ক্রোধান্বিত কাশ্মীরী মুসলিমরা, ইট-পাটকেলের বিপরীতে চলছে গুলি!

0
1181

ভারতের কুফুরী সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল হওয়ার একদিন আগ থেকেই কাশ্মীর কার্যত বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ-মিছিল করছেন সাধারণ কাশ্মীরীরা। কাশ্মীরীদের ছোঁড়া ইট-পাটকেলের বিপরীতে দখলদার ভারতীয় সন্ত্রাসীদের দিক থেকে আসছে গুলি!

ভারতের কুফুরী সংবিধানের যে ৩৭০ অনুচ্ছেদের কারণে নামে মাত্র বিগত ৭০ বছর কাশ্মীরী মুসলিমদেরকে কিছু সুযোগ দিত তা বিলোপের একদিন আগে অর্থাৎ রোববার সন্ধ্যা থেকেই রাজ্যের টেলিফোন, মোবাইল এবং ইন্টারনেটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। যার কারণে ভিতর থেকে কোন সংবাদই বাহিরে আসছেনা।

এদিকে বিবিসি উর্দু তাদের এক সাংবাদিক আমীর পীরজাদার (যে বর্তমানে কাশ্মীরে অবস্থান করছে) বরাতে জানায় যে, বর্তমানে পুরো কাশ্মীর ক্রোধে ফেঁটে পড়েছে।
“শ্রীনগর এবং কাশ্মীরের উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ এবং দখলদার ভারতীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে জনসাধারণের পাথর ছোঁড়ার ঘটনা ঘটছে, যার বিপরীতে ভারতীয় সন্ত্রাসী বাহিনী টিয়ারশেল ও গুলি ছুঁড়ছে সাধারণ জনতার দিকে ।

রাস্তায় সর্বত্র হাজার হাজার সেনা, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী সন্ত্রাসী বাহিনী টহল দিচ্ছে। সকল রাস্তা বন্ধ। কাশ্মীরের ১০ জেলার সবকটিতেই জারি করা হয়েছে কারফিউ, অন্যদিকে জম্মুর ১২টি জেলার ৬টিতেই জারি করা হয়েছে কারফিউ। যেখানে কারফিউ জারি নেই সেখানে চলছে ১৪৪ ধারার আইন। মোটকথা কাউকে ঘর থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। দখলদার ভারতীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সামরিকযান থেকে লাগাতার ঘোষণা করা হচ্ছে যে, শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে, যেখানেই দুজনের বেশি লোক দেখা যাবে সেখানেই তাদের উপর হামলা চালানো হবে। এভাবে ঘোষাণার মাধ্যমে আতংকিত করে রাখা হয়েছে কাশ্মীরীদেরকে।

কাশ্মীরে ল্যান্ড ফোন, মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট ব্লক করে দেয়া হয়েছে। এখন কাশ্মীরে একজনের সাথে আরেকজনের যোগাযোগ করার কোন উপায়ই নেই এবং কাউকে এক শহর থেকে অন্য শহরেও যেতে দেওয়া হচ্ছে না। কেউ যেতে চাইলেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে এক ধরণের অত্যাচার করা হচ্ছে।
পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে কে কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে – সবকিছু চেক করছে। ”

কাশ্মীরে অবস্থানরত একজন সাংবাদিক জানান যে, ‘শ্রীনগর থেকে বারাহ-মোলা এলাকায় যাওয়ার পথে আমাকে ১২বার চেকিং ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, আমার পরিচয়, সাংবাদিকতার কার্ড সবকিছুই তারা চেক করে। এমনকি একটি চেকপোস্টে চেকিংয়ের সময় আমার মোবাইলটাও চেক করা হয়, তখন সংবাদের জন্য সংগ্রহ করা বেশ কিছু ফটো ও ডকুমেন্ট ওরা ডিলেট করে দেয়। অথচ শ্রীনগর থেকে বারাহ-মোলা মাত্র ১ঘন্টার পায়ে হাঁটার পথ, এর মাঝেই আমাকে ১২বার চেকিং ও জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হতে হয়।’ এর থেকেই বুঝা যাচ্ছে সেখানে কী পরিমাণ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

বিবিসি উর্দু থেকে জানা যায় যে, কাশ্মীরের কারো জন্যই অন্য জায়গায় কী হচ্ছে তা জানার কোন উপায় নেই। কারণ এক স্থানের লোকদের সাথে অন্য জায়গার কোন যোগাযোগ নেই। বিপুল পরিমাণ সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং তারা সবকিছু চেক করছে। শ্রীনগর এবং কাশ্মীরের উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ এবং পাথর ছোঁড়ার খবর পাওয়া গেছে। বিবিসির উক্ত সাংবাদিক মনে করেন, “তবে আগামী কয়েক দিনে হয়তো কী হচ্ছে তা আরেকটু ভালোভাবে জানা যাবে।” সবখানেই উত্তেজনা। লোকজন ক্ষুব্ধ। তারা এখনো বুঝতে চাইছে কী ঘটছে, কী ঘটতে যাচ্ছে, তাদের ভাগ্যে কী আছে।

সামনে ঈদ আসছে। মনে করা হচ্ছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারত সরকার তখন সাময়িকভাবে কারফিউ তুলে নেবে – যাতে লোকজন উৎসবের আগে কেনাকাটা করতে পারে। আমাদের দেখতে হবে, ঈদের সময় বাড়ির বাইরে এসে নামাজ পড়ার অনুমতি দেয় কিনা। আমরা এখনো তা জানি না।

তবে জল্পনা চলছে যে আগামী দিনগুলোতে সহিংসতা হয়তো বাড়তে পারে।কাশ্মীরের যোগাযোগ এমনভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যে সেখানকার অনেক লোকই এখনো ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের খবর জানেন না।

তবে যারা জানতে পেরেছেন তাদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া কী হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে বিবিসির সাংবাদিক আমীর পীরজাদা জানায়, তারা মঙ্গলবার সকালে কাশ্মীরের উত্তরাঞ্চলে বারামুল্লা জেলায় গিয়েছিল, স্থানীয়দের কাছে জানতে চেয়েছিলেন এ খবর তারা জানেন কিনা।
অধিকাংশ লোকই বলেছেন, তারা আরো খবরের অপেক্ষায় আছেন, কারণ সবার কথা তারা বিশ্বাস করেন না।

আমীর পীরজাদা বলছিল, তবে একজন লোকের সাথে তাদের কথা হয়, যার বয়স ৫০-এর কোঠায়। তিনি বলছিলেন, আগে তারা নিজেদের স্বাধীন ভাবতেন, কিন্তু এখন তার মনে হচ্ছে সেই স্বাধীনতা তারা হারিয়ে ফেলেছেন।
লোকটি বলছিলেন, তারা ভারতের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন, এবং তারা ভারতের গোলামে পরিণত হয়েছেন।

বিবিসির উক্ত সাংবাদিককে প্রশ্ন করা হয়, কাশ্মীরের নেতাদের গৃহবন্দী হবার কথা সাধারণ লোকেরা জানেন কিনা।
তখন উত্তরে বলা হয় সাংবাদিকরা ছাড়া কাশ্মীরের খুব কম লোকই এ কথা জানেন।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন