পুরো বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন কাশ্মীর, কী হচ্ছে ভূস্বর্গ খ্যাত এই অঞ্চলটিতে !

0
775

গত রবিবার রাত থেকেই ভূস্বর্গ খ্যাত কাশ্মীর উপত্যকায় মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ বিছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। দিনের আলো ফুটতে না ফুটতে বন্ধ মোবাইলও। কিছুক্ষণ পরেই জানা গেল নেতৃস্থানীয় সকল নেতাদেরকেই গৃহবন্দী করা হয়েছে। পুরো উপত্যকা জুড়ে জারি কারা হয়েছে কারফিউ। কাশ্মীরের বাইরে থাকা স্বজনেরা উদ্বেগে। কাশ্মীরে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদেরই বা উদ্বেগ কম কী! কাশ্মীর থেকে জম্মু— মুশরিক সন্ত্রাসী বাহিনী সেখানে জারি করেছে ১৪৪ ধারা।

এরপর সোমবার বেলা ১১টার পরে পুরো দেশ জেনে গিয়েছে, রাজ্য থেকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে মুসলিম জনবসতি ভূস্বর্গ জম্মু ও কাশ্মীর, তার দেহেরই অপর একটি বড় অংশ “লাদাখ”কে আলাদা করা হচ্ছে । ভারতীয় কুফুরী সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ রদ হওয়ার পরে যে কোনও ভারতীয় জমি কিনে বাড়ি, কারখানা বা হোটেল করতে পারবে কাশ্মীরে। ভারতীয় ক্ষমতাসীন উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপির সদস্যরা রাজ্যসভায় গলা উঁচিয়ে বলছে, কাশ্মীরকে এত দিনে সত্যি সত্যি ‘হিন্দুস্তান’-এর অন্তর্ভুক্ত করা হল, এখন সেখানে চলবে ‘রামরাজত্ব’!

এ অবস্থায় কেমন আছেন কাশ্মীরের মুসলিমরা, আজ দুদিন যাবত তার কোনও খবরই পাওয়া যাচ্ছে না,  কারণ তো সবারই জানা, সেখান থেকে সকল ধরণের যোগাযোগই বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। কাল থেকে অনেকবারই নতুন কোন সংবাদ পাওয়ার আসায় কাশ্মীর থেকে পরিচালিত বিভিন্ন নিউজ চ্যানেল ও সাইটে ঢুকছি, কিন্তু কোন নিউজ নেই, অর্থাৎ এটা স্পষ্ট যে সেখানে এখন সকল ধরণের যোগাযোগই বিচ্ছিন্ন।

পুরো ভূস্বর্গ ‍জুড়ে যখন এই অবস্থা তখন ভূস্বর্গের বাহিরে থেকে মানুষের উপরেও আসে নতুন নিষেধাজ্ঞা।
এখন থেকে পরবর্তী নির্দেশ আসা পর্যন্ত জম্মু ও কাশ্মীর সার্কেলের জন্য কোনও ধরনের ‘মেইল’ বুক করা যাবে না। বাহির থেকে জম্মু ও কাশ্মীরে কোন চিঠিও পাঠানো যাবে না। শুধু চিঠিই নয়, কোন পার্সেলও পাঠানো বা কেউ ভিতরে নিতে পারবে না! বেসরকারি ক্যুরিয়ার সার্ভিসও আপাতত জম্মু ও কাশ্মীরে তাদের পরিষেবা বন্ধ রেখেছে।

কাশ্মীরের দুই মুখ্যমন্ত্রী টুইট করে বলেন-
“কেন্দ্রের একতরফা সিদ্ধান্তে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ কার্যত বিলোপের ফলে ভারত এখন জম্মু ও কাশ্মীরে দখলদারি শক্তিতে পরিণত হল।” —মেহবুবা মুফতি
***
“ভারত সরকারের এই একতরফা সিদ্ধান্তে ১৯৪৭-এ ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে চাওয়া জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হল।” —ওমর আবদুল্লা
এতক্ষণ যা বললাম এ সবই রবিবার রাতের সংবাদ। সোমবার কাশ্মীর ছিল বিচ্ছিন্ন পুরো বিশ্ব থেকে।

‘‘বর্তমানে ভূস্বর্গ কাশ্মীর একেবারেই নিরবতার চাদরে ঢেকে গেছে, পুরো উপত্যকাতেই বিরাজ করছে স্তব্ধতা। পাখিদের কিচিরমিচির ও পাহাড়ি ঝর্ণার পানির আওয়াজ ব্যতীত পুরো এলাকাই নীরব। এদিকে মেঘাচ্ছন্ন কাশ্মীরের আঁকাশ, হালকা হালকা বৃষ্টির ফোটাও পড়ছে, বৃষ্টি ভেজা রাস্তা-ঘাট। কোথাও মানুষের আনাগোনা নেই। যেন জীবন্ত এক কবরস্থান।

তবে কিছুক্ষণ পর পরই পথ ও বাড়ির আশপাশে দেখা মিলছে মানবরূপী দখলদার উগ্র হিন্দুত্ববাদী হায়েনাদের, যারা ভারী যুদ্ধাস্ত্র তাক করে দাঁড়িয়ে আছে শিকারী ধরার লক্ষ্যে, অর্থাৎ কোন মুসলিমকে বাহিরে দেখা যায় কিনা।
রাস্তায় দখলদার ভারতীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর গাড়ি ছাড়াও মাঝে মাঝে হুটার বাজিয়ে ছুটে চলা দু একটা অ্যাম্বুল্যান্সের আওয়াজও শুনা যাচ্ছে। কিন্তু এই অ্যাম্বুল্যান্সগুলো এখান থেকে কাদেরকে নিয়ে যাচ্ছে! কারাই বা শিকার হচ্ছেন হায়েনাদের! তা অজানা ।’’

বলছিলাম আযাদ কাশ্মীর সীমান্তে অবস্থানরত মুসলিমদের থেকে পাওয়া কিছু সংবাদের কথা। তাদের মতে রাস্তা-ঘাট একেবারেই ফাঁকা, দখলদার ভারতীয় হায়েনারা ব্যতীত মানুষের চলাচল বলতেই নেই। সীমান্তের ওপার হতে মাঝে মাঝেই কিছু গুলি ছুড়ার শব্দ শুনা যাচ্ছে, কোথাও থেকে আবার উড়ে আসছে ধোঁয়া। এর পরপরই হুটার বাজিয়ে ছুটতে দেখা যায় কিছু অ্যাম্বুল্যান্সকে, হয়তো হতাহত কোন কাশ্মীরীর মৃত বা আহত দেহকে সরানো হচ্ছে নয়তো গুম করা হচ্ছে প্রতিবাদী কাশ্মীরীদেরকে। তবে এই নিরবতার মধ্য দিয়েই কিছু করা হচ্ছে কাশ্মীরে, এমনই মন্তব্য অনেকের।

এত কিছুর পরেও পুরো বিশ্ব নিশ্চুপ, যেন কেউ কিছুই জানেনা, এখানে কিছুই হচ্ছে না! সব কিছুই ঠিক আছে।
কুফ্ফার বিশ্বের এই নিরবতার একটাই কারণ, কাশ্মীরীরা মুসলিম, তারা চায় ইসলাম।
আর কাফেররা “আল-কুফরু মিল্লাতুন ওয়াহিদাহ” এর বাস্তব রূপ নিয়েই মুসলিমদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে।

পরিশেষে বলবো, হে গাজওয়ায় হিন্দের পবিত্র ভূমিতে নির্লিপ্তে ঘুমিয়ে থাকা অসচেতন উম্মাহ, হে ঘুমন্ত শার্দূল, হে মোহাম্মদ বিন কাসেম আর গজনভীর উত্তরসুরীরা! তোমরা এবার গর্জে উঠো। তোমরা জেগে উঠলেই জুলুমের আধার কেটে আবারো নতুন প্রভাতে দেখা মিলবে বিজয়ের পতাকার, বিজয়ের হাসি হাসবে এই উম্মাহ। ইনশাআল্লাহ।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন