পানির চাপ কমাতে খোলা হল তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট!

0
551

ভারি বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির চাপ কমাতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেয়া হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (১২জুলাই) সকাল ৯টায় থেকেই দোয়ানি পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া সুনামগঞ্জে সুরমা, লালমনিরহাটে তিস্তা ও ধরলা, নেত্রকোণায় সোমেশ্বরী, ফেনীতে মহুয়া কহুয়া, দিনাজপুরে পুনর্ভবা, আত্রাই, ছোট যমুনা, বান্দরবানে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এসব নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। কোনো কোনো স্থানে প্রবল বর্ষণে পানিবদ্ধতা দেখা দেয়ায় অনেকটা বন্দী অবস্থায় রয়েছেন সে এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তিস্তার তীরবর্তী নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি চরগ্রাম ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়েছে হাজার হাজার মানুষ।

এদিকে, বান্দরবান জেলার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে অনেক স্থানে সীমিত পরিমাণে ত্রাণ সরবরাহের খবর পাওয়া গেলেও অধিকাংশ মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

নীলফামারীতে টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় তিন হাজার পরিবার। ভোররাত থেকে তিস্তা পাড়ের অধিকাংশ বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেকে তিস্তার বামতীর বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পূর্বাভাস সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করে নীলফামারীর ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে।

সকাল ১০টা থেকে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারেজের সবকটি (৪৪টি) কপাট খুলে রাখা হয়েছে।

এদিকে তিস্তা নদীপরিবেষ্টিত ডিমলা এবং জলঢাকা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের তিন হাজার পরিবারের বসতবাড়ীতে পানি উঠেছে।

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ময়নুল ইসলাম জানান, বন্যায় তার ইউনিয়নের প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। আমার ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ি ও পূর্বখড়িবাড়ি দুই মৌজায় প্লাবিত হয়ে দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছে।

পানি যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে চরখড়িবাড়ি মৌজায় স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত দুই কিলোমিটারের বালুর বাঁধটি হুমকির মুখে পুড়েছে। যেকোনো সময় বাঁধটি বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।”

ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপনী ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ইউনিয়নের ছোটখাতা ও বাইশপুকুর গ্রামের প্রায় সারে চারশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

তিস্তা ব্যারাজের ভাটিতে খালিশাচাপানী ইউনিয়নের বাইশপুকুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক বিপুল চন্দ্র সেন বলেন, নদীর পানি বাড়ার গতিতে গ্রামের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন।

জলঢাকার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হোসেইন বলেন, বৃহস্পতিবার তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউনিয়নের হলদিবাড়ি ও ভবনচুর গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, টানা ভারী বর্ষণ ও উজানে ঢলে তিস্তা পানি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার ও সদর উপজেলার শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

একই সঙ্গে বিকেলে ৩টায় সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ ষোলঘর পয়েন্টে ৯৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

সুনামগঞ্জ শহরে সুরমা নদীর পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়াও শহরের কিছু এলাকায় পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

লালমনিরহাটে তিস্তা ও ধরলা নদীর চরাঞ্চলে বন্যা ও পানিবন্ধতা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৫ হাজার পরিবার। তিস্তা ব্যারাজ দোয়ানী পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার ৩ সে. মি. ওপর দিয়ে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’
স্বাধীনতার পর থেকেই এমই আসছে। খরার মৌসুমে বাংলাদেশের মুখে থাকা টেপাইমুখি, ফারাক্কা, তিস্তাসহ সবগুলো বন্ধ করে রাখা হয়। ফলে বাংলাদেশের নদ নদী শুকিয়ে যায়। বাংলাদেশের কৃষকরা পানির অভাবে চাষাবাদ করতে পারে না। আবার বর্ষা মৌসুমে যখন নদীর পানি বেশি থাকে তখন বাধগুলো খুলে দেয়। ফলে ভারতে তেমন বেশি বন্যা হয় না। কিন্তু বিপুল বন্যায় তলিয়ে যায় বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল। কৃষকের লাগানো ফসল সব নষ্ট হয়ে যায়। গরিব জনগণের বাড়ি ঘর, গৃহপালিত পশু, সহায় সম্ভল সব শেষ হয়ে যায়। ভারত এ কাজগুলো করছে এদেশে তাঁদের কিছু ক্ষসতালোভী দালালদের মাধ্যমে। যারা তাঁদের ক্ষমতা আর স্বার্থ টিকিয়ে রাখতে জনগণের জান মালকে বলি বানাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন