পুলিশের উপস্থিতিতে হামলা, হামলা ঠেকানোর পরিবর্তে মোবাইল কেড়ে নিয়ে হামলার ভিডিও ডিলেট!

0
152

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সালিশ বৈঠক চলাকালে পুলিশের উপস্থিতিতে বিরোধপূর্ণ জমি হামলা চালিয়ে দখলে নেয়া হয়েছে। টিনের তিনটি ঘর ও সীমানা বেড়া ভেঙে এবং এসব ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র লুট করে ২৫ শতাংশ জমি দখলে নেয়া হয়।

পুলিশ সদস্যরা দাঁড়িয়ে সব দেখলেও হামলা ঠেকানোর কোনো চেষ্টাই করেনি। বরং মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে হামলার ভিডিও মুছে ফেলেছে এক এসআই। ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ মধুপুর সাতকুড়ারপাড় গ্রামে গত শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, গ্রামের সুবল চন্দ্র বর্মণের দখলে থাকা ওই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে প্রতিবেশী সুশীল চন্দ্র বর্মণের। এ নিয়ে সালিশ বৈঠকে একাধিকবার মীমাংসা করা হয়, তবে সুশীলরা তা মানেনি। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়, কুড়িগ্রাম জজকোর্টে উলিপুর সাব-জজ আদালতে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। ওই জমিটিই এসআই তপন কুমার ও অন্য পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে শনিবার দখলে নেয় সুশীল গং।
সুবলের পরিবারের সদস্যরা জানায়, ২৪ এপ্রিল উলিপুর বাজারে যাওয়ার পথে অটোরিকশা থামিয়ে সুবলের ভাই রণজিতকে বেদম মারধর করে সুশীলরা। পরে প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় উল্টো সুবল পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করে সুশীলরা।
পরে ওই জমিতেই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে হঠাৎ উত্তেজনা সৃষ্টি হলে উভয়পক্ষ মারমুখী হয়ে উঠে। খবর দেয়া হয় থানায়। এসআই তপন ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে।

স্থানীয় রঞ্জু মিয়া, আলতাফ হোসেন, গাজীবরসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তপন দারোগা আসামাত্রই সুশীল পরিবারের সদস্যরা লাঠিসোটা নিয়ে সুবল পরিবারের সদস্যদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুলিশ সে সময় নীরবে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় সুবলের বড় ভাই রণজিতের স্ত্রী নমিতা রানী প্রতিপক্ষের হামলার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করছিল। এসআই তপন কুমারের নির্দেশে সেকেন্দার নামে হামলাকারীদের একজন মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে তার (তপন) হাতে দেয়। এসআই ভিডিও ও ছবি মুছে ফেলে ফোনটি ফেরত দেয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হয়। ততক্ষণে ২০ বান্ডিল টিনসহ তিনটি ঘর, বেড়া ও আসবাবপত্র লুট করে ওই জমির দখল নেয় সুশীলরা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন বলেন, পুলিশ বরং হামলাকারীদের সহায়তা করেছে। সুবলদের মামলায় ফাঁসানোর জন্য সুশীল পক্ষের পঙ্কজ কান্তি বর্মণ (৩০) ও প্রদীপ কুমারকে (১৯) উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথা হয় এসআই তপন কুমারের সঙ্গে। সে যুগান্তরকে জানায়, ঘটনা যা ঘটেছে তার জন্য আমি একা দায়ী নই। এসআই হাসান ও এসআই রাসেলও ঘটনাস্থলে ছিল। মোবাইলের ছবি ও ভিডিও কেন ডিলিট করেছে জানতে চাইলে বলে- ‘আসেন সামনা সামনি কথা বলব।’ এরপর ফোন কেটে দেয়। পরে আর ফোন দিলেও ধরেনি।
সূত্র: যুগান্তর

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন