মিয়ানমারে ফিরে যেতে চান না রোহিঙ্গারা, ‘চাপে পড়ে সাক্ষাৎকার!

0
732

২০১৭ সালে আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন শুরু করে দেশটির সন্ত্রাসী বৌদ্ধ সেনাবাহিনী। প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেন। পুরনো ও নতুন মিলিয়ে এখন উখিয়া-টেকনাফের ৩০টি শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের হাতে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের এখন আবার সেই মুসলিম রক্তখেকু বৌদ্ধদের হাতে তুলে দেওয়ার কাজই চলছে।

প্রত্যাবাসনের তালিকাভুক্ত কয়েকজন রোহিঙ্গা জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ের প্রতিনিধিদের ‘চাপের’ মুখে অবশেষে সাক্ষাৎকার দিতে এসেছে বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম ‘ বাংলা ট্রিবিউন’। মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে আট-দশ জন রোহিঙ্গা টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরে নির্ধারিত স্থানে সাক্ষাৎকার দিতে আসেন। তবে তারা সবাই জানিয়েছেন, এখনই তারা মিয়ানমারে ফেরত যেতে চান না।

মোহাম্মদ খালেদ হোসেন জানান, আজ সকাল থেকে মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার বিষয়ে মতামত জানানোর কথা ছিল তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গাদের। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরে নির্ধারিত স্থানে সাক্ষাৎকার দিতে আসেননি তাদের কেউ। পরে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা তাদের সাক্ষাৎকার দিতে আসার জন্য উৎসাহিত করার চেষ্টা করেন। দুপুর দেড়টার পর আট থেকে দশ জন সাক্ষাৎকার দিতে আসেন।

তিনি আরও জানান, যারা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তাদের সবাই মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার বিষয়ে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

সাক্ষাৎকার দিয়ে বের হয়ে আসার পর আবু সিদ্দিক নামের এক রোহিঙ্গা জানান, ‘আমরা বর্তমান অবস্থায় মিয়ানমারে ফেরত যেতে চাই না। মিয়ানমারে আমাদের ওপর নির্যাতনের বিচার করতে হবে, আমাদের সম্পত্তি ফেরত দিতে হবে, আমাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে। এরপরই আমরা সেখানে ফেরত যাবো। এই কথাই আমরা সাক্ষাৎকারে বলেছি।’

উল্লেখ্য, সন্ত্রাসী বৌদ্ধগোষ্ঠী আরাকান রাজ্যে এখনো সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে লিপ্ত। সেখানে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মত কোন পরিবেশ তারা তৈরি করেনি। এরপরও, তারা লোক দেখানো হাজার কয়েক রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত নিতে চাচ্ছে। এতে, তাদের হিংস্র কোন পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে মনে করা হয়। তাই, এমন পরিস্থিতিতে নিরস্ত্র নিরীহ রোহিঙ্গা মুসলিমদের হিংস্র বৌদ্ধগোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া যৌক্তিক বলে মনে করেন না বিশ্লেষকগণ।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন