কাশ্মীরিদের দমনে অর্থনৈতিক মন্দায় ভারত, ৭ লক্ষ কোটি বিনিয়োগের মাধ্যমে সাহায্য করবে সৌদি!

3
576

মন্দার মধ্য দিয়ে যাওয়া ভারতীয় অর্থনীতির জন্য  বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। খুব শীঘ্রই ভারতে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লগ্নি করার চিন্তাভাবনা করছে সৌদি আরব।

ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৭ লক্ষ কোটি। ভারতের পেট্রোকেম, পরিকাঠামো এবং খনি-সহ আরও বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে লগ্নির পরিকল্পনা আছে বিশ্বের বৃহত্তম তেল রফতানিকারক দেশের। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে।

ভারতীয় অর্থনীতি শঙ্কাময় এক মন্দাচক্রে প্রবেশ করেছে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থনীতির বিকাশহার পাঁচ অঙ্কের কোটায় নেমে এসেছে। ভারতীয় অর্থনীতির পর্যবেক্ষকদের হিসাব অনুসারে, গত পাঁচ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এটি কম প্রবৃদ্ধির একটি রেকর্ড।

মালাউন ভারতের অর্থনৈতিক মন্দার অন্যতম কারণ  বাজেটের ২০ টাকার ১ টাকা ও বেশি কাশ্মিরিদের দমন নিপীড়নে ব্যয়!
তিন বাহিনী মিলিয়ে ভারতের সশস্ত্র সন্ত্রাসীবাহিনীর মোট সদস্যসংখ্যা ১৪ লাখ ৪৩ হাজার ৯২১। প্রতিরক্ষাবাহিনীর জন্য ছয় হাজার ৬৫০ কোটি ডলারের বাজেট বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে কাশ্মিরে মোতায়েন করা হয়েছে ছয় লাখ সৈন্য। এতে রাষ্ট্রের সশস্ত্রবাহিনীর মাথাপিছু গড় ব্যয় ৪৬ হাজার ৫৫ ডলার হিসাবে কাশ্মিরে সন্ত্রাসীবাহিনী সদস্যদের জন্য ভারতের মোট ব্যয় হচ্ছে দুই হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার। জম্মু ও কাশ্মিরের মাথাপিছু জাতীয় আয় হলো এক হাজার ১৯৮ ডলার। এক কোটি ২২ লাখ জনসংখ্যার কাশ্মির উপত্যকা থেকে ভারত রাষ্ট্রের জিডিপিতে যুক্ত হয় এক হাজার ৩৮১ কোটি ডলার। এর বিপরীতে প্রতি বছর রাজ্যের বাজেট ব্যয় এক হাজার ১৪৭ কোটি ডলার।

আর এখানকার সন্ত্রাসীবাহিনীর গঠন  বজায় রাখতে ভারতের খরচ হচ্ছে দুই হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার। কাশ্মিরে যে অরাজকতার পরিস্থিতি ভারত তৈরি করে রেখেছে তাতে এই রাজ্যটিতে ভারত সরকারকে রাজ্যের আয়ের অতিরিক্ত যে দুই হাজার ৫২৯ কোটি ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে, তা ভারতের মোট প্রতিরক্ষা বাজেটের ৩৮ শতাংশের সমান, অথচ সেখানকার জনসংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশ। শুধু নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকারের পাঁচ বছরেই জম্মু-কাশ্মিরের জন্য ভারতবাসীকে সাড়ে ১২ হাজার কোটি ডলার নিট ভর্তুকি দিতে হয়েছে। তা ভারতের এক বছরের জাতীয় বাজেটের এক-চতুর্থাংশের সমান। জম্মু ও কাশ্মিরকে আলাদা থাকতে দিলে ভারতকে এ দায় বহন করতে হতো না।

বলার অপেক্ষা রাখে না, ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর কাশ্মিরের নিরাপত্তার জন্য ব্যয় আরো অনেক বেড়ে গেছে। ভারতীয়দের ভাবতে হবে, তারা প্রতি বছরের বাজেটের প্রতি ২০ টাকার মধ্যে এক টাকার চেয়েও বেশি ভর্তুকি কাশ্মিরিদের দমনের নিপীড়নের জন্য ব্যয় করছে।

শক্তিমত্তার দেশ হওয়ার উন্মাদনা থেকে ভারতে এখন যে অর্থনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে, তা প্রতিদিনই ঘনীভূত হচ্ছে। দেশটির ২৭টি ব্যাংককে ১৩টিতে একীভূত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাংকের অর্থ সরকারকে সঙ্কট মোকাবেলায় ব্যয় করতে হচ্ছে। বেকারত্ব হু হু করে বাড়ছে। ডলারের বিনিময় হার কমতে কমতে বাংলাদেশী টাকার কাছাকাছি চলে এসেছে। এক সময় জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে এর স্থায়ী সদস্য হিসেবে ভারতকে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছে মোদির সরকার। সে স্বপ্ন হতাশায় পরিণত হওয়ার পর এখন ‘অখণ্ড ভারত’ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখানো শুরু হয়েছে। এটি করতে গিয়ে দক্ষিণ এশিয়াকে পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে মোদি-অমিত শাহের সরকার। এ অবস্থায় বিজেপি-সঙ্ঘ পরিবারের কাশ্মিরনীতি ভারতের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

তথ্যসূত্র: ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম, নয়া দিগন্ত

3 মন্তব্যসমূহ

  1. সৌদী যুবরাজ mbs ইহূদীর গর্ভজাত সন্তান। শয়তানটা লালিত-পালিত হয়েছে ইহূদী মহিলার হাতে। তাইতো কাশ্মীরী মুসলমানদের নির্যাতনে তার এই অর্থের যোগান।

Leave a Reply to ইলিয়াস বিন নাজেম প্রতিউত্তর বাতিল করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন