আফগানে আমেরিকার গোলাম সরকারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বানচাল করে দিয়েছেন তালেবান মুজাহিদীন!

1
660

আফগানিস্তানের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় নির্বাচনের নামে বসানো হয়েছে কিছু চেয়ার টেবিল। অনুষ্ঠিত হচ্ছে জনগণবিহীন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন! আজ শনিবার লোক দেখানো এই  কুফরি নির্বাচনকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা। দেশ জুড়ে অর্থাৎ কিছু কিছু স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে সামরিক বাহিনীর ৩ লাখ সদস্য। নির্বাচন কমিশনের অধীনে পর্যবেক্ষণের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে আরো ১ লাখ পর্যবেক্ষক। কিন্তু এত কিছুর পরেও ভোট কেন্দ্রে দেখা মিলছেনা আফগান ভোটারদের। খোদ রাজধানী কাবুলের ভোট কেন্দ্রগুলোতেও দেখা মিলছেনা ভোটারদের!

এদিকে বায়োমেট্রিক মেশিনগুলো ছাড়াই ভোট কেন্দ্রে পাঠাতে হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদেরকে। বলা হয়েছিল এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতেই অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু তা সফল হতে দেননি আফগান তালেবান মুজাহিদীন। নির্বাচনের আগের দিন রাতে পুরো আফগানকে অন্ধকারের মধ্য দিয়েই রাত কাটাতে হয়, কেননা বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর প্রতি তালেবান নেতৃত্বাধীন আফগানিস্তান ইসলামী ইমারতের নির্দেশ ছিল বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ রাখার। তাই ইসলামী ইমারতের মুহতারাম উমারাগণের কথা মত পুরো আফগানই ছিল (এখনো আছে) বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায়। যেখানে তালেবানদের পক্ষে বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি, সেসকল স্থানের বিদ্যুৎ সংযোগের লাইনগুলো কেটে দেন তালেবান মুজাহিদীন। যার থেকে বাদ যায়নি আফগান পুতুল সরকারের ক্ষমতার প্রাণকেন্দ্র রাজধানী কাবুলও।

শুধু এটুকুতেই ক্ষান্ত নয় তালবানদের কর্যক্রম। মুজাহিদীনের নির্দেশে আফগানিস্তানের সকল টেলিযোগাযোগ মাধ্যমগুলো তাদের টেলিযোগাযোগ পরিষেবাও স্থগিত করে দেয়।  কেবল আমেরিকার গোলাম আফগান সরকারের একটি টেলিযোগাযোগ (সালাম টেলিযোগাযোগ মাধ্যম) তাদের কার্যক্রম চালু রাখে, তাও সীমাবদ্ধ ছিল আমেরিকার গোলাম সরকারের নিয়ন্ত্রিত এলাকাতেই। কেননা, আফগানিস্তান ইসলামী ইমারতের মুজাহিদীন অন্যসকল স্থান হতে সালাম টেলিযোগাযোগের সকল অফিস ও টাওয়ারগুলো বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

মুজাহিদীনের এমন কার্যক্রম ছিল ক্রুসেডার আমেরিকা ও আফগান পুতুল সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ, আর তালেবান মুজাহিদীনের এই চ্যালেঞ্জে এখনো হেরেই যাচ্ছে তারা। ইসলামী ইমারতের এই পদক্ষেপ ছিল একদিকে আফগানিস্তানজুড়ে ইসলামী ইমারতের প্রভাব এর বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে ছিল আফগান পুতুল সরকারের দুর্বলতা ও অক্ষমতার জ্বলন্ত প্রমাণ।

এদিকে পুতুল সরকারের নিয়ন্ত্রিত রাজধানী কাবুলের ৭৮টি কেন্দ্রেই পৌঁছাতে পারেনি নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা! নির্বাচনের আগের দিন রাতেই হেলমান্দ ও কান্দাহারে স্থগিত করা হয়েছে প্রায় ৫৩৩টি কেন্দ্রের ভোট। জাবুল, জাওজান ও বাগলানের ৬৬৫টি কেন্দ্রের নির্বাচনও আগের দিন রাতে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে আফগান পুতুল সরকার। বলখ প্রদেশেরও ১৫৬টি কেন্দ্র নির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। আফগানিস্তানের পুরো অবস্থা জানা এখন অনেকটাই অসম্ভব যতক্ষণ না আফগানিস্তান ইসলামী ইমারতের পক্ষ হতে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়।

কাবুলের বাহিরে অন্যান্য প্রদেশে কেমন হচ্ছে কুফরি নির্বাচন, তার সংবাদও জানা নাই নির্বাচন কমিশনারদের। নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কেননা, তাদের কাছে এই খবর নেই যে, কাবুলের বাহিরে নির্বাচন কেমন হচ্ছে বা নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বশীলরা তাদের স্থানে পৌঁছাতে পেরেছে কিনা। কারণ তালেবান মুজাহিদীন আফগানিস্তানজুড়ে সকল মহাসড়কগুলোও ব্লক করে দিয়েছেন, না সেখানে কেউ যেতে পারছে আর না কেউ সেখান থেকে বের হতে পারছে।

প্রকৃতপক্ষে, ক্ষমতাহীন আফগান পুতুল সরকারের তথাকথিত ক্ষমতার প্রতিচ্ছবি এই নির্বাচনেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমেরিকার গোলাম আফগান সরকার আসলে এখন নামমাত্র ‘সরকার’ হিসেবে আফগানে রয়েছে, প্রকৃতপক্ষে আফগানিস্তানে এখন তালেবান নেতৃত্বাধীন ইসলামী ইমারতের ক্ষমতাই সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ।

সর্বশেষ, আমরা শুধু রাজধানী কাবুলের কিছু নির্বাচন কেন্দ্রের চিত্র দেখাচ্ছি। যার থেকে আপনারা পুরো আফগানিস্তানের বর্তমান নির্বাচনের চিত্রটা সহজেই বুঝতে পারবেন বলে আশা করি।

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন