কক্সবাজারে ১৪ যুবক মিলে তরুণীকে গণধর্ষণ, ১০ হাজার টাকায় রফাদফার চেষ্টা!

0
234

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের চালিয়াতলী এলাকায় এক চাকরিজীবি তরুণী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। ১৩/১৪ একদল যুবক গত ৭ জুলাই পাহাড়ে ওই তরুণীকে তুলে নিয়ে এই ঘটনা ঘটায়।
এরই মধ্যে ধর্ষিতার পরিবার অভিযোগ নিয়ে দুইবার থানায় গেলেও স্থানীয় দুই ইউপি মেম্বারের বাধার কারণে থানায় অভিযোগ দিতে পারেনি। অভিযোগ উঠেছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে একটি প্রভাবশালী মহল। এমনকি তাকে এক জায়গায় আটকে রাখারও অভিযোগ উঠেছে।

ধর্ষিতার বরাত দিয়ে মাতারবাড়ী সিএনজি লাইনম্যান রশিদ জানায়, ধর্ষণের শিকার মেয়েটি গত ৭ জুলাই সকাল ১০টার দিকে চালিয়াতলী স্টেশনের এসে নামে।

মেয়েটির দাবি, ভাড়া নিয়ে তার সাথে কথা কাটাকাটি এক পর্যায়ে সেখানে জড়ো হন আমির সালাম, এনিয়া ও সিএনজি চালক আদালত খাঁ (পরে চিহ্নিত)। ভাড়ার সমস্যা মিটে গেলে অন্যান্য লোকজন চলে যায়। কিন্তু সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে ওই তিনজন মিলে মেয়েটিকে চালিয়াতলী বালুর ডেইল পাহাড়ি ঝিরি দিয়ে নিয়ে যায়। ততক্ষণে সন্ধ্যা হয়ে যায়।

সিএনজি চালক ওসমানসহ আরো ১১জন যোগ দেয়। পরদিন ৮ জুলাই ভোরের শেষ মুহুর্তে মাতারবাড়ি-চালিয়াতলী সড়কের দরগাহঘোনা স্থানে মেয়েটিকে দেখতে পান স্থানীয় সুজন নামে এক মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী। তখন মেয়েটি ছিলো অনেকটা ভীত-সন্ত্রস্ত এবং পোশাক ছিলো অস্বাভাবিক। এই অবস্থায় মেয়েটিকে দেখতে পেয়ে তার কারণ জানতে চান মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী সুজন।

মেয়েটি তাকে জানান, পাহাড়ে আটকে রেখে ১৪জন মিলে তাকে রাতভর ধর্ষণ করেছে। ধর্ষণের পর তার বোরকা, হাতব্যাগ, ঘড়ি কেড়ে নেয় ধর্ষকেরা। অভিযোগ উঠেছে, রশিদের মাধ্যমে ম্যানেজ হয়ে মেম্বার লিয়াকত আলী ও মহিলার মেম্বার শামীমা ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করছে।

ঘটনা মীমাংসার জন্য শালিসের ব্যবস্থা করে দুই মেম্বার। দুই দফা শালিস বসান এবং মেয়েটিকে ‘জিম্মা’য় নেয় শামীমা। সর্বশেষ গত ১০ জুলাই বিকালে ‘চূড়ান্ত’ শালিসের বৈঠক মেম্বার লিয়াকত আলীর অফিসে। এসময় গনধর্ষণের শালিসের রায়ে কয়েকজন ধর্ষণকারীকে লাঠিপেটা ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে, সাধারণ মানুষের চাপের মুখে ভয়ে রয়েছে ঘটনার ধামাচাপার চেষ্টাকারীরা। তারা ঘটনাটি পুরোদমে মিটিয়ে ফেলতে নানাভাবে চেষ্টা-তদবির অব্যাহত রেখেছে। এর অংশ হিসেবে ধর্ষিতাকে মাতারবাড়ির মহিলা মেম্বার শামীমার বাড়িতে ‘হেফাজত’র নামে আটকে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাই চাপে ও ভয়ে আইনী আশ্রয় নিতে পারছে না ধর্ষিতার পরিবার।

ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর মেয়েটি মাতারবাড়ির মহিলা মেম্বার শামীমার কাছে গিয়ে আশ্রয় নেয়। শামীমাকে মা ডেকে বিষয়টি তাকে জানান। পরে মেম্বার শামীমা মেয়েটিকে নিয়ে চালিয়াতলীর মেম্বার লিয়াকত আলীর কাছে যান। তখন লিয়াকত আলী টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি মীমাংস‍ার প্রস্তাব দিলে তা মেনে নেন মেম্বার শামীমা। তবে টাকার অংক নিয়ে তাদের মধ্যে বনিবনা হয়নি।

জানতে চাইলে চালিয়াতলী এলাকার মেম্বার লিয়াকত আলী বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনাটি সত্য। এটি একটি ন্যাক্কাজনক ঘটনা। কিছু সিএনজি চালকসহ কয়েকজন নষ্ট ছেলে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এই ঘটনার মুলহোতা মাতারবাড়ী সিএনজি লাইনম্যান রশিদ।

সামাজিক আবহমান ঘটনা বিশ্লেষকগণ বলছেন, দেশে এখন কেউ নিরাপদ নয়। দেশে ধর্ষণ, হত্যা বিশেষ করে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে সমগ্র জাতি উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে ধর্ষণ-হত্যা জাতীয় সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। দেশে ধর্ষণ-খুন যেন মহামারি আকার ধারণ করেছে। শুধু তাই নয় ধর্ষণ-যৌন নিপীড়ন ও উত্ত্যক্তের ঘটনার প্রতিবাদ করায় হামলারও শিকার হতে হচ্ছে।

তারা আরো বলেছেন, সমাজে খুন-ধর্ষণ ও নিপীড়ন বেড়ে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে এবং এতে তারা সাহসী হয়ে দ্বিগুণ উৎসাহে বেপরোয়া অপরাধ করছে। আমরা মনে করি, এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থাকে বাদ দিয়ে ইসলামি সমাজ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ইসলামি বিধান মোতাবেক পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং অপরাধীকে যথাযথ সাজা দেয়ার বিকল্প নেই।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন