উগ্র হিন্দুত্ববাদী যোগী আদিত্যনাথের রোষানলে বিনা অপরাধে নয় মাস জেল খাটল ভারতীয় মুসলিম চিকিৎসক

0
191

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ভারতের উত্তর প্রদেশের গোরক্ষপুর বাবা রাঘব দাস মেডিক্যাল কলেজে (বিআরডি হাসপাতালে) একদিনে মারা গিয়েছিল ৬০ জনের বেশি শিশু। অক্সিজেনের অভাবে ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানাজানি হতেই শোরগোল ওঠে দেশজুড়ে। উত্তরপ্রদেশের মুসলিম বিদ্বেষী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ক্ষমতায় আসার চার মাসের মাথায় এই ঘটনা ঘটে। চরম মুসলিম বিদ্বেষী হওয়ায় ঘটনার কোন তদন্ত ছাড়াই যোগী আদিত্যনাথ ওই হাসপাতালের মুসলিম চিকিৎসক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কাফিল খানকে বরখাস্ত করে। কিছুদিন পর তাকে গ্রেপ্তার করে নয় মাসের জন্য জেল হেফাজতেও পাঠায় হিন্দুত্ববাদী মালাউন প্রশাসন।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় টেন্ডার দুর্নীতি, কাজে ফাঁকি, প্রাইভেট প্র্যাকটিস ও চিকিৎসায় গাফিলতির। মূলত তিনি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের আক্রোশের শিকার।

যদিও আগস্টের ১০ তারিখ থেকে ওই হাসপাতালে ৫৪ ঘণ্টা যে অক্সিজেন ছিল না তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না করায় নিজের টাকা খরচ করেই রোগীদের জন্য সিলিন্ডার এনেছিলেন ডা. কাফিল। যার জন্য সারা দেশের মানুষ তাকে প্রশংসায় ভাসিয়েছিল; কিন্তু কয়েকদিন পরেই উল্টো ওই ঘটনায় তার দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে উত্তর প্রদেশের হিন্দুত্ববাদী সরকার। নায়ক থেকে খলনায়ক বানিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় এই চিকিৎসককে। এরপর এই ঘটনায় সিবিআই তদন্ত দাবি করেন কাফিল খান।

বিভাগীয় তদন্তের দায়িত্বে থাকা স্ট্যাম্প ও রেজিস্ট্রেশন দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি হিমাংশু কুমার ১৫ পাতার একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। তাতে সে উল্লেখ করেছে, ডা. কাফিলের বিরুদ্ধে ওঠা চারটি অভিযোগের একটিও প্রমাণিত হয়নি। বরং ওই বিপর্যয়ের সময় সবথেকে বেশি অবস্থা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। দুর্নীতি, কাজে ফাঁকি, প্রাইভেট প্র্যাকটিস ও চিকিৎসায় গাফিলতি নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলির কোনও প্রমাণ মেলেনি। এমনকী ওই বিপর্যয়ের সময় বাইরে থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে আসার আগে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্কটের বিষয়টি তিনি জানিয়েছিলেন। কিন্তু, কেউ কোনও গুরুত্ব দেয়নি।

ওই তদন্ত রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুমৃত্যুর ঘটনার অনেক আগেই ২০১৬ সালে প্রাইভেট প্র্যাকটিসও বন্ধ করে দিয়েছিলেন কাফিল খান। সরকারি হাসপাতালের দায়িত্বে থাকার সময় প্র্যাকটিসও করেননি। এমনকী যে এনসেফালাইটিস বিভাগে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল। তার দায়িত্বেও তিনি ছিলেন না। তা সত্ত্বেও তার দিকে অযথা আঙুল তোলা হচ্ছে।

তদন্ত রিপোর্টে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর কাফিল খান বলেন, ‘আমি সবসময় জানতাম যে আমি কোনও ভুল করি নি। সেই দুর্ভাগ্যজনক দিনে, একজন চিকিৎসক, পিতা এবং একজন সাধারণ ভারতীয় মুসলিম হিসাবে আমার যা করণীয় থাকতে পারে তাই করেছিলাম; কিন্তু তারপরেও শিশুমৃত্যুর অভিযোগে আমাকে জেলে আটকানো হয়েছিল।

কাফিল খান আরও বলেন যে, ‘আমার পরিবারকে পর্যন্ত ব্যাপক হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল এবং আমাকে আমার চাকরি থেকে বরখাস্তও করা হয়। আজ আমি খুব খুশি। দুই বছর বাদে আমার পুরো পরিবারের জন্য সত্যি এটা খুব ভাল খবর। ৯০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্ত, তা প্রকাশ পেতে দু’বছর লেগে গেল। এর জন্য এতদিন ধরে আমাকে খুনির তকমা নিয়ে চলতে হত। আশাকরি এবার সেটা মুছে যাবে। তবে যতক্ষণ না এই ঘটনার পিছনে থাকা অপরাধীরা শাস্তি না পাচ্ছে, ততদিন শান্তি পাব না।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের উচিত ক্ষমা চাওয়া, ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা এবং ঘটনাটি সিবিআইয়ের তদন্ত করা।

সূত্র: ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন