ভারতে তিন তালাক বিল পাশ হওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন মুসলিম নারীরা!

0
432

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সংসদে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল মুসলিমদের তিন তালাক বিল! যা উপস্থাপন করে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ক্ষমতাসীন দল বিজেপি, আর এই বিলটি পাশ হয় ৩১ জুলাই, বিলটি পাশ হওয়ার পরেই সারা ভারত জুড়ে মুসলিমরা প্রতিবাদ জানায়, তিন তালাক বিল পাস হওয়ার প্রতিবাদে নাগপুর, কাশ্মীর ও পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের অধিকাংশ স্থানেই হাজার হাজার মুসলিম নারীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা জানান, সরকার মুসলিম নারীদের থেকে কোন মতামত না নিয়েই তিন তালাক বিল পাশ করে।

কিন্তু উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার দাবী করে যে, এটা মুসলিম নারীদের নিরাপত্তা ও অধিকার আদায়ের জন্য তাদের মতামত নিয়েই করা হয়েছে।

এদিকে তিন তালাক বিলকে ইসলামী শরিয়তের ওপর হস্তক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের প্রিন্সিপাল মুফতি আবুল কাসেম নোমানী। পাশাপাশি বিলটিতে সম্মতি দেয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে ইসলামী নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলতে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিরোধীদের সব মতামত উপেক্ষা করে ভারতের রাজ্যসভায় মঙ্গলবার বিতর্কিত তিন তালাক বিল পাস করেছে মোদি সরকার। এর প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমে প্রেরিত বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দারুল উলুম দেওবন্দ। এ বিলের ওপর প্রশ্ন রেখে দেওবন্দের প্রিন্সিপাল বলেন, মোদি সরকার তিন তালাক বিল পাস করে মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের অধিকার হরণ করেছে।
তিনি বলেন, তিন তালাক বিল শরিয়তের ওপর মোদি সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ।

অন্যদিকে বিজিপি সরকার মুসলিম নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তার বুলি আওড়াচ্ছে!
সত্যিই কি মুসলিম নারীদের নিরাপত্তা বা অধিকার আদায়ের জন্য এই বিল পাস করা হয়েছে নাকি মুসলিমদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিষয়গুলোতেও হস্তক্ষেপ করছে এই হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার!?

ভারত বহু জাতি-ধর্ম-বর্ণের দেশ। যে দেশে 6743 টি জাতি। 1700 রকমের ভাষা ও 200 এর মত জাতির পারিবারিক ও সামাজিক আইন রয়েছে। কিন্তু ভারত সরকার কারোরই সামাজিক ও ব্যক্তিগত আইনের উপর হস্তক্ষেপ করেনি, তাহলে কেন শুধু মুসলিমদের ক্ষেত্রেই তাদের এমন আচরণ!?

তাহলে এবার দেখে নেয়া যাক ভারতে নারী অধিকার বা তাদের নিরাপত্তা উপর চালানো একটি জরিপ, আশা করি এর থেকে আপনারা অনেক কিছুই বুঝতে পারবেন এবং তাদের মূল উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য কী তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

১) ভারতে 20 লক্ষ এরও অধিক এমন হিন্দু মহিলা রয়েছে, যার তাদের স্বামীদের থেকে অধিকার বলতে কোন কিছুই পায়নি, এদের মধ্যে মোদির স্ত্রীও শামিল, যে নাকি মোদির বিরুদ্ধে আদলতে মামলাও করেছিল।

২) ২০১৭ সালের এক রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে বছরে 38000 জন নারী ধর্ষিত হচ্ছেন। অথচ এদের নিয়ে মাথা ব্যাথা নাই, বরং BJP সংসদ কিরন খের বলেছে ধর্ষণ নাকি ভারতের সংষ্কৃতি।

৩) NGO সার্ভে অনুযায়ী ভারতে 42% নারী শিশু পতিতালয়ে জোর করে কাজে লাগানো হয়েছে।
তাদের জীবন নরকে পরিণত হয়েছে। এদের নিয়েও কোন মাথা ব্যাথা নাই কারণ সেখানে তো তারাও যায়।

৪) প্রতিবছর ভারতবর্ষে 5000 বেশি নারী হত্যা করা হয় শুধু পর্ণগ্রাফির কারণে, আজ পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে তেমন কেন ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি ভারত সরকারকে।

৫) টাইমস অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী 85% নারী নির্যাতন হয় মদের কারণে। অথচ এই মদ বন্ধের কোন কথাই উঠেনা। কারণ মদ তো তারাও খায়।

৬) 2017 সালে গো-হত্যার নামে ৯৫ জনেরও বেশি মুসলিম নারীদের বিধবা বানিয়েছে উগ্র হিন্দু সন্ত্রাসীরা। তখন মুসলিম নারীদের অধিকার কথা ভুলে যায় ভারত সরকার।

৭) ভারতে শুধু মাত্র দাঙ্গায় 2 লক্ষ এরও বেশি মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছে গত 70 বছরে। তার মানে 2 লক্ষ মুসলিম নারিকে বিধবা বানিয়েছে।এগুলোও ভারত সরকারের নিকট কোনো সমস্যা নয়।

৮) উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর দ্বারা শুধু মাত্র কাশ্মীরেই ধর্ষিত হয়েছেন 10000 হাজারের বেশি মুসলিম নারী। তাদের অধিকার দেবে কে। তখন তো মুসলিম নারীদের অধিকার বা নিরাপত্তার কথা বলা হচ্ছে না! তারা কি মুসলিম নারী নয়?

৯) সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে এক বিজিপি মন্ত্রী মুসলিম নারীদের কবর থেকে তুলে ধর্ষণের আদেশ করে উগ্র হিন্দুদের, অত:পর তাকেই আবার CM বানালো। অন্য আরেক বিজিপি নেত্রী বলেছিল ভারতের যেখানে পাও সেখানেই প্রকাশ্যে ধর্ষণ কর মুসলিম নারীদের। আবার এখন তারাই নাকি মুসলিম নারীদের অধিকার দিবে!

১০) ভারতবর্ষে প্রতিদিন 7000 হাজার মানুষের মৃত্যু হয় শুধু খাদ্যের অভাবে এটা কোনো সমস্যা নয়। এই মানুষগুলোর অধিকারের প্রয়োজন নেই!

১১) প্রতিদিন 19 কোটি ভারতীয় মাত্র একবেলা খাবার ঠিকমত খেতে পায়না তবুও এটা কোনো সমস্যা নয়।

১২) ভারতের এখন প্রধান সমস্যা তিন তালাক। অথচ ২০১৭ সালে যখন তিন তালিক বিল আনা হয়, তখন তারা পুরো বছরজুড়ে মুসলিমদের মধ্যে তালাকের ঘটনা উপস্থাপন করতে পেরেছে মাত্র ১৭টি। অন্যদিকে ভারতে পরকীয়াসহ বিভিন্ন কারণে হিন্দু পরিবারগুলোতে প্রতিদিন বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে ২০০-৩০০টি। যেখানে পরকীয়ার কারণে প্রতিদিন শত শত পরিবারের মাঝে সমস্যা হচ্ছে সেটা কোন সমস্যা না বরং সেটা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, আর সমস্যা পুরো বছরজুড়ে ১৭টি তালাকের মামলা!

আর এই ১৭টি তালাকের জন্য সমস্ত মিডিয়া থেকে শুরু করে সকল এমপি, মন্ত্রি এবং মোদি সরকার সবাই উন্মাদ।

 

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন