বিদ্রোহের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ছে কাশ্মীর উপত্যকাজুড়ে, ভারতীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে সংঘর্ষ চলছে মুক্তিকামীদের!

0
831

দখলদার ও উগ্র ভারতীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মধ্য দিয়েই কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় গত বুধবার থেকে বিক্ষোভ ফেটে পড়েছেন সাধারণ কাশ্মীরীরা। তারা দখলদার ভারতের দেওয়া কারফিউ ও ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করেই রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছেন, শুরু করেছেন প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ। উপত্যকার শ্রীনগর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মত ছড়িয়ে পড়ছে পুরো কাশ্মীর উপত্যকা জুড়ে।যার বিস্তৃতি এখন কারগিল থেকে লাদাখ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার উপত্যকার কারগিলে দখলদার ভারতীয় সন্ত্রাসী হায়েনাদের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় মুক্তিকামী কাশ্মীরী জনসাধারণের। এসময় ইট-পাটকেলের জবাবে কাশ্মীরীদেরকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় গুলি, অনেককেই আবার পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। এসময় ভারতীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় আহত হন প্রায় ৮৫ জনেরও অধিক কাশ্মীরী, যাদের মাঝে শাহাদাতবরণ (ইনশাআল্লাহ) করেন ৫ জন।

অন্যদিকে দখলদার সন্ত্রাসী বাহিনী কারগিলে বিক্ষোভকারীদের ২৫ জনকে বন্দী করে নিয়ে যাওয়ার কথাও জানায় আযাদ কাশ্মীরের একটি সংবাদ চ্যানেল। শুধু গত বুধ ও বৃহস্পতি এই দুদিনেই শ্রীনগর থেকে বন্দী করা হয়েছে প্রায় ৫৬০ এরও অধিক মুসলিমকে, এমন তথ্যই জানায় “ট্রবল নিউজ এজেন্সী”
কারগিলে ভারতীয় মালাউন বাহিনীর হিংস্রতা তীব্র আকার ধারণ করেছে, অবস্থা ধারণার চাইতেও অনেক বেশী ভয়াবহ মনে করেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে কাশ্মীরের সাংবাজ এলাকাতেও তীব্র সংঘর্ষ হয় স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরীদের, যেখানে কাশ্মীরীদের ঐক্যবদ্ধতার কারণে পিছু হটতে বাধ্য হয় ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী দখলদার সন্ত্রাসী বাহিনী। এসময় মুক্তিকামীদের ইট-পাটকেলের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে এক পুলিশ অফিসারসহ হাসপাতালে ভর্তি হয় ৩ ভারতীয় মালাউন সেনা।

এছাড়াও কাশ্মীরের আরো ৬টি অঞ্চলের মানুষ কারফিউ উপেক্ষা করেই রাস্তায় নেমে পড়েছেন। “ভারত ফিরে যাও, কাশ্মীর আমাদের” এমন শ্লোগান দিতেও শোনা যায় অনেককে।

বর্তমানে শ্রীনগর ও তার আশপাশের কয়েকটি অঞ্চল ব্যতীত অন্য কোন স্থানের সংবাদই জানা যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে সেখানের অবস্থা আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শুধু শ্রীনগর থেকেই গতকাল চার শতাধিক লোককে বন্দী করা হয়েছে, আজকে করা হয়েছে আরো কয়েক শতাধিক মুসলিমকে। তাদেরকে বন্দী করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন মার্কেট, সরকারি অফিস ও আদালতগুলোর মধ্যে, কারণ কারাগারগুলো ইতিপূর্বেই বন্দী কাশ্মীরীদের দ্বারা পরিপূর্ণ হয়ে আছে, যেখানে সামান্য পরিমাণও জায়গা নেই। তাই এখন এভাবেই অস্থায়ীভাবে বন্দী করে রাখা হচ্ছে মুসলিমদেরকে।

ইতিপূর্বে কয়েকটি সূত্র যদিও কাশ্মীরে শতাধিক মুসলিম হতাহত হওয়ার খবর প্রকাশ করে, কিন্তু সেগুলোর সত্যতা জানা যায় না। তবে, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম হতে জানা যায় যে, হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় মালাউন সন্ত্রাসী বাহিনী ঘর থেকে বের হলেই হত্যার হুমকি দিচ্ছে, তারা মূলত ব্যাপক গণহত্যা চালানোর জন্য প্রস্তুত। হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনার উপস্থিতি সেখানকার রাস্তায়! কাশ্মীরে হিন্দুত্ববাদী দখলদার সেনাদের সংখ্যা এতই বেশি যে, পৃথিবীর আর কোথাও এর নজির নেই। বেসরকারি সংবাদ মাধ্যমগুলোর মতে বর্তমানে উপত্যকায় ৭ লাখেরও অধিক সেনা মোতায়েন রয়েছে।

হয়তো মুসলিমদের আরও একটি বসনিয়া বা আরাকান প্রত্যক্ষ করতে হবে।
অপরদিকে জাতিসংঘসহ সমস্ত বিশ্বমোড়লরা রহস্যজনকভাবে নীরব। ভারতের নীতিকে ইসরায়েলের ফিলিস্তিন দখলের নীতির সাথে সামঞ্জস্য করা হয়।

সাংবাদিকদের এক সাক্ষাতকারে রশিদ আলী(যিনি শ্রীনগরে একটি ঔষধের দোকান চালান ) জানান, “বাধা-নিষেধ উঠে গেলেই মানুষ রাস্তায় নামবে”। “এটা আমাদের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারিত্বকেই মনে করিয়ে দেয়”।

অসিম আব্বাস নামে স্থানীয় একজন বলেন- “আমাদের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেয়ার পরিণতি হবে বিপজ্জনক”
তিনি বলেন “মনে হচ্ছে পাথরের যুগে ফিরে গেছি। বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে আমাদের”।
ইকবাল নামে আরেকজন বলেন, “সরকার কাশ্মীরের জমি চায় কিন্তু কাশ্মীরের জনগণকে চাচ্ছেনা”।
“কাশ্মীরিরা ক্ষুধার্ত নাকি মরে গেছে তা নিয়ে তাদের চিন্তা নেই”।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন বলেন, “কাশ্মীর তার স্বাধীনতা হারিয়েছে ও ভারতের দাসত্বে চলে গেছে বলেই মনে হচ্ছে”।

কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে রাস্তাঘাট এখনো আটকে রাখা হয়েছে। চেকপয়েন্টগুলোতে পুলিশ ও সশস্ত্র আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। চলাচল খুবই সীমিত, সব ধরণের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো বন্ধ করে রাখা হয়েছে, কাশ্মীরের বাইরে থাকা কাশ্মীরিরা তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মধ্যে মালাউন পুলিশ সদস্যদের স্যাটেলাইট ফোন দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন