বাবা ও কল্কির নেশায় ভাসছে তরুণরা, প্রতিরোধে নেই কোন উদ্যোগ

0
394

নদীবেষ্টিত উপজেলা কেরানীগঞ্জে রাতের আঁধার নেমে আসতেই নেশার ভুবনের বাসিন্দা হওয়ার জন্য উতলা হয়ে ওঠে অনেক তরুণ। তারা বিভিন্ন মাদক আস্তানায় গিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে, বাবা আছে? ফেনু আছে? কল্কি আছে? ‘বাবা’ মানে ইয়াবা। ফেনসিডিলের সাংকেতিক নাম ‘ফেনু’। গাঁজা বোঝানোর জন্য বলা হয় ‘কল্কি’।

কলেজ পড়ুয়া-কিশোর থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়সীরা পর্যন্ত নেশার জালে জড়িয়ে গেছেন। তাই চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন অভিভাবকসহ সচেতন মানুষ। কেরানীগঞ্জে ১২টি ইউনিয়ন।

দেশের বিভিন্ন স্থানের চেয়ে এ অঞ্চলে ইয়াবার একচেটিয়া মার্কেট তৈরি হয়েছে বলে মাদক ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে। এ অঞ্চলের উপজেলা থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জে এই মরণ নেশা এখন অনায়াসে পাওয়া যাচ্ছে। পাঁচ-ছয় বছর আগে এ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফেনসিডিলের রমরমা বাণিজ্য ছিল। উপজেলার জায়গা হয়ে ভারতীয় ফেনসিডিল এখানকার বাজারে পৌঁছত। তখন ইয়াবার নাম অনেকেরই জানা ছিল না। মাদক ব্যবসায়ীরা আরও জানান, এ উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে প্রতি মাসে ১০ লাখ পিস ইয়াবার চাহিদা রয়েছে। ইদানীং সেটা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে।

কেরানীগঞ্জের মাদক স্পটে নিয়মিতভাবে ইয়াবাসহ নানা মাদক কেনাবেচা হয়। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য প্রতিদিন মাদক বিক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চলে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে। গতকাল আগানগর গিয়ে দেখা যায়, ছোট-বড় দালানবাড়ির মাঝে কিছু নিরিবিলি জায়গায় গাছপালা আর ঝোপঝাড়। তার মাঝেই অবস্থান করছিল ১০-১২ জন তরুণ। হাতে তাদের ইয়াবা ও ফেনসিডিল। একটু পরপর সেখানে আনাগোনা বাড়ছিল। আবার মোটরসাইকেল বা হেঁটে অনেককে সেখানে যাওয়া-আসা করতে দেখা যায়। কেউ ঝোপের আড়ালে কেউবা প্রকাশ্যেই সেখানে মাদকের পসরা বসিয়েছিল। এ যেন মাদকের হাট।

প্রতিরোধের অভাবের কারনেই মাদক দূর হচ্ছে না এটি একটি পুরনো কথা। আর জনগণের টাকায় পরিচালিত প্রশাসন সেটিকে যেন নতুন বেগ দিয়েছে। ঘুষের বিনিময়ে এসব অপরাধ চলমান রাখা কবে যে শেষ হবে সেটিও জানে না সাধারণ মানুষ।

সুত্রঃ বিডি প্রতিদিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন