কাবিননামায় ‘কুমারী’র স্থলে ‘অবিবাহিত’! কেন, কী চায় সেক্যুলার চক্র?

1
716

সম্প্রতি বাংলাদেশ হাইকোর্ট বিয়ের কাবিননামা থেকে “কুমারী” শব্দ বাদ দিয়ে “অবিবাহিত” শব্দটি সংযোজন করতে আদেশ দিয়েছে। মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা-২০০৯ এর বিধি ২৮(১)(ক) অনুযায়ী বিবাহ রেজিস্ট্রি বইয়ের ৫ নাম্বার কলামে বলা হয়েছে, কন্যা কুমারী, বিধবা অথবা তালাকপ্রাপ্ত, নারী কিনা?

এই কুমারী শব্দের মধ্যে এমন কী লুকিয়ে আছে! যার কারণে শব্দটিকেই বাতিল করার নির্দেশ হাইকোর্ট থেকে দিতে হচ্ছে…!? আসুন তাহলে সে সম্পর্কে একটু পর্যালোচনা করা যাক-

২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর কাবিননামার ৫ নাম্বার কলামটি বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট, নারীপক্ষ এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ অর্থাৎ নারীবাদী নামক সমাজের কিছু ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী গ্রুপ রিট আবেদনটি করে, আর তাদের নিকট এই ছোট্ট ‘কুমারী’ শব্দটি একটি বিষফোঁড়া।

কারণ এই কুমারী শব্দের মাঝে লুকিয়ে আছে কুমারীত্ব বা সতী নারীদের “সতীপর্দা”। একজন সতী নারী বৈধ বিয়ের মাধ্যমে তার এই কুমারীত্ব পর্যায় শেষ করে থাকে। আর এই বিবাহ একজন পুরুষের জন্য হলো আনুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে কোন নারীর সেই কুমারীত্বের উপর অধিকার লাভ করা।

তাহলে এখন কথা হচ্ছে, কেন আজকের নারীবাদীদের এই কুমারীত্ব শব্দ নিয়ে এত এলার্জি! তাদের কথা হলো- এটা থাকলেই কী, আর না থাকলেই কী? অর্থাৎ, তাদের নিকট এটা থাকা আর না থাকা কোন সমস্যা না। কেন জানেন? কেননা, নারীকে ভোগ্যপন্য বানাতে এর চেয়ে উত্তম উপায় তাদের হাতে মনে হয় আর নেই। নারীর সতীত্ব অপাত্রে বিলিয়ে দেওয়ার মাঝে এই সকল নারীবাদীদের রয়েছে বিশাল মুনাফা! নারীর কাছে যদি ‘কুমারীত্ব’ হারানো বিষয়টি সাধারণ করে তোলা যায়, তবে সে তার ‘কুমারীত্ব’ নিয়ে উদাসীন হবে। আর নারী যখন তার কুমারীত্ব রক্ষায় উদাসীন হবে, তখনই সফল হবে এই নারীবাদী গোষ্ঠী। কেননা, নারীকে ঘিরেই যে তাদের ব্যবসা। নারীকে রাস্তায় নামানো, নগ্ন করে নারীর দেহ প্রদর্শন ইত্যাদিই যে তাদের মুনাফা লাভের উপায়! এই নারীবাদীদের নিকট ‘কুমারী’ শব্দটি কেন সমস্যা, সেটা আসা করি সচেতন পাঠক বুঝতে পেরেছেন।

নারীবাদীরা আরেকটি কথা বলে থাকে যে, কুমারীত্ব শুধু বৈধ সম্পর্কের মাধ্যমেই শেষ হয়না, বরং দুর্ঘটনার কারণেও তা শেষ হতে পারে।

হ্যাঁ, সেটা আমরাও স্বীকার করি। কোন কোন ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার কারণে নারী তার সতীত্ব হারায়, কিন্তু কোন দুর্ঘটনার উপর ভিত্তি করে কি প্রাকৃতিক একটি বিষয়কে অস্বীকার করা যায়!? আরেকটি বিষয় হচ্ছে এই নারীবাদীরা দুর্ঘটনা বলতে কী বুঝাতে চায়..?
বিবাহের আগে যেকোন ঘটনায় কি দুর্ঘটনা! বর্তমান পরিস্থিতে আমাদেরকে দুর্ঘটনারও সংজ্ঞা জেনে নিতে হবে, হয়তো এই নারীবাদীরা কারো সাথে অবৈধ মিলন আর সম্পর্ককেও দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিবে! এটা তো কখনোই দুর্ঘটনা নয়।

আর সত্যিই যদি দুর্ঘটনাবশত কোন সতী নারীর সতীত্ব বা সতীপর্দা নষ্ট হয়ে যায় সেক্ষেত্রে তো ইসলাম উক্ত নারীকে সতীত্বহীন বলেনা বরং ইসলাম তাকেও সতী বা কুমারী নারী বলে থাকে। এরপরেও যদি কোন নারীবাদী এসে কুমারী শব্দটাকে নারীদের জন্য অপমানজনক মনে করে তাহলে বুঝতে হবে কুমারী শব্দ নিয়ে এদের মূল সমস্যা না, বরং এদের সমস্যা নারী তার সতীত্ব রক্ষায় সচেতন হয়ে গেলে নারীবাদীরা মুনাফা হারাবে! ব্যবসায় তারা লসে পড়বে!

সর্বশেষ আমি এটাই বলবো যে, হাইকোর্টের এমন রায় যেন ফ্রী মিক্সিং বা অবাধ যৌনতার বৈধতা দেওয়ারই নামান্তর। হাইকোর্টের এই রায় নারীদের ব্যভিচারের সুযোগ করে দিচ্ছে বা উৎসাহিত করছে। আর, এ রায়ের পেছনে রয়েছে নারীবাদীদের ‘নারী কেন্দ্রিক ব্যবসা’ থেকে বিশাল মুনাফা অর্জনের এক চক্রান্ত।


লেখক: ত্বহা আলী আদনান, প্রতিবেদক, আল-ফিরদাউস নিউজ।

১টি মন্তব্য

  1. এই সব নারীবাদীদের জন্যেই আজ সমাজের এই অবস্থা ওরা চায় শালীনতার নামে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিতে আজ এই হাসিনা তাগুদ সরকার ওরা ও এইটাই চাচ্ছে

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন