কাবুল প্রশাসনের ব্যর্থ নির্বাচন সম্পর্কে ইসলামী ইমারতের বার্তা !

0
425
ভোটারহীন পরিবেশে নির্বাচনী কেন্দ্রের ভেতরে ঘুমোচ্ছে কাবুল প্রশাসনের এক নির্বাচনী কর্মী!

আফগানিস্তানে গতকাল ২৮শে সেপ্টেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত কথিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বাঞ্চাল করে দিয়েছেন আফগান মুসলিম জনসাধারণ। ইসলামী ইমারতের মুজাহিদগণের বিভিন্ন পদক্ষেপে দেশটির অধিকাংশ অঞ্চলে নির্বাচনের কোন প্রভাবই পড়েনি। আবার, যে অঞ্চলগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল সেখানেও নির্বাচন বয়কট করেছেন আফগান জনগণ। গতকালের কথিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রেক্ষিতে ইসলামী ইমারত আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে একটি বার্তা প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাভাষীদের সুবিধার্থে বার্তাটির বাংলা অনুবাদ নিচে উল্লেখ করা হলো-

বিভ্রান্ত কাবুল প্রশাসনের নির্বাচনী কুচক্রান্তকে সম্পূর্ণরূপে বয়কট এবং ব্যর্থ করে দেওয়ার মাধ্যমে মুসলিম এবং মুজাহিদ আফগান জাতি আবারো দেখিয়েছেন যে, বিদেশীদের দখলদারিত্ব এবং চাওয়া-পাওয়া তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

আজ (২৮শে সেপ্টেম্বর,২০১৯) তাবেদার কাবুল প্রশাসন মেকি বৈধতা পাওয়ার আশায় একটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার আয়োজন করেছে। তবে, আমাদের জাতির অধিকাংশ মানুষ তাদের এই নির্বাচনকে বর্জন করায় তারা ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।

কয়েকটি শহরের অফিসিয়াল সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কিছু গোমরাহ ব্যক্তি ব্যতীত সকল জনগণ এই বিদেশী প্রক্রিয়াকে বর্জন এবং অগ্রাহ্য করেছেন।

নির্যাতিত মুসলিম জাতি ইসলামী ইমারতের আহ্বানে যথার্থভাবে সাড়া দিয়েছেন, নির্বাচন নামের এই চক্রান্তকে বর্জন করেছেন, তাদের মুজাহিদীন ভাইদেরকে ব্যাপকভাবে সহায়তা করেছেন, তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন এবং তাদের পবিত্র বন্ধনকে প্রমাণ করেছেন। এজন্য, ইসলামী ইমারত হৃদয়ের গভীর থেকে সমগ্র মুসলিম জাতিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে।

আরোপিত নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার মাধ্যমে নিচের বিষয়গুলো সুস্পষ্ট হয়-

১. এ জাতির অধিকাংশ মানুষ দখলদারিত্বের অবসান চায় এবং একটি শক্তিশালী ইসলামী সরকারের প্রতিষ্ঠা চায়।

২. কাবুল প্রশাসনের সাথে সম্পৃক্ত ভণ্ড আফগানীদেরকে ‘আত্মপ্রতারণা’র দিন শেষ করতে হবে, ইসলামী আক্বিদা ও এ জাতির চাওয়া-পাওয়া নিয়ে খেলা করা বন্ধ করতে হবে এবং ময়দানের বাস্তবতা উপলব্ধি করে বিদেশীদের দাসত্বকে পরিত্যাগ করতে হবে।

৩. যেহেতু স্বাধীন মিডিয়া এবং অ্যাসেসমেন্ট দলগুলোও ভোটের হার অতি কম বলে নিশ্চিত করেছে, তাই আফগান জাতির এরূপ বয়কট থেকে দখলদার পক্ষের বুঝা উচিত যে, আফগান জাতি কখনোই দখলদারিত্ব বা বিদেশ থেকে আমদানিকৃত কোন প্রক্রিয়া ও কুচক্রান্তকে মেনে নিবে না। এই প্রক্রিয়ায় বিদেশী আগ্রাসীদের অযথা অর্থব্যয়, উদ্দীপনা এবং সময়ের অপচয়ে কোন পক্ষেরই লাভ হবে না। তাই, তাদেরকে এখনো সঙ্কোচ না করে বাস্তবতায় আসতে হবে, দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে হবে, বীর আফগান জাতির চাওয়া-পাওয়াকে মেনে নিতে হবে, এই জাতিকে এর তাকদিরের উপর ছেড়ে দিতে হবে এবং আমাদের মাতৃভূমিতে সকলপ্রকারের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

৪. ইসলামী ইমারতের মুজাহিদীন তাদের জাতির প্রতি আবারো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। আজ এ জাতি সাহসিকতার সাথে দুশমনদের গুরুতর এই চক্রান্তের বিরোধিতা করেছে এবং নিজেদেরকে এ থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে। যদিও দুশমনরা তাদেরকে আর্থিক লোভ দেখিয়েছে, প্রচারণা চালিয়েছে, উৎসাহ দিয়েছে এবং অন্যান্য চক্রান্ত করেছে। বাদাখশান থেকে উরুজগান, হেরাত থেকে নানগারহার, কুন্দুজ থেকে বলখ এবং কান্দাহার থেকে পাকতিয়া পর্যন্ত সর্বদিক থেকে সমগ্র জাতি তাদের মুজাহিদীন ভাইদের অনুরোধ সর্বসম্মতিক্রমে মেনে চলেছে, আর দুশমনদের এক বিশাল চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দিয়েছে।

ইসলামী ইমারত আফগানিস্তান

২৯/০১/১৪৪১ হিজরী চন্দ্রবর্ষ

০৬/০৭/১৩৯৮ হিজরী সৌরবর্ষ           ২৮/০৯/২০১৯ ঈসায়ী

 

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন