ঈদযাত্রায় জনভোগান্তি নিয়ে নিষ্ঠুর রসিকতা!

0
208

গেল ঈদুল আজহায় ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ সীমা অতিক্রম করেছে। রেল, সড়ক ও নৌ তিন পথেই যাত্রীদের ভোগান্তি ষোলকলায় পূর্ণ ছিল। রেলের শিডিউল লণ্ডভণ্ড, সড়ক পথেও অবস্থা প্রায় একই রকম। পথে পথে দীর্ঘ যানজট। ফেরিতে বিলম্ব। ঢাকা থেকে বাস ছাড়ার সময়সূচি ছিল না।। নৌপথে শৃঙ্খলার বালাই নেই। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে ঝুঁকি নিয়ে ছেড়েছিল লঞ্চ।

ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়িতে যাওয়ার যাত্রাপথে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৫জন। এর মধ্যে দুজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও ছিলেন। আহত হয়েছেন অগণিত যাত্রী।

আর ঈদযাত্রায় যানজট এক মহা বিপদ। “ঈদের সময় মানুষ আপনজনদের কাছে আসেন কিন্তু সেই আসাটা এতই কষ্টকর যে মানুষের ঘরে ফিরতে ২৩/২৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লেগে যায়।
অথচ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছে, এবারের ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত ছিল বেশ আনন্দের। এবারের ঈদযাত্রায় যানজট নেই!
ঈদযাত্রা নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য দুঃখ-দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে নিষ্ঠুর রসিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
আসলে সেতুমন্ত্রী মানুষের দুঃখ-দুর্দশা জানবে কীভাবে! সে তো হুইসেল বাজিয়ে রাস্তা ফাঁকা করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে করে সড়কে ছুটে বেড়ানোর অবাধ সুযোগ আছে। সুতরাং ঘণ্টার পর ঘন্টা যানজটে রাস্তায় আটকে থাকার দৃশ্য দেখে তার আনন্দ পাওয়ারই কথা।
এমনিভাবে, ৪০ টাকার ভাড়ার স্থলে ৪০০ টাকা, ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার ভাড়ার স্থলে আদায় করা হয়েছে ১২০০ টাকা। এটা দেখার কেউ নেই। কোনো কোনো মহাসড়কে ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার যানজট। লঞ্চে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ফেরিঘাটে লম্বা লাইন। সকালের ট্রেন রাতে ছাড়ছে। পরিবার নিয়ে স্টেশন-রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষ। কষ্টের সীমা নেই।

তবুও সেতুমন্ত্রী “এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও আনন্দঘন” এ কথা বলতে পেরেছে, কারণ হল জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। আওয়ামী লীগের কাজই হলো মানুষের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে হাসি-তামাশা করা। তাদের কাছে জনগণের জান-মাল আর সময়ের কোন মূল্য নেই।

তথ্যসূত্র: কালেরকণ্ঠ, ভোরের কাগজ, যুগান্তর।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন