নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক লীগের নামে টোকেন দিয়ে চাঁদাবাজি!

0
251

প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি এটা এখন আর কোন অপরাধই মনে করা হয় না। ব্যস্ততম রাস্তার প্রায় প্রতিটিতেই গাড়ি থামিয়ে চলতে থাকে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি।

জাগো নিউজ২৪ অনলাইন নিউজ পোর্টালের বরাতে জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলায় মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় চলছে যানবাহন থেকে রশিদ দিয়ে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়। টোকেন দিয়ে এ চাঁদা আদায় করছে স্থানীয় একটি চক্র। প্রতিটি সিএনজি থেকে ১০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের যানবাহন থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছে চক্রটি।

যানবাহনের চালকরা জানান, চাঁদার রশিদ ধরিয়ে দেয়া হয় গাড়ি থামিয়ে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর করে গাড়ি আটকে রাখাসহ নানা হয়রানি করা হয়। অনেক সময় গাড়ি ভাঙচুর ও চাকার হাওয়া ছেড়ে দেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিএনজিচালক বলেন, রশিদের মাধ্যমে প্রতিদিন দুবার করে আমাদের কাছ থেকে একটি সংগঠনের নাম ব্যবহার চাঁদা আদায় করা হয়। আমাদের কল্যাণে এ টাকা ব্যয় করার কথা থাকলেও কোথায় যায় এ টাকা আমরা জানি না। যারা রাস্তায় চাঁদাবাজি করে তারা পুলিশকে টাকা দিয়ে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছে।

তিনি আরও বলেন, সোনারগাঁয়ে তিন থেকে চারটি লাইন রয়েছে। সেখানে প্রায় সহশ্রাধিক সিএনজি চলাচল করে। এ লাইনগুলো থেকে ১০-১২ জন লোক টাকা উত্তোলন করে। ২০ টাকা করে হলেও প্রতি মাসে ৬ লক্ষাধিক টাকা চাঁদাবাজি করা হয় মোগরাপাড়া চৌরাস্তায়।

চাঁদা উত্তোলনের একটি রশিদে দেখা যায়, বাংলাদেশ অটোরিকশা শ্রমিক লীগ (অটোরিকশা ও অটো টেম্পু চালকদের সমন্বয়ে গঠিত)। এই নাম ব্যবহার করে চাঁদা তোলা হয়। এখানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও আদায়কারীর স্বাক্ষরের স্থান থাকলেও কারও স্বাক্ষর নেই। নেই কারও নাম-ঠিকানা।

তবে চাঁদা আদায়ের বিবরণে লেখা রয়েছে, শ্রমিক কল্যাণ তহবিল দুই টাকা, আঞ্চলিক কমিটি পরিচালনা খরচ তিন টাকা, আদায়কারী তিন টাকা, যানজট নিরসনের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকের বেতন দুই টাকা ইত্যাদি। মোট ১০ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। তবে পরিবহন শ্রমিকরা দাবি করেছেন ১০ টাকার বদলে ২০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন