশি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ।

বর্তমানে বিদ্যুৎ গ্রাহক সংখ্যা সারাদেশে ৩ কোটি ৩৪ লাখ। এর মধ্যে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের গ্রাহক সংখ্যা ২ কোটি ৬৪ লাখ। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের এই গ্রাহকের মধ্যে ১ কোটি ২০ লাখ লাইফ লাইন গ্রাহক। অর্থাৎ এসব গ্রাহক মাসে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থবিলে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেই কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নিতে হবে। কিন্তু লাইন লাইফ গ্রাহকেরা খুবই দরিদ্র। অনেকেই দিনমজুর। তাদের পক্ষে টিআইএন করা কষ্টদায়ক ও অমানবিক। তাছাড়া টিআইএন থাকলে প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হয়। যা ওই দরিদ্র শ্রেণি লোকদের জন্য হয়রানিমূলক, কর্মকালের অপচয় এবং তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এদিকে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য টিআইএন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আবাসিকের ক্ষেত্রে একজন বাড়িওয়ালা বা ভাড়াটিয়ার টিআইএন নম্বর না-ও থাকতে পারে। এ ছাড়া, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে এমনিতেই অনেক কাগজপত্র জমা দিতে হয়। নতুন করে আরও একটি জটিল বিষয় যুক্ত হলে সংযোগ পেতে গ্রাহকদের আরও সমস্যা হবে। তারা বলছেন, এটি বাস্তবায়ন হলে নিম্নবিত্তরা সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বে।

জানা গেছে, আবাসিকে বিদ্যুতের সংযোগের জন্য আবেদনপত্রের সঙ্গে আবেদনকারীর দুই কপি সত্যায়িত রঙিন ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের ফটোকপি, জমির দলিল বা লিজের সত্যায়িত ফটোকপি, ১০ তলার বেশি হলে অগ্নিনির্বাপণ সনদ, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভার মধ্যে হলে ভবন নির্মাণের বৈধ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ফটোকপি ও দুই কিলোওয়াটের বেশি গ্রাহকের বিদ্যুৎ লোড হলে সৌর প্যানেল স্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কারো ভবন নির্মাণের বৈধ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকলে অনাপত্তিপত্র দিয়েও বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়া যায়। এ ছাড়া বাণিজ্যিক ও শিল্প সংযোগের ক্ষেত্রে আবেদনপত্রের সঙ্গে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ছাড়পত্রের কপিও জমা দিতে হয়।

গত ১৩ জুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। দেশের ৪৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট এটি। বর্তমানে সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের নানা দিক নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে।
প্রস্তাবিত বাজেট পাস হবে আগামী ৩০ জুন। ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে নতুন অর্থবছরের নতুন বাজেট।
সূত্র: জাগোনিউজ২৪.কম

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন