আফগান প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও বাস্তবতা

0
402

আফগানিস্তানে কথিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু ইমারতে ইসলামিয়ার তালেবান মুজাহিদগণের প্রজ্ঞাপূর্ণ পদক্ষেপ এবং আফগান মুসলিম জাতির ইসলাম ও মুজাহিদ প্রেমের কারণে তা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়ে যায়। জানা যায় যে, আফগানিস্তানের সিংহভাগ অঞ্চলেই নির্বাচনী কর্যক্রম করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। ইসলামী ইমারতের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে তো নয়ই এমনকি কাবুল পুতুল সরকারের নিয়ন্ত্রিত অনেক অঞ্চলেও হয়নি কথিত এই নির্বাচন। এসবের মধ্য দিয়ে যেসকল এলাকায় জনগণবিহীন নির্বাচন হয়েছে সেখানেও নানাধরণের প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে গনী সরকার।

এখন পর্যন্ত যারা এই প্রতারণামূলক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে তারা বিগত নির্বাচনের তুলনায় এই নির্বাচনকে অস্পষ্ট, প্রতারণামূলক এবং লজ্জাজনক বলে বিবেচনা করেছে।

যারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া এবং প্রত্যক্ষদর্শী কিছু ব্যক্তির মতামত আপনাদের সামনে তুলি ধরছি-

গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার:
নিজের ভোট দেওয়ার পরে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার জানায় যে বর্তমান নির্বাচনকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। আসলে দুটি নির্দিষ্ট দল সুসংহত জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। তাদের দল, দলীয় নেতারা এবং পরিবারের সদস্যরা আইডি কার্ডে স্টিকার ছাড়াই ভোট দিয়েছে, যা অবৈধ।

হাশমত গনি আহমদজাই:
আশরাফ গনির ভাই হাশমত গনি আহমদজাই জানায় যে, নির্বাচনের অনিশ্চয়তার কারণে সে তার ব্যালট দিতে পারেনি। সে বলেছে যে, আমি হতাশ হয়েছি। আমি যখন হাইস্কুলে নির্বাচন কেন্দ্রে যাই তখন সেখানে ভোটার লিস্টে আমি আমার নাম খুঁজে পাইনি। সে টুইটারে লিখেছে যে, ভোট দিতে আসা অনেকেই এই সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হয়েছে। হাশমত গনি অব্যবস্থাপনার জন্য নির্বাচন কমিশনের নেতাদেরকে দোষারোপ করে এবং তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করে।

হারুন নাজাফি জাদা:
ইরানের আন্তর্জাতিক টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সাথে কাজ করা বিবিসির প্রাক্তন প্রতিবেদক হারুন নাজাফি জাদা বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে বিগত নির্বাচনের তুলনায় এই নির্বাচন আরো অনেক প্রতারাণামূলক ছিল। কাবুলের বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্র ছিল খালি। এমন বাক্স কমই আছে যা ভোটারদের দ্বারা পরিপূর্ণ হয়েছে। এছাড়া যারা ভোট দিতে গিয়েছেন তাদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক ভোটার ভোট না দিয়ে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এসেছেন।

বিলাল সরওয়ারী:
বিবিসির প্রাক্তন প্রতিবেদক বিলাল সরোয়ারী নানগারহার বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে বলেছেন যে, জালালাবাদ শহরের ঈদগাহ মসজিদে ভোটকেন্দ্রটি বায়োমেট্রিক মেশিনের ত্রুটির কারণে এবং ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করায় সমস্যায় পরিপূর্ণ ছিল। সরকার দলীয়রা নিজেদের মত ভোট প্রদান করেছে।

জাবের সাদাত:
নির্বাচন কমিশনের সেক্রেটারি দুপুর ১২ টায় গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছে যে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় শত শত পোলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে, অনেক স্থানে নির্বাচন কর্মীরা পৌঁছাতে পারেনি। অনেক অঞ্চলে, পোলিং স্টেশনগুলো ভোটকেন্দ্র হিসাবে চিহ্নিতই করা যায়নি।

জাওয়াদ টিমোরি:
কাবুল শহরের টেলিভিশন সংবাদদাতা জাওয়াদ টিমোরির মতে, দুপুর বারোটা অবধি কাবুল নগরীর আমানী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে মাত্র ৫ জন মহিলা ভোট দিয়েছেন।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রতারণামূলক এই নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ না করার অন্যতম কারণ হলো মহিলারা ছবি তোলা থেকে বিরত থাকা, তালেবানদের সমর্থন বৃদ্ধি পাওয়া।

সিদ্দিকুল্লাহ আফগানী:
কান্দাহারে এক সাংবাদিক এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট সিদ্দিকুল্লাহ আফগানী বলেন, প্রদেশে নির্বাচন কমিশনের কর্মীদের কর্মক্ষমতা শূন্যের কোটায় রয়েছে, কান্দাহারের সুফি সাহেব নিসান উচ্চ বিদ্যালয়ে দুপুর অবধি কেউ একটি ব্যালটও ফেলেনি, নির্বাচন কর্মীরা নিজেরাই ছিল নিখোঁজ, যারা এসেছে তারা EVM মেশিন এবং প্রিন্টারগুলো ব্যবহারই করতে জানেনা!

মোহাম্মদ জাকির টিমোরি:
ঘোড়াবন্দের বাসিন্দা মোহাম্মদ জাকির টিমোরি মিডিয়াকে বলেন, ঘোড়াবন্দে চারটি জেলা রয়েছে তবে আজ সকাল থেকেই এখানে তীব্র যুদ্ধ শুরু হয়েছে এবং এই সমস্ত এলাকায় ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন