কাশ্মীরকে পশ্চিম তীর বানিয়ে ভারত কি ইসরাইলের নীতি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে?

0
362

ভারত জবরদখলকৃত – কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের প্রায় দুই মাস পর নয়া দিল্লির পরবর্তী পদক্ষেপ হলো জবরদখলকৃত ভূখণ্ডটি পুরোপুরি ভারতীয় ইউনিয়নে আত্মস্ত করা। ভারতীয় মালাউন নাগরিকরা যাতে সম্পত্তি ক্রয় করতে পারে, ভোট দিতে পারে, স্থায়ীভাবে বিরোধপূর্ণ রাজ্যে বসবাস করতে পারে, সেজন্য এর প্রয়োজন ছিল।

গত ৫ আগস্ট জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর রিঅর্গ্যানাইজেশন অ্যাক্ট পাসের মাধ্যমে ওই কাজটি করা হয়েছে। এর দুই মাস পরও এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না যে ভারত সরকার ওই পদক্ষেপ বাতিল করতে যাচ্ছে। বিপরীতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জোর দিয়ে বলেছে যে ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপ হবে আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিট-বাল্টিস্তানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।

ভারত যাতে তার নিয়ন্ত্রণে থাকা কাশ্মীর বিষয়ক পদক্ষেপটি থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়, সেজন্য পাকিস্তান বা বিশ্বের পক্ষ থেকে কিছু বিবৃতি, বক্তৃতা আর বিক্ষোভ ছাড়া কিছুই হয়নি। গ্রেফতার করা শিশুসহ হাজার হাজার লোককে মুক্তি দেয়নি নয়া দিল্লি, কারফিউ প্রত্যাহার করেনি, যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করেনি। হায়দরাবাদ ডেকান, জুনাগড়, গোয়া ও অধিকৃত সিয়াচেন দখলের মতো করে ভারত এখন পরিকল্পিতভাবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীর উপত্যকার জনমিতিক ভারসাম্য বদলে ফেলছে।

কাশ্মীর যদি ভারতের পশ্চিম তীর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, তবে তার অর্থ হবে এই যে সে ইসরাইলের ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ ও জবর দখলকৃত ভূমির বড় অংশ নিজের দখলে নেয়ার নীতিই বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় ইসরাইল দখল করে নেয় জেরুসালেমসহ ফিলিস্তিনি ভূমি পশ্চিম তীর।জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৪২ ও ৩৩৮ নম্বর প্রস্তাবে পশ্চিম তীরসহ আরব অধিকৃত ভূমি থেকে ইসরাইলকে প্রত্যাহার করতে বলা হয়। কিন্তু ইসরাইল তা মানেনি। উল্টা আল আকসা মসজিদসহ পূর্ব জেরুসালেমও নিজের মধ্যে একীভূত করে নিয়েছে। তাছাড়া তেল আবিব থেকে রাজধানী সরিয়ে জেরুসালেমে নিয়ে এসেছে। ইসরাইল জাতিসংঘ প্রস্তাব লঙ্ঘন করে ইহুদি জনসংখ্যার অনুকূলে অধিকৃত এলাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য ইহুদি বসতি স্থাপন করে চলেছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি বলেছে, সে পুনঃনির্বাচিত হলে পশ্চিম তীরের একটি বড় অংশ একীভূত করে নেবে। ইসরাইল পশ্চিম তীরের ব্যাপারে যে নীতি অনুসরণ করছে, কাশ্মীরের বেলাতেও একই নীতি অনুসরণ করছে ভারত।

ভারত ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সেখানে অন্তত ৫০ লাখ লোকের বসতি স্থাপন করা হবে। ফলে ৮০ লাখ মুসলিম কাশ্মীরী হয় বাস্তুচ্যুত হবে নয়তো সীমান্তের ওপারের কাশ্মীরে চলে যেতে হবে তাদেরকে। উপত্যকাটি অমুসলিম জনপদে পরিণত হবে।

কাশ্মীরে কি ইসরাইলের পশ্চিম তীর মডেল ফলপ্রসূ হবে? মোদি সরকার এ ব্যাপারে কেন এত আত্মবিশ্বাসী হলো? গত দুই মাসে ভারতের কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক ক্ষতি হয়েছে? কাশ্মীর প্রশ্নে পাকিস্তান যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার সবই ব্যর্থ হয়ে গেছে।

পাকিস্তান অনেক উদ্যোগ নিলেও সেগুলো তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি।

প্রথমত, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ভারতের ওই পদক্ষেপ বাতিল করার জন্য কোনো প্রস্তাব পাস করেনি। এমনকি কাশ্মীরে ভারতীয় মালাউন সন্ত্রাসী বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়েও জাতিসংঘ তেমন কোনো চাপ সৃষ্টি করেনি।

দ্বিতীয়ত, বিশ্বজুড়ে বিবৃতি ও প্রতিবাদ জানানো ছাড়া আর তেমন কিছুই করা হয়নি। ফলে ৫ আগস্টের পদক্ষেপ থেকে সরে যাওয়ার কোনো গরজ অনুভব করেনি মোদি সরকার।

এমন এক পরিস্থিতি মোদি সরকার তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাবে। তাছাড়া গণআন্দোলন বানচাল করার জন্যও কৌশল গ্রহণ করবে ভারত।

এখন পর্যন্ত বিজেপি সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ভারতেও তেমন কোনো সমালোচনা হয়নি। আবার ভারতের নিরাপত্তা ইস্টাবলিশমেন্ট ও এর রাজতৈতিক মিত্ররা মনে করে, ভারতকে সামরিকভাবে চ্যালেঞ্জ করার মতো অবস্থায় নেই পাকিস্তান। ভারত সরকার পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সঙ্কট এবং মুসলিম লিগ ও পিপিপি সাথে বর্তমান সরকারের সঙ্ঘাতের বিষয়টিও জানে। এছাড়া পিটিআই সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করার জন্য জেইউআই-এফ প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানের সমাবেশে বিরোধী অন্যান্য দলও যোগ দিতে পারার আশঙ্কায় সরকার যে নাজুক অবস্থায় আছে, তাও ভারত অবগত আছে।

আবার স্রেফ স্লোগানের ওপর ভিত্তি করে কোনো জাতীয় মুক্তি আন্দোলন সফল না। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সহযোগিতায় কাশ্মীর অধিকার বৈধ করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী মালাউন মোদি সরকার।

   সূত্র: দি এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন