দুর্নীতির দায়ে স্ত্রীসহ পুলিশের সাবেক ওসি সাইফুলের কারাদণ্ড

0
86

‘রক্ষক যখন ভক্ষক’ প্রবাদটি বর্তমান সময়ে যেন ডাল-ভাত হয়ে গেছে। প্রতিদিনের রুটিনের মতই দেখা যাচ্ছে ক্ষমতার অপব্যবহার। যে সকল ব্যক্তিবর্গের উপর সাধারণ মানুষ দায়িত্ব ন্যস্ত করেছে তাদের দাঁড়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশাল অংকের টাকা লুট হচ্ছে। ডেঙ্গুর চেয়ে মহামারিতা এটি কম নয়। জনগণের কষ্টের টাকা পুকুর চুরি করে রাতারাতি বড়লোক বনে যাচ্ছে এসব ক্ষমতাশীল দুর্নীতিবাজরা। এদের মধ্যে কেউ বা ভাগ্যের পরিহাসে ধরা পড়ে। তবে বেশিরভাগ অধরাই থেকে যায় জনগণের টাকা লুটপাটকারী এসব মানুষরূপী দানবগুলো।

এরই ধারাবাহিকতায় দুর্নীতির দায়ে স্ত্রীসহ পুলিশের সাবেক ওসি সাইফুল অভিযুক্ত হয়ে কারাদন্ড পেয়েছে। ২২ আগস্ট ২০১৯, বাংলাদেশ প্রতিদিনের রিপোর্ট অনুযায়ী অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামের ১৪ বছর এবং তার স্ত্রী জাকিয়া ইসলাম অনুর দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সাইফুল ইসলামের একটি মামলায় তিন লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড এবং তার স্ত্রীকে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তার আরও তিন মাস কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ রায় ঘোষণা করে।

পরে তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আসামি ওসি সাইফুলের সাত বছর করে পৃথক দুই মামলায় মোট ১৪ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং স্বামীকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তা এবং দখলে রাখার অভিযোগে তার স্ত্রী জাকিয়া ইসলাম অনুকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ওসি সাইফুল ইসলামকে এবং তার স্ত্রী জাকিয়া ইসলাম অনুকে আসামি করে ২০১০ সালের ২২ জুন রাজধানীর রমনা থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোজাহার আলী সরদার।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০০৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সাইফুল ইসলাম নিজ নামে, স্ত্রী ও পোষ্যদের নামে অর্জিত সর্বমোট ৪২ লাখ ৫৫ হাজার ২১ টাকার এবং স্ত্রী ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার সম্পদের হিসাব দাখিল করে। কিন্তু মামলায় তাদের দুই কোটি ৫০ লাখ ৫৭ হাজার ৭৮৬ টাকার সম্পদের জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জন এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ করা হয়।

এছাড়া আরেক মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাইফুল ইসলাম নিজ নামে, স্ত্রী ও পোষ্যদের নামে অর্জিত সর্বমোট পাঁচ কোটি ২৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৫০ টাকার সম্পদের হিসাব দাখিল করে। কিন্তু মামলায় তার বিরুদ্ধে সাত লাখ ১০ হাজার ১২৫ টাকার সম্পদের তথ্য যোগান এবং ২৬ লাখ ৯০ হাজার ৯২৫ টাকার জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদের অভিযোগ করা হয়।

কারাদণ্ড দেয়া হলেও একটা প্রশ্ন অবশ্য থেকে যায়। অবসর গ্রহণের পর দুর্নীতির অভিযোগ সন্দেহের অবকাশ রাখে। দায়িত্বে থাকাকালীন এসব লোকরাই তো সরকারের বিভিন্ন অন্যায় অত্যাচারে সহায়তা করেছে। উদ্দেশ্য হাসিলের পর তাদেরকেই আবার বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। অবসরের আগে কেন এমন করা হলো না সেটাই জনগণের প্রশ্ন!

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন