‘কাশ্মীরে ৬০০০ এরও অধিক অচিহ্নিত গণকবর রয়েছে’ – অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিক সি জে ওয়ারল্যামানের মন্তব্য

0
420

অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিক “সি জে ওয়ারল্যামান” গত ১৯ আগস্ট ভারতের দখলিকৃত কাশ্মীরে হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় সেনাদের অত্যাচারের ঘটনাগুলোকে তার নিজস্ব এক টুইট বার্তার মাধ্যমে জনসমক্ষে এনেছেন।

কাশ্মীরের বিশেষ অধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধকে দমন করার জন্য, ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকার কাশ্মীর উপত্যকাতে আজ ২৬ আগস্ট ২২তম দিনেও কারফিউ এবং অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। যার ফলে এখনো সেখানকার পরিস্থিতি স্পষ্ট নয়।

যদিও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম কাশ্মীরের কিছু খবর প্রচার করছে, কিন্তু তাতে কাশ্মীরের বর্তমান অবস্থা পরিপূর্ণভাবে ফোটে উঠেনি বলেই মন্তব্য করেন মুসলিম বিশ্লেষকরা। কেননা ভারত সরকার যতটুকু সংবাদ বাহিরে প্রচার করতে চাচ্ছে ততটুকুই সেখান থেকে প্রচারিত হচ্ছে, এই কঠিনতর পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও আন্তর্জাতিক কিছু সংবাদ মাধ্যম সেখানের অবস্থা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, কিন্তু এ কাজ করতে গিয়ে তাদেরকেও অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিক সি জে ওয়ারল্যামান টুইটার এ “ভারতীয় দখলে কাশ্মীরের জনজীবন” এই শিরোনামে কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। তার লেখাতে উঠে এসেছে কাশ্মীরের  অচিহ্নিত কবর, সেনা কতৃক যৌন উৎপীড়ন, কীভাবে কাশ্মীরের জনগণ সেনাসংখ্যার কাছে সংখ্যালঘু এবং আরও ভয়ঙ্কর সব তথ্য ।

ভারতীয় বাহিনীর আগ্রাসনের এক ভয়ঙ্কর চিত্রঃ

* ভারতীয় বাহিনীর নির্যাতনের কারণে ৪৯% পূর্ণবয়ষ্ক কাশ্মীরি PTSD নামক মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।

* কাশ্মীর পৃথিবীর যুদ্ধকবলিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে সামরিক বাহিনী কর্তৃক গণধর্ষণ পরিচালনায় কুখ্যাত।এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভারতীয় বাহিনী কর্তৃক ১৯৯৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী কুনান ও ফসফরা নামক দুটো গ্রামে এক রাতেই ৮০ জন নারীকে গণধর্ষণের ঘটনা।

* ভারতীয় বাহিনীর হাতে আটক প্রায় সকল কাশ্মীরির উপর চালানো অকথ্য নির্যাতন। সাত হাজারেরও বেশী কাশ্মীরি ভারতীয় বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকাবস্থায় অকথ্য নির্যাতনের কারণে নিহত হয়েছেন।

* জাতিসংঘ কাশ্মীর ইস্যু সমাধানে এ যাবত ১৮ টি রেজুলেশন তৈরী করেছে। কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ কোনো অংশ নয় বরং একটি বিতর্কিত অঞ্চল, তাই এর জনগণকে গণভোটের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণ করতে দেওয়ার জন্য ভারতের প্রতি আহবান জানানো হয়েছিল, কিন্ত হিন্দু সাম্রাজ্যবাদী ভারত এ পর্যন্ত সে গণভোটের আয়োজন করতে দেয়নি। উপরন্তু ২০১৬ সালে নিজেদের জুলুমকে গোপন রাখতে কাশ্মীরে জাতিসংঘের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। জাতিসংঘ কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অসংখ্যবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে। কিন্তু ভারতের বিরূদ্ধে আজ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

* কাশ্মীর বিশ্বের সবচেয়ে ভারী মিলিটারাইজড জোন, যেখানে প্রতি দশজন কাশ্মীরির বিপরীতে একজন ভারতীয় সৈন্য বিদ্যমান রয়েছে।

* বর্তমানে কাশ্মীরে ৬০০০ এরও বেশী অচিহ্নিত গণকবর রয়েছে।

* মালাউন বাহিনীর কারণে ৮০,০০০ এরও বেশী শিশুকে এতিম হতে হয়েছে।

* ভারত এ পর্যন্ত ৯৫,০০০ এরও বেশী কাশ্মীরিকে হত্যা করেছে। আনঅফিসিয়ালী যা আরও অনেক বেশী বলে ধারণা করা হয়।

 

এদিকে আজাদ কাশ্মীরের প্রেসিডেন্ট বলেন, সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে আমি এ কথা বলছি যে, ৩৭০ ধারা বাতিলের পর থেকে এখন পর্যন্ত ভারতীয় বাহিনীর অত্যাচারে ৬ হাজারেরও বেশি কাশ্মীরি জনগণ আহত হয়েছেন। (হাসপাতালে গেলে আটক হওয়ার ভয়ে বহু লোক বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন)

কাশ্মীরে মোদি সরকার ‘সম্পূর্ণ গণহত্যা’ চালাচ্ছে, জম্মু-কাশ্মীরে গণহত্যা শুরু হয়েছে। নারীদের লাঞ্ছিত করা হচ্ছে, নির্বিচারে কাশ্মীরি জনগণকে হত্যা করছে ভারতীয় বাহিনী।

হত্যার পর নিহতদের অচিহ্নিত কবরে দাফন করা হচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান মাসউদ খান।

এদিকে আযাদ কাশ্মীর ভিত্তিক “সদায়ে আযাদ কাশ্মীর” নামক একটি সংবাদ মাধ্যম জানায় যে, মালাউন হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী বাহিনী কাশ্মীরের স্বায়ত্ত্বশাসন বাতিল করার পর থেকে কমপক্ষে ৮ হাজার কাশ্মীরি মুসলিমকে গ্রেফতার করেছে। এবং তাদেরকে জননিরাপত্তা আইনে (PSA) গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এই বিতর্কিত আইনের মাধ্যমে আটক ব্যক্তিকে কোনো ধরনের অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই দুই বছর পর্যন্ত আটক রাখতে পারবে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন