ভারতের কোনো রাজ্যেই বিদেশির স্থান নেই: ভারতের গেরুয়া হিন্দুত্ববাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

0
383

শুধু আসাম নয়, ভারতের কোনো রাজ্যে একজন বিদেশিরও স্থান হবে না। সব জায়গা থেকে অবৈধ অভিবাসীকে উচ্ছেদ করা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় গেরুয়া হিন্দু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ সোমবার উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে আরও একবার এই কথা বলল।

গতকাল রোববার দুই দিনের সফরে নর্থ ইস্টার্ন কাউন্সিলের বৈঠকে যোগ দিতে আসাম আসে অমিত শাহ। আসামের জাতীয় নাগরিক পঞ্জি তালিকা (এনআরসি) প্রকাশের পর এই তার প্রথম আসাম সফর। গতকালই এই হিন্দুত্ববাদী নেতা বলেছে, কোনো অবৈধ অভিবাসীকে এ দেশে থাকতে দেওয়া হবে না। সোমবার এই নেতা এক ধাপ এগিয়ে বলেছে ‘ছোট রাজ্যগুলোর ধারণা, আসাম থেকে তাড়া খেয়ে অবৈধ অভিবাসীরা ওই সব রাজ্যে ঘাঁটি গাড়ছে। কিন্তু আমরা তা হতে দেব না। আমরা গোটা দেশকেই অনুপ্রবেশকারীমুক্ত করতে বদ্ধপরিকর।’

অমিত শাহ বলেছে, ‘আমাদের একটা পরিকল্পনা রয়েছে। সব রাজ্যের সঙ্গে কথা বলে তাদের সাহায্যে আমরা সেই পরিকল্পনা কায়েম করব।’

নর্থ ইস্টার্ন কাউন্সিলের সদস্য দেশের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো। আসামের লাগোয়া রাজ্য মেঘালয়ের আশঙ্কা, আসাম থেকে তাড়া খেয়ে বহু অবৈধ অভিবাসী ওখানে গিয়ে ঠাঁই নিয়েছেন। কাউন্সিলের বৈঠকে সেই আশঙ্কা পুরোপুরি দূর করে দিয়ে হিন্দুত্ববাদী গেরুয়া সন্ত্রাসী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছে, ‘আমরা তা কিছুতেই হতে দেব না। গোটা দেশকেই আমরা অনুপ্রবেশকারী মুক্ত করব। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতি।’

নাগরিকত্ব বিলে সংশোধন এনে বিজেপি সরকার চাইছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে চলে আসা অমুসলিম সম্প্রদায়দের ভারতীয় নাগরিকত্ব দিতে। আসামের বহু মানুষের ধারণা, আসামে অনাগরিক হিসেবে চিহ্নিত হওয়া হিন্দুদের বিজেপি ওই প্রক্রিয়ায় ভারতীয় নাগরিক বলে গণ্য করবে। তেমন হলে শুধু মাত্র মুসলমান অনাগরিকরাই অবৈধ অভিবাসী বলে গণ্য হবেন।

বিজেপি সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভায় অমিত শাহসহ অন্য নেতারা অবৈধ অভিবাসীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ওপর জোর দিত। গুয়াহাটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এসে অমিত শাহ কিন্তু একবারের জন্যও অবৈধ অভিবাসীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কথা উল্লেখ করেনি। স্পষ্টতই, কূটনৈতিক জটিলতা এড়ানোই ছিল লক্ষ্য। বিশেষত, ভারতের তাবেদার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী মাসের গোড়ায় যখন দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে আসছে। বাংলাদেশকে ভারতও একাধিকবার জানিয়েছে, আসামের এনআরসি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। গত মাসে ঢাকা সফরে গিয়ে একই কথা বলে এসেছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

সুত্রঃ প্রথম আলো

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন