দেশজুড়ে মাদকের সয়লাব, সমাধানে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?

0
261

কথিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান জোরালো করা হলেও বেড়েই চলেছে মাদকের সরবরাহ। গাজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, মদ, হেরোইন এর মতো মাদকে আসক্তি দেশজুড়ে এক মহামারীর রুপ ধারণ করেছে। এতো এতো অভিযান সত্ত্বেও, মাদক না কমার কারণ হিসেবে কথিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদিচ্ছাই এখন প্রশ্নের মুখে। এর প্রমাণ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পূর্বের ও বর্তমানের বিভিন্ন সময়ের কর্মকাণ্ড উল্লেখ করা যেতে পারে। দেশজুড়ে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে পুলিশের গোপন কারসাজি প্রায়ই সংবাদপত্রে চোখে পড়ে।

গত ২৫ শে আগস্ট ২০১৯ বাংলাদেশ প্রতিদিন মাদককে কেন্দ্র করে একটি প্রতিবেদন ছেপেছে। এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায় ইয়াবার সরবরাহ কমতে থাকার সুযোগে নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ভয়াবহ হারে বেড়ে যাওয়া মাদক ফেনসিডিলের ব্যবহার বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত মাদক ইয়াবা দেশের তরুণ প্রজন্মকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এ কারণে অভিভাবক, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সবার নজর ইয়াবার দিকে।

এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফের ফেনসিডিলের কারবার শুরু করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। দু-এক বছর আগেও ফেনসিডিলের খালি বোতল অলিগলি বা রাস্তার পাশে ঝোপঝাড়ে দেখা যেত না। ইদানীং ফের তা চোখে পড়ছে।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাস্তায় বের হলেই ফেনসিডিলের খালি বোতল দেখি। ’ এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাব সদর দফতরের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার ২৩৩ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়। আর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ৯০ হাজার ৫১১ বোতল ফেনসিডিল। র‌্যাবের কর্মকর্তারা বলছে, উল্লিখিত পরিসংখ্যান থেকে অনুমান করা যায়, দেশে মাদকসেবীরা ফের ফেনসিডিলে আসক্ত হয়ে পড়ছে। বিগত কিছু দিনে গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন মাদকব্যবসায়ীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, জব্দ ফেনসিডিল এরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করে ঢাকা, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করার জন্য এনেছিল।

মাদকের যে মহামারী সেখানে প্রশাসনের ভূমিকা জনতাকে ভাবিয়ে তোলে। চিন্তার ভাঁজ পড়ে কপালে। অস্থির করে তোলে অজানা ভয়ের আশংকায়। হয়ত এর প্রভাব কড়া নাড়তে পারে আমাদের নিজের বাড়ির দরজায়! কিন্তু, এ থেকে বাঁচতে কী ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন? সে চিন্তা ও প্রচেষ্টা আমাদের আছে কি? মাদকাসক্তির ভয়াল থাবা থেকে সমাজকে বাঁচাতে কী ধরণের পদক্ষেপই বা আমরা নিয়েছি?


লেখক: আবু আফিয়া ।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন