জুমুআর সালাতের পর সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো কাশ্মীরে, গুলিবর্ষণ করেছে মুশরিক হিন্দুত্ববাদী সেনাবাহিনী!

0
400

টানা পাঁচদিন ধরে কারফিউ এবং ১৪৪ ধারা আরোপের মাধ্যমে এক প্রকার বন্দী করে রাখা হয়েছে কাশ্মীরীদের। শিকলাবদ্ধ করা হয়েছে জনগণের চলাফেরার স্বাধীনতাকে। এরই মধ্যে গত সোমবার হতে শ্রীনগরসহ তার আশপাশের এলাকা এবং গত বুধবার হতে লাদাখ ও কারগিলের মুসলিমরা দখলদার উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় মুশরিক বাহিনীর দেওয়া অবৈধ কারফিউ ও ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাস্তায় বিক্ষোভ-মিছিলে বেড়িয়ে পড়তে থাকেন।

এছাড়া, গতকাল শুক্রবার জুমুআর সালাত আদায়ের পর হাজার হাজার কাশ্মীরী মুসলিম ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী দখলদার মুশরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। সংবাদসংস্থা আল-জাজিরার বরাতে জানা যায়, জুমুআর সালাতের পর আজাদীর দাবি নিয়ে শ্রীনগরের রাস্তাগুলোতে নেমে আসেন হাজার হাজার কাশ্মীরী মুসলিম। তখন দখলদার হিন্দুত্ববাদী মুশরিক সেনারা কাশ্মীরী লক্ষ্য করে সরাসরি গুলিবর্ষণ করে। এছাড়া, কাশ্মীরীদের উপর নিক্ষেপ করা হয় টেয়ার গ্যাস এবং রাবারের প্রলেপ দেওয়া স্টিল বুলেট। সংবাদসংস্থাটি আরো জানায়, ঐ আন্দোলনটি ছিল সোমবারের পর করা সবচেয়ে বড় আন্দোলন।

গতকালের বিক্ষোভের কিছু অংশের ভিডিও চিত্র আল-জাজিরা সংবাদমাধ্যমে শেয়ার করা হয়। সেখানে দেখা যায়, বিক্ষোভের একটি অংশে সাধারণ কাশ্মীরী মুসলিমরা সেই সুপরিচিত স্লোগান তুলেছে, ‘মূসা মূসা, জাকির মূসা।’ শহীদ কমান্ডার জাকির মূসা ছিলেন কাশ্মীরে আল-কায়েদার শাখা আনসার গাজওয়াতুল হিন্দের প্রাক্তন আমীর। গত রমজান মাসে বদরের দিনে তিনি ভারতীয় মুশরিক সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে এক লড়াইয়ে শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেন। আজও সেই জাকির মূসা রহিমাহুল্লাহকে ভুলে যাননি কাশ্মীরের অধিবাসীরা। কাশ্মীরী মুসলিমদের মনে ইসলামী শরীয়াত প্রতিষ্ঠার বাসনা জাগ্রত করার ক্ষেত্রে জাকির মূসা রহিমাহুল্লাহ এর ভূমিকা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

এদিকে, বিভিন্ন স্থানে দখলদার ভারতীয় মুশরিক সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় সাধারণ কাশ্মীরী মুসলিমদের। কাশ্মীরী মুসলিমদের ইট-পাটকেলের জবাবে দখলদার মুশরিক বাহিনীর দিক থেকে আসে গুলি ও হাত বোমা। এখন পর্যন্ত আল-ফিরদাউস নিউজ টিমের নিকট পৌঁছা সংবাদ মতে দখলদার মুশরিকদের হামলায় আহত হয়েছেন শত শত মুসলিম, নিহত হয়েছেন ৩৫ জন কাশ্মীরী। অন্যদিকে দখলদার ভারতীয় মুশরিক সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে বন্দী হয়েছেন প্রায় ৮০০ এরও অধিক মুসলিম।

বিপরীতে সাধারণ কাশ্মীরী মুসলিমদের ছুঁড়া ইট-পাটকেলের আঘাতে নিহত হয়েছে ১৭-১৮ মালাউন ভারতীয় মুশরিক দখলদার সেনা, আহত হয়েছে আরো ২৭ এরও অধিক। এদিকে ৯ আগস্ট শুক্রবার কাশ্মীরের “রাজুরী” গ্রামে বিক্ষোভকারী সাধারণ কাশ্মীরীদের উপর গুলি ছুঁড়লে সাধারণ গ্রামবাসী দা-বটি নিয়েই রাস্তায় নেমে পড়ে এবং ৩ মুশরিক সেনার হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। এভাবেই ক্রমশ উত্তপ্ততা বাড়ছে উপত্যকা জুড়ে। ইনশাআল্লাহ, হয়তো কাশ্মীরই হবে উপমহাদেশের প্রথম ইসলামী ইমারত!

কাশ্মীর ছাড়াও গতকাল আরো অনেক জায়গায় কাশ্মীরী মুসলিমদের সমর্থনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে, পাকিস্তান এবং পাকিস্তান শাসিত আজাদ কাশ্মীরেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন