নুসরাতের নেকাব খুলিয়ে ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয় ওসি মোয়াজ্জেম, এখনো চলছে বিচার

1
414

১১ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে হত্যা ও আপত্তিকর ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার মামলায় ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে নুসরাতের মা ও ভাই আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

নুসরাত জাহান রাফির মা শিরিন আক্তার আদালতকে বলেন, ‘ফেনীর সোনাগাজী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা আমার মেয়ে নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানি করে। সেই ঘটনায় মামলা করার জন্য গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানাতে যাই। আমি এবং আমার ছেলেকে ওসির কক্ষে ঢুকতে না দিয়ে আমার মেয়ে নুসরাত জাহান রাফির বক্তব্য নেয় সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। ওসি মোয়াজ্জেম আমার মেয়ের মেকআপ (নেকাব) খুলিয়ে নিজের মোবাইল দিয়ে ভিডিও করে। ওসির কক্ষ থেকে বের হওয়ার পর নুসরাত এই কথা বলে অনেক কান্নাকাটি করে।’

শিরিন আক্তার আদালতকে বলেন, ‘মেয়েকে শ্লীলতাহানি করায় আমি বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে সোনাগাজী থানায় মামলা করি। এই মামলার পর গত ৬ এপ্রিল যে সময় নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়া হয় তার ৩০ মিনিট পর ওসি মোয়াজ্জেম সেই ভিডিও মিডিয়ায় ছেড়ে দেয়।’

শিরিন আক্তারের জবানবন্দি রেকর্ড শেষ হলে তাঁকে জেরা করেন মোয়াজ্জেম হোসেনের আইনজীবী ফারুক আহমেদ। জেরার জবাবে শিরিন আক্তার আদালতকে বলেন, ‘নুসরাতের ভিডিও যখন ওসি মোয়াজ্জেম রেকর্ড করেন তখন তাঁর রুমে আর কে কে ছিল, তা আমি জানি না। কারণ আমি তখন ওই রুমে ছিলাম না। আমাকে ওই রুমে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।’

আসামিপক্ষের আইনজীবীর আরেক প্রশ্নের জবাবে নুসরাতের মা বলেন, ‘মোয়াজ্জেম হোসেন আমার মেয়ের যে ভিডিও করেছিল, তা সারা বিশ্ব দেখেছে। এই ভিডিও ছেড়ে দেওয়ায় আমি ভীষণ কষ্ট পেয়েছি।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় সাক্ষ্য দেন ফেনীর সোনাগাজীর নিহত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহানের মা ও ছোট ভাই। নুসরাত জাহান রাফির ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান আদালতকে বলেন, ‘মামলা করতে যাওয়ার পর ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন তাঁদের তাঁর রুমে ঢুকতে দেয়নি। আমার বোনকে ভিডিও করার নামে আপত্তিকর প্রশ্ন করেছে। নেকাব খুলে ভিডিও করায় আমার বোন ওসির রুম থেকে বেরিয়ে অনেক কান্নাকাটি করেছিল। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করার পর আমাদের কোনো প্রকারের নিরাপত্তা দেয়নি ওসি। যদি ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন আমার বোনকে নিরাপত্তা দিত, তাহলে হয়তো আমার বোন এইভাবে মারা যেত না।’

গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদ্রাসার ছাদে ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহানের শরীরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর ১০ দিন আগে নুসরাত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান। থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন সে সময় নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করে এবং তা ভিডিও করে ছড়িয়ে দেয়।

সুত্রঃ প্রথম আলো

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন