‘সেদিন মুমিনগণ আনন্দিত হবে’ শিরোনামে মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশ্যে নয়াবার্তা দিলেন আল-কায়েদা উপমহাদেশের আমীর মাওলানা আসেম উমর!

4
1104

১৪৪০ হিজরীর ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে মুসলিম উম্মাহর প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন আল-কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার সম্মানিত আমীর মাওলানা আসেম উমর হাফিজাহুল্লাহ। ‘সেদিন মুমিনগণ আনন্দিত হবে’ শিরোনামের উক্ত বার্তাটি আল-কায়েদা উপমহাদেশের অফিসিয়াল প্রচারমাধ্যম ‘আস-সাহাব মিডিয়া’ প্রকাশ করে।

বার্তাটিতে আমীর মাওলানা আসেম উমর হাফিজাহুল্লাহ আফগানিস্তানে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন বিশ্ব কুফফার জোটের মোকাবেলায় ইসলামী ইমারতের মুজাহিদিনের দীর্ঘ লড়াই শেষে বিজয়ের বিষয়কে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি ক্রুসেডার বাহিনীর বিরুদ্ধে অর্জন করা এ বিজয়কে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর বিজয় বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘হে আমার মুসলিম ভাইয়েরা! আফগানিস্তানে আমেরিকার পরাজয় আর ইমারাতে ইসলামিয়ার বিজয়, এটা সমস্ত উম্মতের বিজয়। নির্যাতিত ও দুর্বলদের জন্য এটা এক নতুন প্রভাতের সুসংবাদ। এটা দুর্বল মুসলিমদেরকে আল্লাহর এ আয়াত স্মরণ করিয়ে দেয় : كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً

অর্থাৎ অনেক এমন হয়েছে যে, দুর্বল দল শক্তিশালী দলের উপর বিজয়ী হয়ে গেছে। যে আল্লাহ পূর্ববর্তীদের সাথে এই ওয়াদা করেছেন, বর্তমান ওয়ালাদের জন্যও তাঁর সেই ওয়াদা বাকি আছে।’

মুহতারাম আমীর হাফিজাহুল্লাহ আরো বলেন, ‘আফগানিস্তানে আমেরিকার পরাজয় এবং ইমারাতে ইসলামিয়ার বিজয়, এটা উলামা ও তলাবাদেরকে বালাকোট ও শামেলীর আন্দোলন এবং রেশমী আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। যার শিক্ষা ছিল: ইলমে দ্বীনের বাহকরা কোন শক্তি ও ক্ষমতার সামনে মাথা ঝুকায় না। যেমন আমীরুল মুমিনীন মোল্লা ওমর রহিমাহুল্লাহ কোন শক্তির কাছে মাথা নত করেননি। বরং কেবল একজন মুসলমানকে বাঁচানোর জন্য, ইসলামের এক আত্মমর্যাদা ও ইজ্জতের প্রতীককে বাঁচানোর জন্য সমস্ত কুফরী বিশ্বের সাথে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে দেন।

এরপর মাদরাসাসমূহকে ইসলামের শত্রুদের চক্রান্তমুক্ত রাখার ব্যাপারে মাওলানা আসেম উমর হাফিজাহুল্লাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘এজন্য উলামা ও তলাবাগণ কুফরী শক্তির আবেদনের কারণে নিজেদের পাঠ্যসূচি ও নিজেদের দ্বীনের মধ্যে কোনরূপ পরিবর্তনকে মেনে নিতে পারে না। চাই  তা একটি সুন্নত বা একটি মুস্তাহাবই হোক না কেন। নিজেদের মাদরাসাগুলোর রূহকে হেফাজত করার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করবে। যেকোন মূল্যে নিজেদের মাদরাসাগুলোকে জাহিলী সভ্যতার ময়লা-আবর্জনা ও লর্ড ম্যাকলীর যাদু থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করবে, এতে চাই উলামা ও তলাবাদের জান-মালের বা ঘর-বাড়ির যেকোন মূল্যই দিতে হোক না কেন।

সব কিছু দিবে, কিন্তু নিজেদের মাদরাসাসমূহের রূহে আচর লাগতে দিবে না। কারণ যদি মাদরাসাগুলো থেকে রূহ ই চলে যায়, তাহলে আর বাঁচানোর মত এমন কী বাকি থাকবে, যেটা হারানোর ভয়ে জিহাদ থেকে বাধা দেওয়া হবে?’

তিনি বার্তাটিতে আফগানিস্তানে নতুন ফেতনা হিসেবে জন্ম নেওয়া খারেজীগোষ্ঠী আইএসের তৎপরতা নিয়েও কথা বলেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিশ্বশক্তিগুলো আজ ইমারাতে ইসলামিয়ার জন্যও ইরাক ও শামের ফরমুলা প্রস্তুত করেছে। দায়েশের খঞ্জর উম্মতে মুহাম্মদীর পেটে বিদ্ধ করার জন্য উম্মুক্ত নাংগারহারের ময়দান চালু করেছে। খেলাফতের নামে খেলাফতকে জবাই করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শাম থেকে দায়েশের নামে লোকদেরকে হেরাতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং হেরাত থেকে আমেরিকান হেলিকপ্টার দিয়ে নাংগারহারে পৌঁছানো হচ্ছে।

দায়েশের দলের যে সকল লোকেরা নিজেদেরকে মুখলিস মনে করে, তারা যেন ইরাক ও শামের পরে এখন আফগানিস্তানে যেসকল ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, তার ব্যাপারে চিন্তা করে। প্রশ্ন হল: এখন আফগানিস্তানে আমেরিকা পরাজিত হওয়ার পর দায়েশের জিহাদ কাদের বিরুদ্ধে হবে? আমেরিকা বের হয়ে যাওয়ার পর দায়েশকে নাংগারহারে কেন শক্তিশালী করা হচ্ছে? আমেরিকান হেলিকপ্টার ভরে ভরে লোকজনকে কেন সেখানে পৌঁছানো হচ্ছে? কেন দিন-রাত তাদেরকে অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে? আফগানিস্তানে এখন কোন কুফর অবশিষ্ট আছে? তাহলে কি ইমারাতে ইসলামিয়ার বিরুদ্ধেই এ সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে? এগুলো কি ইমারাতে ইসলামিয়ার বিরুদ্ধে? যেমনিভাবে শামে তাদের সকল জিহাদ, মুজাহিদদের বিরুদ্ধে হয়েছে? মুজাহিদগণ নুসাইরীদের থেকে এলাকা বিজয় করতে যান। আর পিছন দিক থেকে দায়েশরা তাদের থেকে সেই এলাকা ছিনিয়ে আনতে যায়।

তারপর আজ শেষ পরিণতি কী হল? তা সবার সামনে স্পষ্ট। এমন জিহাদই কি আফগানিস্তানে করানো হবে? উম্মতের এই জেতা যুদ্ধকে দ্বিতীয়বার বিশ্বকুফরী শক্তিগুলোর হাতে নিলামে দেওয়া হবে?!’

এভাবে, বার্তাটিতে অতীত ও বর্তমান জিহাদ, আল্লাহর সাহায্য এবং মুজাহিদিনের সফলতা ও দুশমনদের চক্রান্ত নিয়ে বেশ কিছু অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, আল-কায়েদা উপমহাদেশের আমীর মাওলানা আসেম উমর হাফিজাহুল্লাহ। সর্বশেষে, তিনি আল্লাহর কাছে এই উম্মতকে সকল প্রকারের ফেতনা থেকে নিরাপদ রাখার প্রার্থনা করে বার্তাটি শেষ করেন।

4 মন্তব্যসমূহ

Leave a Reply to AbduLLAH প্রতিউত্তর বাতিল করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন