ধর্ষণ মামলার আসামি মেয়রপুত্র জামিনে মুক্ত, আতঙ্কে পরিবার!

0
172

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করা মামলার আসামি জাজিরা পৌরসভার মেয়র ইউনুছ ব্যাপারীর ছেলে মাসুদ ব্যাপারী জামিনে মুক্তি পেয়েছে। গ্রেপ্তারের আট দিন পর গতকাল সোমবার বিকেলে বেড়িয়ে আসে। সে জামিন পাওয়ায় ওই কলেজছাত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে আছেন।

ওই কলেজছাত্রীর বাবা বলেন, লজ্জা, ভয় আর আতঙ্কে মেয়েটি কুকড়ে আছে। সারাক্ষণ ঘরে বসে কাঁদে। লজ্জায় মানুষের সামনে যেতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতে অপরাধী জামিনে বের হয়ে এসেছে। তাঁরা প্রভাবশালী, তাই শঙ্কা, কখন কোন ক্ষতি করে।

গত ২৯ জুন রাতে মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হন। ওই দিন বিকেলে মাসুদ তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য কলেজছাত্রীকে বাড়িতে আসতে বলে। ওই মেয়ে কাজ শেষ করে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাসুদের বাড়িতে যান। সেখানে মাসুদের পরিবারের কাউকে না দেখে ওই ছাত্রী ফিরে আসার চেষ্টা করেন। তখন মাসুদ তাঁকে ঘরে আটকে ধর্ষণ করে। পরে মেয়েটিকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়। মেয়েটি মাসুদের বাড়ি থেকে বের হয়ে চিৎকার করলে ওই মহল্লার কয়েকজন নারী তাঁকে উদ্ধার করেন। পরের দিন জাজিরা থানায় মাসুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ওই ছাত্রী।

১ জুলাই আদালতের মাধ্যমে মাসুদ ব্যাপারীকে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ৭ জুলাই তাঁর জামিনের আবেদন করা হয় শরীয়তপুর জেলা আমলি আদালতে। পরে জেলা ও দায়রা জজের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মরিয়ম মুন মঞ্জুরী জামিন মঞ্জুর করে আসামিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেয়।

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বলেন, ‘মাসুদ আমার আত্মীয় হয়। তারপরও ধর্ষণ করতে পিছপা হয়নি। আমি তাঁর পায়ে ধরে কেঁদেছি। তারপরও রেহাই পাইনি। মামলা করার পর থেকেই চাপে আছি। এখন মাসুদ মুক্ত হয়েছে। শঙ্কায় আছি সে আমাকে মেরে ফেলে কি না।’
আইন বিশ্লেষকগণ বলেছেন, ধর্ষণসহ বড় বড় অপরাধের আসামিরা যদি প্রভাবশালী কিংবা সরকার দলীয় ক্ষমতাশীল হয় তাহলে তারা আইনের ফাঁক ফোঁকর দিয়ে বিনা শাস্তিতে বেড়িয়ে যায়। আইনের জঠিলতা থেকে যায় অসহায়দের জন্য।

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন