রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়ে লাশ হতে হয়েছে হাজারো ইয়েমেনী শিশুকে, আশ্রয়ের খুঁজে হিজরত করছেন আল-কায়দা নিয়ন্ত্রিত এলাকায়!

0
496

ইয়েমেনে চলমান রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে গত এক বছরে প্রাণ হারিয়েছেন ১১১৭ এরও অধিক ইয়েমেনী শিশু। এছাড়াও চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় খাদ্য অভাবেও মারা যায় কয়েক হাজার। আল-জাজিরার প্রকাশিত এক রিপোর্ট হতে জানা যায় এ তথ্য।
নিহত শিশুদের মধ্যে ৭২৯ শিশুই মারা যায় সন্ত্রাসী সৌদী বাহিনীর হামলায়। অন্যদিকে শিয়া হুতী সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় নিহত হয় ৩৯৮ ইয়েমেনে শিশু।নিহত এই শিশুদের মধ্যহতে ৬৮৪ শিশুই মারা যায় বিমান হামলায়।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় বা আন্তর্জাতিক কোন সহায়তা ছাড়াই ইয়েমেনের সাধারণ জনগণ সবচাইতে ভালো অবস্থানে আছেন আল-কায়দা শাখা আনসারুশ শরিয়াহ এর নিয়ন্ত্রিত এলাকায়। গত এক বছরে তাদের হামলায় কোন শিশু নিহত হবার রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। অথচ দেশটির আবয়ান, বায়দা, হাজরামাউত, মাকাল্লা, শাহাবওয়াহ, মারিব ও দিয়ালী প্রদেশের বিশাল অংশের উপর নিয়ন্ত্রণ করে আসছে আল-কায়দার এই শাখাটি এবং অঞ্চলগুলোতে প্রতিনিয়ত হুতি, হাদী, সৌদি জোট ও আইএসের মত দলগুলোর বিরুদ্ধে তারা খুবই দক্ষতার সাথে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমানে ইয়েমেনের সাধারণ জনগণ আল-কায়দার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বসবাসের জন্য হিজরত করছেন। খোদ রাজধানী সান’আ থেকেও অনেকে আল-কায়েদার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হিজরত করে যাবার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। মুজাহিদগণের এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের বসবাসের জন্য হিজরত করে চলে যাওয়াটা এখন পশ্চিমাপন্থী দেশগুলোর জন্য বড় এক চিন্তার কারণ!
আল-কায়েদার মুজাহিদগণ তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিভিন্ন মানবসেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। গরীবদের মাঝে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী ও বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ করা, সাধারণ মানুষের জন্য বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ এবং রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করাসহ সাধ্যমত অন্যান্য সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন তারা। এর জন্য তারা আলাদা আলাদা বিভাগও গঠন করেছেন।
বর্তমানে যখন কথিত উন্নত রাষ্ট্রের সহযোগিতা ব্যতীত চলা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হয়, তখন এ ধরণের কোনো রাষ্ট্রীয় সাহায্য ব্যতীতই আল্লাহর অনুগ্রহে সুশৃঙ্খলভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন মুজাহিদগণ। পাশাপাশি, জনসেবামূলক কাজেও সচেষ্ট রয়েছেন তারা। দুর্নীতি নেই, অপব্যবহার নেই, নেই কোন অপচয়, বরং প্রতিটা কাজ খুবই হিসাবের সাথে করে থাকেন আল্লাহ ভীরু এই মুজাহিদ জামাআত। আর, এরই প্রতিফলন ঘটে সুশৃঙ্খল ইসলামী রাজ্যে, আলহামদুলিল্লাহ।
আনসারুশ শরীয়ার মুজাহিদগণ কেমন ‘হিসাবী’ তা জানতে সহায়ক হবে একটি ঘটনা! ২০১৫ সালে ইয়েমেনের হাজরামাউত প্রদেশে আল-কায়েদার নিয়ন্ত্রিত একটি ঘাঁটি দখল করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে আল-কায়দা শাখা আনসারুশ শরীয়ার একটি খরচের নোট বই পায় মার্কিন বাহিনী। বইটিতে দেখা যায়, আল-কায়েদার যোদ্ধাদের একটি কেক ও এক কাপ চা এর খরচের বিষয়টিও লিখে রেখেছেন তারা!
এছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে আল-কায়দা নিয়ন্ত্রিত ইসলামী রাষ্ট্রের শ্রম খরচটা সাধারণ মানুষই বাঁচিয়ে দিচ্ছেন! তারা কোন বিনিময় ছাড়াই সম্মিলিতভাবে অনেক সময় বড় বড় কাজগুলো করে দিচ্ছেন। এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে আল-কায়দা নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের বুকে জেগে উঠা একটি ইসলামী রাষ্ট্র।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন