সন্ত্রাসী আমেরিকা শান্তি চায় না!

0
587

অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে তালেবান গত মাস হতে তাদের অভিযানগুলোতে নতুনত্ব ও তীব্রতা বাড়িয়েছেন, যা ক্রুসেডার আমেরিকা ও তাদের গোলাম আফগান বাহিনীর হৃদয়ে ভীতির সঞ্চার করেছে।

বিশেষ করে যখন আমেরিকা ও তালেবানদের মাঝে চুক্তির একটি খসড়া স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছিল, যেখানে আমেরিকা আগামী ১৫ সপ্তাহের মধ্যে তাদের ৫৪০০ সন্ত্রাসী সেনাকে আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছিল। কিন্তু তালেবান যোদ্ধারা আমেরিকার এই চুক্তিকে ভালো দৃষ্টিতে দেখেননি, কারণ তারা চাচ্ছেন কোন মার্কিন দখলদার সেনাই যেন আফগানিস্তানে না থাকে। এই খসড়া চুক্তির বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর পরই মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনীর উপর বেশ কয়েকটি সফল অভিযান চালিয়েছেন তালেবান মুজাহিদগণ, যাতে অনেক মার্কিন সেনা হতাহত হয়।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রসিডেন্ট ট্রাম্প তার এক টুইট বার্তায় তালেবানদের সাথে চলা গত ১০ মাসের আলোচনার পরিসমাপ্তি টানে। কারণ হিসাবে ট্রাম্প কাবুলে মার্কিন কম্পাউন্ডে তালেবান হামলাকে দায়ী করে। কিন্তু বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখছেন।

তারা মনে করেন- কাবুলে তালেবান হামলা ট্রাম্পের এরূপ সিদ্ধান্তের মূল কারণ নয়, বরং ক্যাম্প ডেভিডে অংশগ্রহণে ও স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া খসড়া চুক্তিটি হতে ইসলামিক ইমারত শব্দ উঠিয়ে নিতে তালেবানদের অস্বীকৃতি জানানোই হচ্ছে তার মূল কারণ।

তালেবান স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছিল যে, তাঁরা অন্যকোথাও চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে বসবেন না। তালেবান প্রতিনিধিরা মনে করেন এর মাধ্যমে তালেবানদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে। যেমনটি ওয়াশিংটন পোস্ট কূটনৈতিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্তব্য করেছে, ট্রাম্প চেয়েছিলো যে, “মুখোমুখি বৈঠকের মাধ্যমে তালেবান ও আফগান পুতুল সরকারকে নিজের মত করে একটি চুক্তি স্বাক্ষরে রাজি করাতে”। কিন্তু দীর্ঘ যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দূরদর্শী তালেবান প্রতিনিধিরা এই বিষয়টি বুঝতে ভুল করেননি। তাই তালেবান প্রতিনিধিরা দোহায় তালেবান অফিসে চলমান বৈঠকেই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি সামাপ্ত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক্ষেত্রে তার চিরাচরিত সন্ত্রাসী আচরণ করলো। চুক্তি বাতিলের মাধ্যমে সে বিশ্ববাসীর আবারো সুস্পষ্ট করে দিলো যে, শান্তি প্রতিষ্ঠার আড়ালে সন্ত্রাস চালিয়ে যাওয়া আমেরিকা আসলে শান্তি চায় না।

এদিকে গত ৫ই সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের উক্ত টুইট বার্তার মাত্র ৪ ঘন্টা পরেই একটি বিবৃতি প্রকাশ করার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানায় তালেবান। যেখানে তালেবানদের পক্ষ হতে বলা হয়- শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণকারী মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে আমাদের আলোচনা ছিল ফলপ্রসু। একটি বিষয়ের উপর চুক্তি চূড়ান্তও হয়ে গিয়েছিল । মার্কিন কর্তৃপক্ষ গতকালও  আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট ছিল, উভয় পক্ষ চুক্তির ঘোষণা এবং স্বাক্ষরপ্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিল । চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর এবং ঘোষণার পর আমাদের মাঝে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, আগামী ২৩শে সেপ্টেম্বর আমরা আন্তঃআফগান আলোচনা শুরু করবো । প্রতিবেশী দেশসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিষয়টিকে সমর্থন করেছিল ।

কিন্তু বৃহস্পতিবার এক টুইট বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইমারতে ইসলামিয়ার সাথে শান্তি আলোচনা বাতিল ঘোষণা করে , অথচ এর ফলে আমেরিকাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং হবে । কারণ এর মাধ্যমে তারা বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে । আমেরিকার শান্তিপ্রক্রিয়াবিরোধী চেহারা বিশ্বের সামনে আরও পরিষ্কার হয়ে গেছে । ট্রাম্পের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ সিদ্ধান্তের কারণে আমেরিকার জানমালের ক্ষয়ক্ষতি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা মুখ থুবড়ে পড়বে ।

চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরের কয়েকদিন পূর্বে তালেবানদের একটি মাত্র হামলার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে শান্তি আলোচনা বাতিল করে ট্রাম্প, যা খুবই প্রজ্ঞাবিরোধী । অথচ তালেবান কর্তৃক উক্ত হামলার সামান্য পূর্বেও মার্কিন ও আফগান পুতুল সেনারা একাধিক হামলা চালিয়ে অসংখ্য আফগান নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিককে শহীদ করেছে এবং তাদের সহায় সম্পদ ধ্বংস করে দিয়েছে ।

শান্তি আলোচনা জারি রাখার মাধ্যমে ইমরাতে ইসলামিয়া বিশ্বের সামনে প্রমাণ করেছে যে, সাম্রাজ্যবাদীশক্তি আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে । আমেরিকা যদি যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনা ও সমঝোতার পন্থা অবলম্বন করে, তাহলে আমরা শেষ পর্যন্ত আলোচনা চালিয়ে যাবো ।

ইমারাতে ইসলামিয়া তার অবস্থানে দৃঢ় এবং সুস্থির । আমরা বিশ বছর পূর্বেও পারস্পরিক আলোচনার কথা বলেছিলাম, আমাদের সে অবস্থান আজও অপরিবর্তিত । আমরা বিশ্বাস করি, আমেরিকা নিজেই পুনরায় আলোচনার পথে আসতে বাধ্য হবে ।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের জন্য আগস্ট মাসের শেষের দিকে ড. জালমি খলিলজাদ আমাদেরকে আমন্ত্রণ জানায় । আমরা তখন চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া পর্যন্ত সফরকে স্থগিত করে দিয়েছিলাম।

আমাদের আঠারো বছরের সশস্ত্র জিহাদ আমেরিকাকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, যতক্ষণ আমাদের ভূমির ওপর থেকে পরিপূর্ণরূপে দখলদারিত্বের অবসান না হবে এবং আফগানদেরকে তাদের মর্জির ওপর ছেড়ে দেওয়া না হবে, ততক্ষণ আমরা কোনো আপোষ করব না। আমরা আমাদের জিহাদ জারি রাখব, যতক্ষণ না বিজয় অর্জিত হয়। আর চূড়ান্ত বিজয় আমাদেরই হবে এ ব্যাপারে আমরা সুনিশ্চিত বিশ্বাস রাখি । ইনশাআল্লাহ ।

এর আগে মোল্লা ব্রাদার হাফিজাহুল্লাহ্ বলেছিলেন-

“সে পালাবে নয়তো বাধ্য করা হবে”। যদি নিজের থেকে বের না হও তাহলে আমরাই বের করবো,  তৃতীয় কোন অপশন থাকবেনা।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন