উত্তপ্ত কাশ্মীর, ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করেই বিক্ষোভে শামিল কাশ্মীরের সাধারণ মুসলিমগণ, গ্রেফতার ৪০০ এরও অধিক!

1
697

অনেক দেরীতে হলেও কাশ্মীর উপত্যকার ভিতরে কী হচ্ছে তার কিছু কিছু চিত্র এখন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়ে গিয়েছে কাশ্মীর উপত্যকায়, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে এখন অনেক খারাপের দিকে যাচ্ছে। বুধবার দেখা গেল দখলদার ভারতীয় সন্ত্রাসী হায়েনা বাহিনীর দেওয়া ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করেই শ্রীনগরের রাস্তায় প্রতিবাদ-বিক্ষোভে নেমে পড়েছেন সাধারণ কাশ্মীরী মুসলিমরা। সেই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শুরু হয় সংঘর্ষ। মালাউন হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় সন্ত্রাসী বাহিনী বিক্ষোভরত সাধারণ জনতার উপর চালানো শুরু করে অমানবিক হামলা, ভারতীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর গোলাগুলির শব্দে প্রকম্পিত হয় চারপাশ!

ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক মুসলিম শাহাদাত বরণ করার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ভারতীয় উগ্র সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় গুলিবিদ্ধ এবং আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন আরো অনেক মুসলিম। আনন্দবাজার পত্রিকা’র সূত্রে জানা যায়, দখলদার ভারতীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর দেওয়া এক তথ্য মতে তারা শ্রীনগর থেকে শতাধিক মুসলিমকে গ্রেফতার করেছে, কিন্তু বেসামরিক হিসাব মতে এই সংখ্যা চারশতেরও অনেক বেশি।

শ্রীনগরে উগ্র হিন্দু সন্ত্রাসীদের সাথে জনসাধারণের চলমান সংঘর্ষের সময় ভারতীয় সন্ত্রাসী পুলিশ ও সেনা বাহিনী মুসলিমদের উপর সরাসরি গুলিবর্ষণ করে। সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে যে, তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্তত ৬ জনের দেহে গুলির ক্ষত দেখতে পেয়েছে।

এটা তো ছিল শুধু উপত্যকার শ্রীনগর শহরের চিত্র। উপত্যকার বাকি অংশের অর্থাৎ আরো ২১টি জেলার চিত্রটা ঠিক কেমন তা এখনও স্পষ্ট নয়, কিন্তু সেখানে যে হামলা, গণহত্যা বা গণগ্রেফতার চলছেনা তা বলা যায় না। সেখান থেকে কাউকেই এখনো বের হতে দেওয়া হয়নি, তাই সত্যটাও জানা অনেক কষ্টকর হয়ে উঠছে।

এখনও উপত্যকাজুড়ে বন্ধ ল্যান্ডলাইন, মোবাইল, ইন্টারনেট, ব্রডব্যান্ড, কেবল পরিষেবাসহ সকল ধরণের যোগাযোগ ব্যবস্থা। সেগুলো চালু হলে এই প্রতিবাদ-বিক্ষোভ যে আরও বাড়বে, এমন আশঙ্কা আঁচ করতে পেরে আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে সকল ব্যবস্থা নিয়েছে সন্ত্রাসী মালাউন পুলিশ-প্রশাসন।

অন্যদিকে ‘‘শ্রীনগরে জিরো ব্রিজ থেকে বিমানবন্দর, সব জায়গায় কারফিউর নৃশংসতা চলছে। জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘর থেকে বের হতে পারছেন না মুসলিমরা। খাদ্য সংকটেরও প্রবল আশংকা রয়েছে।

এদিকে জম্মু-কাশ্মীর স্থানীয় পুলিশ থেকে সকল অস্ত্র ও সকল ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে অঞ্চলটির নিজস্ব সামরিক ব্যবস্থাকে। সামরিক বাহিনীর সকল দায়িত্বভার তুলে নিয়েছে মালাউন ভারতীয় সন্ত্রাসী সেনা বাহিনী। শ্রীনগরের বাইরে অন্য জেলাগুলিতে ১৪৪ ধারা আরও কঠোর করা হয়েছে। রাজ্যের ৮০ লক্ষ মানুষ এই রকম পরিস্থিতি আগে কখনও দেখেননি।’’

বর্তমানে দখলদারদের সুবিধার জন্য ‘স্যাটেলাইট ফোন চালু রাখা হয়েছে, এছাড়া টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সকল যোগাযোগ ব্যবস্থাই বন্ধ করে রাখা হয়েছে।  কেবল পরিষেবা বন্ধ থাকলেও ডিরেক্ট টু হোম (ডিটুএইচ) যাঁদের রয়েছে, তাঁরা টিভি দেখতে পারছেন। তবে অধিকাংশেরই এখনও স্পষ্ট ধারণা নেই, ঠিক কী হয়েছে!

এদিকে জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মধ্যহতে যারা আগে থেকেই শ্রীনগরে ছিল, তাদেরকে শ্রীনগরের বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না এবং বাহির থেকে ভিতরেও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। সাংবাদিকদের সংগ্রহ করা বিভিন্ন তথ্য, অডিও ভিডিও চেক করে ডিলেট করে দেওয়া হচ্ছে। অন্য জেলাগুলো হতে তেমন কোন খবর বাহিরে না আসলেও রামবাগ, নতিপোরা, ডাউনটাউন, কুলগাম, অনন্তনাগের মতো জায়গায় বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভ-পাথর ছোড়ার মতো ঘটনার খবর এসেছে।

সব মিলিয়ে এখন খারাপ পরিস্থিতির মাঝে আছে গোটা উপত্যকা। নিরাপত্তার নামে সন্ত্রাসী কায়দায় অবরোধের চাদরে মুড়ে কার্যত অচল করা হয়েছে উপত্যকাকে। এই পরিস্থিতি আরও কত দিন চলবে, এবং কবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরত পারবেন, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন কাশ্মীরবাসী।

Facebook Comments

১টি মন্তব্য

  1. ইয়া আল্লাহ তুমি আমাদের সাহায্য করো
    তুমি আমাদের কাশ্মীরি ভাই বোনদের সাহায্য করে

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন