ঢাকার বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে মা নিহত!

0
192

ছেলেধরা গুজবে ঢাকার বাড্ডায় গত শনিবার সকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন তাসলিমা বেগম রেনু। তার শিশু কন্যা তুবার কান্না থামছেই না।

কাঁদছে চার বছরের শিশু তুবা। কিন্তু তার চোখের পানি মুছিয়ে দেয়ার কেউ নেই। সে জানে না তার মা আর ফিরে আসবে না। সে জানে না খোদ রাজধানীতেই কয়েকজন বিবেকহীন মানুষের গুজবের বলি হয়েছেন তার মা।

মা আসার অপেক্ষায় রয়েছে তুবা। তার মাকে কি এনে দিতে পারবে সমাজ? ছোট্ট তুবা বলছে- মা নিচে গেছে জামা আনতে, এখনো আসছে না কেন?

কিন্তু সে জানে না যে, তার মা আর কোনো দিন ফিরে আসবে না। মায়ের আসার দেরি দেখে ক্ষণে ক্ষণে কেঁদে উঠছে ছোট্ট ওই শিশুটি। কিন্তু তার চোখের জল মুছিয়ে দেবে কে?

শনিবার সকালে ঢাকার উত্তর পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাসলিমা বেগম রেনুকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মেয়েকে ভর্তির জন্য ওই স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়ে কথাবার্তায় সন্দেহ হলে মুহুর্তের মধ্যে লোকজন জড়ো হয়ে পিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়।

রোববার রাত ৮টার দিকে উপজেলার উত্তর সোনাপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তার লাশ দাফন করা হয়।

রোববার সন্ধ্যায় রেনুর লাশ বাড়িতে আনা হলে বৃদ্ধা মা ছবুরা খাতুনসহ স্বজনদের মাতম আর আহাজারিতে আকাশ-বাতাশ ভারি হয়ে উঠে। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

নিহতের ভগ্নিপতি বদিউজ্জামান বলেন, অভিভাবকরা সন্তান ভর্তি করার জন্য স্কুলে যাবেন, এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে গুজব ছড়িয়ে একজন নারীকে এভাবে প্রকাশ্যে হত্যা করতে হবে। এ সভ্য(!) সমাজে এটা মেনে নেয়া যায় না।

বর্তমানে ছেলে ধরা গুজব’ এমন একটি কথায় স্থানীয় জনমনে রীতিমত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এর ডালপালাও বিশাল আকার ধারণ করেছে। কিছুদিন ধরে দেশে ছেলে ধরা সন্দেহের বশে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার প্রবণতা বেড়েছে। এ সন্দেহের জেরে অনেক নির্দোষ ব্যক্তিই এ ঘটনার শিকার হচ্ছেন। গণপিটুনিতে অনেকে হারিয়েছেন পরিবারের সদস্যকে
সি বয়েস টুয়েন্টি ফোরের সূত্রে জানা যায়, কেরানীগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ, গাজীপুর, নেত্রকোনা, পটুয়াখালীত, বরিশাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, বাড্ডা, বান্দরবান এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ছেলে ধরা সন্দেহে গত ১৫ দিনে গণপিটুনিতে প্রায় ১২ জন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৭০ জন।
প্রসঙ্গত, ছেলে ধরা সন্দেহে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ছিপাতলী ইউনিয়নে গত ১৬ জুলাই তিন ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। তারা হলেন- কক্সবাজার জেলার লোহাগড়া থানার আব্দুল মালেক (৬০), নুর কবির (২৮) ও নুর ইসলাম (৬০)। এরপর চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া এলাকায়ও গত ২২ জুলাই ছেলেধরা সন্দেহে তিনজনকে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয়রা।

হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই সতর্কবাণী হয়তো আমাদের এই সময়ের জন্যই।
হযরত আবু হুরায়রা রাযি: থেকে বর্ণিত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ঐ সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ মানুষের নিকট এমন এক সময় আসবে। যখন হত্যাকারী জানবে না কোন অপরাধে সে হত্যা করছে, আর নিহত ব্যক্তি জানবে না কোন অপরাধে সে নিহত হয়েছে।
(সহীহ মুসলিম-৬৯৪৯)

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন