বাবরি মসজিদ ধ্বংস: রামের জন্ম প্রমাণে বাস্তবতা নয় বরং হিন্দুদের বিশ্বাসকেই বড় করে দেখছে মুশরিক আইনজীবী!

0
305

১৯৯২সালের ৬ই ডিসেম্বর মুসলিমদের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে দেয় উগ্র সন্ত্রাসবাদী মুশরিক হিন্দুরা। একইসাথে মুসলিমদের উপর চালানো হয় বর্বরোচিত গণহত্যা। এরপর উত্তেজিত মুসলিমদের শান্ত করতে ধ্বংসস্তুপের স্থানে পুনরায় বাবরি মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু, পরবর্তীতে নানা টালবাহানা শুরু করে দেয় হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় সরকার ও সুপ্রিম কোর্ট। সেই থেকে বিভিন্ন সময় শুনানি শুরু হয় ভারতের হিন্দুত্ববাদী সুপ্রিম কোর্টে।

২০১০সালের এক রায়ে বাবরি মসজিদের ভূমিকে তিনভাগে ভাগ করার প্রস্তাব করা হয়। যার এক ভাগ কেবল ইসলামিক সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড আর বাকি দুই ভাগই পাবে হিন্দুরা। কিন্তু, সেটাও কার্যকর হতে দেয়নি হিন্দুরা। তারা বাবরি মসজিদের স্থানে হিন্দুদের কথিত রামমন্দির ছিল বলে দাবি তুলে।

সেই থেকে এখন অবধি চলছে এই মামলা-শুনানি। আজ ১৫ই আগস্ট ঐ মামলার শুনানিতে হিন্দু পক্ষের আইনজীবী সি এস বৈদ্যনাথন দাবি করে যে, সত্য যাইহোক হিন্দুরা যেহেতু বিশ্বাস করে যে ঐ স্থানে রামের জন্ম হয়েছে, এটাই বড়। হিন্দুদের বিশ্বাসটাই বড় বলে দাবি করে ঐ উগ্র হিন্দুত্ববাদী আইনজীবী।

আনন্দবাজার পত্রিকার বরাতে জানা যায়, ঐ মুশরিক আইনজীবী বলে, ‘সত্যাসত্য পরের কথা। সুপ্রিম কোর্ট যেন যুক্তি খুঁজতে না-যায়। অযোধ্যার ওই বিতর্কিত স্থলে রামের জন্ম হয়েছিল বলে হিন্দুরা বিশ্বাস করেন বরাবর। এবং এই বিশ্বাসটাই বড়।’

এভাবে, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বৈধতা এবং তার স্থলে হিন্দুদের কথিত রামমন্দির নির্মাণের চক্রান্ত সফল করার চেষ্টা চালাচ্ছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী।

গত বছর হাফিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ সুপ্রিয় ভার্মা ও জয়া মেনন বলেছেন, ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের নিচে রামমন্দির থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সুপ্রিয় ভার্মার মতে, বাবরি মসজিদের নিচে পুরোনো ছোট মসজিদ ছিল। এর পশ্চিম পাশের দেয়াল, ৫০টি পিলার ও স্থাপত্যশৈলী তারই প্রমাণ। পশ্চিম পাশে দেয়াল দেখলেই বোঝা যায় যে এই পাশে মুখ করে নামাজ পড়া হয়েছে। এর কাঠামো মসজিদের মতো, মন্দিরের মতো নয়।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন