নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ নেতার হুমকি, ‘সব সাংবাদিক রে খাইয়া ফালামু ’

0
355

ছাত্রদল নেতাকে মারধরের রেশ না কাটতেই ‘প্রেস নারায়ণগঞ্জ’ অনলাইন নিউজ পোর্টালের চিফ রিপোর্টার সৌরভ হোসেন সিয়ামকে মারধর করেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ নেতারা। গত শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর)  বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এ অভিযোগ করেন সৌরভ।

সৌরভ বলেন, কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে ৩য় বর্ষের ফরম ফিলাপ করতে তোলারাম কলেজের বিজ্ঞান ভবনের চতুর্থ তলায় প্রাণিবিদ্যা বিভাগে যাই। সেখানে গিয়ে ফরম ফিলাপের জন্য সকল কাগজপত্র তৈরি করি। পরে ডিপার্টমেন্ট থেকে জানানো হয়, রোববার ফরম ফিলাপ করার জন্য।
একপর্যায়ে পিয়াস প্রধান, মেহেদী হাসান প্রিন্স ও শাহরিয়ার পরশ (হৃদয়), সার্থক আহমেদ তোফা, শেখ হাবিবুর রহমান তামিমসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২ জন ছেলে আমার ডিপার্টমেন্টের ভেতরে আসে। আমাকে দীর্ঘক্ষণ যাবৎ অনুসরণ করতে থাকে। এর আগেও এই পাঁচ জন আমাকে মারধর করেছিলো বিধায় তাদের উপর আমার সন্দেহ হয়। পরে এ বিষয়টা একজন শিক্ষককে জানাই। তার পরামর্শে আমি ডিপার্টমেন্ট থেকে বের না হয়ে সেখানেই বসে থাকি। আমি ভেবেছিলাম, ওটা আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (ডিপার্টমেন্ট), সেখানে আমার পিতৃতুল্য শিক্ষকরা আছেন, শিক্ষার্থীরাও আছে, তাই সেখানে আমি নিরাপদ।

সৌরভ আরও বলেন, সেই ছেলেরা বারবার ডিপার্টমেন্টে আসা যাওয়া করছিলো। আনুমানিক সোয়া বারোটায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক পিয়াস প্রধান, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক শাহরিয়ার পরশ, উপ সাংস্কৃতিক সম্পাদক মেহেদী প্রিন্স, অর্থ সম্পাদক সার্থক আহমেদ তোফা ও সহ সম্পাদক তামিমসহ অন্যান্যরা এসে আমাকে ডিপার্টমেন্টের ভেতরেই ঘিরে ধরে। তাদের মধ্য থেকে একজন আমাকে বলে, চল নিচে আয়। উত্তরে আমি বলি, আমি নিচে যাবো কেনো? কিছু বলার থাকলে এখানেই বলো। আমি যেতে না চাইলে তারা আমাকে টেনে নিচে নিয়ে যেতে চায়। এক পর্যায়ে আমি স্যারদের ডাকাডাকি করলে ওরা ডিপার্টমেন্টের ভেতরেই আমাকে এলোপাথারি মারধর করতে থাকে। মারতে মারতে তারা বলে, এই কলেজেই পড়ো আবার সাংবাদিকতা করো। সততা দেখাও? নারায়ণগঞ্জের সব সাংবাদিকরে খাইয়া দিমু। পরে মারতে মারতে তারা আমাকে ডিপার্টমেন্টের বাথরুমের দিকে টেনে নিয়ে যেতে চাইলে আমি চিৎকার করতে থাকি। একপর্যায়ে ওরা মারধর করে চলে যাওয়ার আগে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বলে, আজকে বাঁইচা গেলি। তোর পুলিশ বাবাদের গিয়ে এই কথা বললে একেবারে জানে মাইরা ফেলমু। পরে এক শিক্ষকের সহায়তায় আমি সেখান থেকে বের হয়ে আসি।

উপস্থিত সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সৌরভ আরও বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন এর আগে গত বছরের এপ্রিল মাসের ২৩ তারিখ সংবাদ প্রকাশের জেরে তোলারাম কলেজের ছাত্রছাত্রী সংসদ কক্ষের ভেতরে নিয়ে গিয়ে আমাকে বেধড়ক মারধর করে পিয়াস প্রধান, পরশ ও মেহেদী। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিলো। জিডি নম্বর ১৩৩২। আজকে কোন কারণ ছাড়াই তারা আমাকে মারধর করেছে। কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, এতে করে ঐতিহ্যবাহী তোলারাম কলেজের সুনাম ক্ষুন্নসহ শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে সাহসী সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ হচ্ছে। আমি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি পাশাপাশি তোলারাম কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ও নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে শংকা প্রকাশ করছি। আপনারা আমার সহকর্মী। তাই এ বিষয়ে আমি আপনাদের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।

উল্লেখ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর তোলারাম কলেজের সামনে এক ছাত্রদল নেতাকে মারধরে করে ছাত্রলীগ নেতারা। প্রকাশ্যে এই মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পরে। এর আগে ২০১৮ সালের ২৩ এপ্রিল কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যেই সৌরভকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিলো এই সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে।

সূত্র: দৈনিক খবরের আলো

 

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন