এবার ঘুষের ৮০ লাখ টাকাসহ আটক ডিআইজি পার্থ গোপাল !

0
186

ডিআইজি মিজানের ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিআইজি (প্রিজন) পার্থ গোপাল বণিককে ঘুষের ৮০ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবহেলায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা ডিআইজি প্রিজনস পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গত রবিবার (২৮ জুলাই) বিকালে রাজধানীর ধানমন্ডির নর্থ রোডের (ভুতের গলি) ২৭-২৮/১ নম্বর বাসার বি/৬ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে ঘুষের ৮০ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার করা হয় পার্থকে। তার বর্তমান কর্মস্থল সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার।
রবিবার সকালে সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুপুরে তাকে নিয়ে ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে আয় করা টাকা উদ্ধারে অভিযানে বের হয় দুদক টিম। ধানমন্ডির নর্থ রোডের (ভুতের গলি) ২৭-২৮/১ নম্বর বাসার বি/৬ নম্বর ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। পার্থ আর তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরাও বসবাস করে সেখানে। দুদক পার্থর ব্যবহার করা একটি প্রাইভেট কারও জব্দ করে।
গত বছরের ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার সোহেল রানা বিশ্বাসকে ময়মনসিংহগমী ট্রেন থেকে ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, আড়াই কোটি টাকার এফডিআর, ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার ব্যাংকের চেক ও ১২ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার করে রেলওয়ে পুলিশ। চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথে গ্রেফতার হয় । পরে সোহেল রানার বিষয়ে অনুসন্ধানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার দুর্নীতি নিয়ে নানা তথ্য পায়।
পরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তাদের সম্পদের হিসাব বিবরণীও চাওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে পার্থ গোপালও সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দিয়েছে। পরে গত রবিবার ঘুষের ৮০ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার করা হয় পার্থকে।
এই গোপাল নামক রাঘব বোয়ালরাই কারাগারে অসহায় অনেক নিরপরাধ কয়েদীদের জীবন দুর্বিষহ করে রাখে। কারাগারে এদের ঠাটবাট দেখলে মনে হয় যেন এরা জমিদার। মানুষকে যেন মানুষই মনে হয় না। এই কারাকর্মকর্তা নামক গোপালদের, একটুখানি শোয়ার জায়গার জন্য হাজার হাজার টাকা দিতে হয়। একটুখানি ডালভাতের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে হয় তাঁদের পিছনে। কারাগারে প্রথম আসা মানুষগুলো নিরুপায় হয়ে তাঁদের ফাঁদে পড়ে। অনেকে তাঁদের উদর পূর্ণ করতে করতে জমি জমা সব বিক্রি করে দেয়।কারাগারে এমন কোন ক্ষেত্র নাই যেখানে দূর্নীতি নাই। এমনি সাক্ষাৎ কক্ষেও টাকা না দিলে আসামীদের আত্মীয়দের সাথেও ভালভাবে দেখা সাক্ষাৎ ও কথা বলতে দেওয়া হয় না। ইন্টাররুম বা অফিস কলে নামে হাতিয়ে নেয় হাজার হাজার টাকা। আজ এই পার্থ গোপালদের এত শান শওকত ,বাড়িগাড়ি সবই গড়ে উঠেছে হাজারো মাজলুমের রক্ত শোষণ করে।

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন