কাবুলে মার্কিনীদের “গ্রিন উইল” কম্পাউন্ডে তালেবান হামলা, হতাহত কয়েক শতাধিক ক্রুসেডার!

1
743

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল শহরের নবম সুরক্ষা জোনে দখলদার ও ক্রুসেডার মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনীর “গ্রিন উইল” কম্পাউন্ডে গতকাল রাত দশটার দিকে এক শক্তিশালী ইস্তেশহাদী গাড়ি বোমা হামলার মধ্য দিয়ে ইসলামিক ইমারাতের জানবায তালেবান মুজাহিদগণ সফল ইনগিমাসী হামলা শুরু করেন।

অভিযানটি শুরু করেন শহীদ মুজাহিদ ও লড়াকু এক বীর “মোল্লা আনাস হেলমান্দী” রহিমাহুল্লাহ। যিনি বিস্ফোরক পদার্থ ভর্তি গাড়ি নিয়ে কমপ্লেক্সের প্রবেশপথে পৌঁছেন এবং সেখানেই উক্ত শক্তিশালী ইস্তেশহাদী হামলাটি চালান। ফলে কম্পাউন্ডে দখলদার ক্রুসেডারদের কেন্দ্র এবং ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়, সাথে দুর্গের প্রবেশদ্বারটির সুরক্ষা বাধও একেবারে ধ্বংস হয়ে যায়। এতে বাহিরে অপেক্ষারত মুজাহিদদের জন্য কম্পাউন্ডে প্রবেশের পথ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। মুজাহিদগণ বিস্ফোরণের পরপরই হামলার জন্য কম্পাউন্ডে ঢুকে পড়েন।

ইসলামী ইমারাতের মাত্র ৫ জন ইস্তেশহাদী ব্যাটালিয়ন এর মুজাহিদ এই অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। অংশগ্রহণকারী মুজাহিদগণ হলেন- মোল্লা আনাস হেলমান্দী, মায়দান-ওয়ার্দাকের “মুজতবী”, গজনীর মোহাম্মদ, পাকতিয়ার হাফিজ আহমেদ এবং কাবুলের ইব্রাহিম।

মোল্লা আনাস হেলমান্দী রহ. এর গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের পরে, বাকি ৪ জন মুজাহিদ (মুজতবা, মোহাম্মদ, আহমেদ এবং ইব্রাহিম) তাঁদের হালকা ও ভারী অস্ত্র এবং গ্রেনেড নিয়ে কম্পাউন্ডের ভেতর ঢুকে পড়ে অবশিষ্ট দখলদার ক্রুসেডার মার্কিন বাহিনী ও তাদের এজেন্টদের সাথে তীব্র লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন। উক্ত ৪ জন বীর মুজাহিদ ভোর অবধি ক্রুসেডার ও তাদের গোলাম আফগান বাহিনীর উপর আক্রমণ অব্যাহত রাখেন।

গ্রিন উইল কমপ্লেক্সে ক্রুসেডার ও আফগান মুরতাদ বাহিনীর জন্য ১৮০০টি আবাসিক কক্ষ রয়েছে। এছাড়াও কমপাউন্ডের ভিতর রাজনৈতিক ও সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন গোয়েন্দা কার্যালয়, মদের দোকান, পতিতালয় এবং বিলাসবহুল হোটেলসহ সমস্ত অপকর্মের  ব্যবস্থা ছিল।
এই সুরক্ষিত কম্পাউন্ডটি গোয়েন্দা অধিবেশন, গোয়েন্দা এজেন্ট, ঠিকাদার এবং দখলদার বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ সভা কেন্দ্র ছিল।

কমপ্লেক্সটিতে ৫০০ এরও অধিক বিদেশি দখলদার ক্রুসেডাররা তাদের বসতি স্থাপন করেছিল, যেখানে মুজাহিদদের পরিচালিত কয়েক ঘন্টা ধরে চলমান শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও সশস্ত্র সংঘর্ষের ফলে কয়েক ডজন ক্রুসেডার নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে আরো অনেক ।

এটি লক্ষ্য করা উচিত যে, দখলদাররা এই ধরণের আক্রমণে সর্বদা তাদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে চুপ থাকে, এমনকি ক্লায়েন্ট সেনাবাহিনীর সাংবাদিক এবং সৈন্যদেরও এই সংঘর্ষের স্থানে যেতে দেয়নি। এমনটি করে থাকে তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রকাশ হয়ে যাবার ভয়ে, কেননা তালেবানদের এসকল বড় বড় অভিযানগুলো অন্যান্য ক্রুসেডারদের উপরেও বড় ধরণের প্রভাব ফেলে এবং বহিঃবিশ্বে নিজেদের বীরত্বের কাল্পনিক মূর্তিটি প্রকাশ হয়ে যায়।

তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান যে, হামলা চালাকালীন মুহূর্তে একজন মুজাহিদ ঘটনাস্থল থেকে জানান, “গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের ফলে প্রচুর সংখ্যক দখলদারের লাশ কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। আর, বর্তমানে বাকি দখলদারদেরকে হত্যা করতে ব্যস্ত আমরা, এখনো বেচেঁ থাকা ক্রুসেডাররা ভিতরে মৃত্যুর ভয়ে প্রচণ্ড আওয়াজে চিৎকার করছে।’’ এছাড়াও মুজাহিদদের তীব্র হামলার ফলে কম্পাউন্ডের অনেক ভবন ধ্বসে পড়ে এবং ধ্বংস ও পুড়ে যায় তাদের অনেক সামরিকযান ও গাড়ি।

আন-অফিসিয়াল একটি সংবাদ মাধ্যম জানায় যে, মুজাহিদদের উক্ত সফল অপারেশনের ফলে ২শতাধিক ক্রুসেডার হতাহত হয়েছে।

অপারেশন এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, আমরা ইতিমধ্যে উল্লেখ করেছি যে, আমেরিকান দখলদার বাহিনী এবং অভ্যন্তরীণ এজেন্টরা আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরস্ত্র বেসামরিক লোকদের বিরুদ্ধে রাতে অভিযান চালায়, তারা বর্বরোচিত বোমা হামলা বাড়িয়েছে। আর যখন ইসলামিক ইমারাত এই ধরণের নৃশংস অভিযান বন্ধ করতে বলেছিল; শত্রুরা ভেবেছিল যে, এটি মুজাহিদদের দুর্বলতা। তাই দখলদার ও আফগান পুতুল সেনারা আগ্রাসন ও হত্যা বৃদ্ধি করেছে।
যেহেতু ইসলামি ইমারাত তার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, তাই অবশ্যই তাদের রক্ষা করতে হবে এবং শত্রু সংবেদনশীল পয়েন্টগুলিতে এ জাতীয় শক্তিশালী আক্রমণ করার পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে শত্রু বুঝতে পারে যে তাদের কর্ম কোন প্রতিক্রিয়া ছাড়াই চলবে না। আর তারা আফগানিস্তান জুড়ে যেখানেই নারী, শিশু এবং জনসাধারণকে হত্যা করবে, সেখানেই তাদের অপরাধের জন্য তাদের দায়বদ্ধতা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

১টি মন্তব্য

  1. […] সম্পূর্ণ নিউজটি পড়ুন এখানে-  কাবুলে মার্কিনীদের “গ্রিন উইল” কম্পা… […]

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন