সেনাবাহিনীর টহলরত গাড়িতে গুলি, অস্ত্র দিচ্ছে ভারত?

0
511

একের পর এক ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে ভারত। সাম্রাজ্যবাদী মতাদর্শ নিয়ে আবার হাজির হচ্ছে একবিংশ শতাব্দীর এই সংকটময় মুহূর্তে । বিভিন্ন কূটকৌশল ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলার ভূমিকে রণক্ষেত্র তৈরীর এক গভীর পরিকল্পনায় লিপ্ত হয়েছে। একটা সময় ছিল, যখন এটি কেবল বাণিজ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ক্রমশ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের মতো বাংলার মাটিকে দখল করার সামরিক মহড়াও চলছে। ভারতের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড, ব্রিটিশদের অনুরূপ সাম্রাজ্যবাদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ। একদিকে যেমন কাশ্মীরে আগ্রাসন চালাচ্ছে, অপরদিকে বাংলার মাটিকে চতুর্দিক থেকে অশান্ত করার পায়তারাও করছে। তার প্রমাণ আমরা বিভিন্ন ভাবেই করতে পারি। আমরা লক্ষ্য করছি চট্টগ্রামের কিছু পাহাড়ি এলাকার মানুষ অত্র এলাকা ভারতের সাথে যুক্ত হবার আন্দোলনে লিপ্ত। গত সপ্তাহে মানববন্ধনও করেছে তারা। ওই দিনকে তারা ব্লাক ডে(কালো দিন) হিসেবে প্রচারিত করেছে। এমনকি সবাইকে অবাক করে দিয়ে সেনাবাহিনীর টহলকারী গাড়িতে পর্যন্ত তারা বন্দুক হামলা করেছে।

সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে তাদের কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র থাকার জ্বলন্ত প্রমাণও পাওয়া গেছে। আর এর পিছনে যে ভারত আছে, তা সহজেই অনুমেয় কারণ আন্দোলনকারীরা ভারতকেই চাচ্ছে। ব্রিটিশরা যেমন ব্যবসার দোহাই দিয়ে এদেশে যুদ্ধ বাঁধিয়েছিল, ভারত যে তাদের সমর্থনকারী জনগোষ্ঠীকে রক্ষার নামে বাংলাকে তাদের একটি গোলাম প্রদেশ করবে না তার কোন নিশ্চয়তা নেই। বরং পরিস্থিতি সেদিকেই ধাবিত হচ্ছে বলে শক্তিশালী মতামত সবদিক থেকে পাওয়া যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে, সেনাবাহিনীর গাড়িতে হামলা পরিচালনা করা হল। বিবিসি বাংলার তথ্য মতে, ‘রাঙ্গামাটির পুলিশ বলছে আজ (২৩শে আগস্ট) শুক্রবার আনুমানিক সকাল দশটার দিকে জেলার বাঘাইছড়িতে সেনাবাহিনীর টহলকৃত গাড়ির উপর একদল লোক গুলি করে।

পরে সেনাবাহিনী গুলি করলে সেখানে একজন নিহত হয়। রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিউল্লাহ বলেছে নিহত ব্যক্তির নাম সুমন চাকমা। তবে তার কোন রাজনৈতিক পরিচয় আছে কিনা পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে।

মি. শফিউল্লাহ বলেছিল “সেনাবাহিনীর টহলকৃতদের উপর গুলি করা হয়। এবং সেনাবাহিনী সেখানে গুলি করে। গোলাগুলির পর একজনের ডেড-বডি উদ্ধার করে। সেনাবাহিনীর গাড়িতে দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে।”

এদিকে আন্ত-বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের ”সন্ত্রাসী” বলে বর্ণনা করেছে।

তারা বলছে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দোপাতা নামক এলাকায় তারা অভিযান চালাতে গিয়েছিল।

ঘটনাস্থলে সেনাসদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করা হয় বলে আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সেনাবাহিনী জানাচ্ছে উভয় পক্ষের মধ্যে আনুমানিক ৪/৫ মিনিট গোলাগুলি হয়। তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিহত ব্যক্তিকে ইউপিডিএফ (মূল) দল এর সদস্য সুমন চাকমা হিসাবে পরিচয় দেয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১৮ তারিখে রাঙ্গামাটির রাজস্থলী আর্মি ক্যাম্প থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে গুলির ঘটনা ঘটেছিল। এতে একজন সৈনিক গুলিবিদ্ধ হয়ে পরে মারা যায়। একইদিন দ্বিতীয় দফায় বিকেলের দিকে আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটে। সেই হামলায় বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয় বলে জানিয়েছিল পুলিশ। মাত্র ছয়দিনের ব্যবধানে আবারো আজ এই ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবুল কাইয়ুম।

“অবশ্যই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। আপনি জানেন যে সাজেক এলাকাটা পর্যটন এলাকা। সেখানে হাজার হাজার মানুষ যায় প্রতিদিন। যেহেতু রাস্তার মধ্যে ঘটনা ঘটেছে তাই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে,” বলছিল মি. কাইয়ুম।

আইএসপিআর বলছে “নিহত সুমন চাকমা নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান, অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি।

বর্তমানে ওই স্থানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিরাপত্তাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে আইএসপিআর-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

এদিকে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানাচ্ছে নিহত ব্যক্তি আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা ইউপিডিএফ এর একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা। এবং যে স্থানে ঘটনা ঘটেছে সেটি সাজেকে যাওয়ার পথে র‍্যাবকাটামো নামে একটি স্থান। সেটা ইউপিডিএফ এর নিয়ন্ত্রিত এলাকা বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ‌ এই ব্যাপারে ইউপিডিএফ-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন