এগুলো বিশ্ববিদ্যালয় নাকি অবাধ যৌনতার প্রাণকেন্দ্র?

1
723

মারামারি, মাদকাসক্তি, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, দুর্নীতিসহ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলমান অপকর্মের তালিকা অনেক বড়। শিক্ষার্থীদের থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক এমনকি উপাচার্যরা পর্যন্ত জড়িত নানা অপরাধে। তবে, এসকল অপরাধগুলোর মধ্যে একটি কমন অপরাধ হলো ‘অবাধ যৌনতা’। আমি এই যৌনতাকে ‘অপরাধ’ বললেও, যারা এ যৌনতায় লিপ্ত তাদের কাছে এটি অপরাধ মনে না হওয়াটাই স্বাভাবিক। অপরাধবোধ না থাকার কারণেই জাবি শিক্ষক সানোয়ার তার এক ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দিয়েছে। একই কারণে তো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘র‌্যাগ ডে’ এর নামে চলেছে উদ্যাম যৌনতা! খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন আগে ‘র‌্যাগ ডে’ উৎযাপনের নামে ছাত্রছাত্রীদের নাচ-গান আর অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির দৃশ্যময় ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে যা হয়েছে সেগুলোও যিনার অন্তর্ভুক্ত। ‘অবৈধ যৌনতা’র মানে কেবল ধর্ষণ নয়। বেগানা নারীর দিকে তাকানো, হাতে হাত রাখা, পর্দাহীন চলাফেরা ইত্যাদি সবগুলোই এ যৌনতার অন্তর্ভুক্ত।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দু-চোখের যিনা হল (নিষিদ্ধ যৌনতার প্রতি) দৃষ্টিপাত করা, দু’কানের যিনা হল শ্রবণ করা, রসনার যিনা হল কথোপকথন করা, হাতের যিনা হল স্পর্শ করা, পায়ের যিনা হল হেঁটে যাওয়া, অন্তরের যিনা হচ্ছে আকাংখা ও কামনা করা। আর যৌনাঙ্গ অবশেষে তা বাস্তবায়িত করে অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। [বুখারী-৬২৪৩, মুসলিম-২৬৫৭ ]

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে থাকে এসকল অপকর্মের সমাহার। ঢাবি, জাবি, রাবি, জবি, চবি, কুবি, খুবি তথা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ই এ অপরাধমুক্ত নয়।

আর, এ অপরাধগুলো নতুনও নয়। খুবিতে ‘র‌্যাগ ডে’ এর নামে যে যৌনতা আপনারা প্রত্যক্ষ করেছেন, সেটাও বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়। এসবগুলোর উৎস সেই সহশিক্ষা, বেপর্দা আর ‘কাছে আসার গল্পের’ই শিক্ষা। ছাত্রীকে শিক্ষকের কুপ্রস্তাব কিংবা বিবাহ করার যে সংবাদ আমরা পাই, সেগুলোর পেছনেও রয়েছে কোন এক নজরের প্রভাব, বাতাসে উড়ানো চুলের দৃশ্য।

তবে, এ অপরাধকর্ম অধিকাংশ সময়ই সম্মতিক্রমে সংঘটিত হয়। তাই, সেগুলোর সংবাদ আমাদের কাছে আসে না।  অল্পকিছু যাই হয় প্রতারণা আর জোরপূর্বক, সেগুলোর সংবাদই আমাদের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অবাধ যৌনতা’র ভয়ানক চিত্র তুলে ধরে।

এক্ষেত্রে কঠোরতাই কাম্য। ছাড় দিতে দিতে আজ এসকল বিশ্ববিদ্যালয় অবাধ যৌনতার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন, “ব্যভিচারের দায়ে অভিযুক্ত পুরুষ ও নারী যারা, তাদের প্রত্যেককে একশত বেত্রাঘাত প্রদান কর; তাদের বিষয়ে করুণা যেন তোমাদেরকে দুর্বল না করে, এমন একটি বিষয়ে যা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হয়েছে, যদি তোমরা আল্লাহ এবং মহাপ্রলয় দিবসের উপর বিশ্বাস রাখো। আর বিশ্বাসীদের একদলকে তাদের শাস্তির সাক্ষী করে রাখো।”[ সূরা ২৪ (আন-নুর), আয়াত ২]

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা আরো বলেছেন, “তোমরা জিনার ধারে কাছেও যেয়ো না, কারণ এটি একটি লজ্জাজনক ও নিকৃষ্ট কর্ম, যা অন্যান্য নিকৃষ্ট কর্মের পথ খুলে দেয়।” [সূরা ১৭ (আল-ইসরা/বনি ইস্রাঈল), আয়াত ৩২]

শেষ কথা হলো- বেপর্দা, সহশিক্ষা, সেক্স এডুকেশন, ‘ট্যাবু’ ভাঙ্গার নামে অশ্লীলতার প্রচারণা, ধর্ষণ, ব্যভিচার ইত্যাদি কর্মকাণ্ডগুলো কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এগুলো একটি অপরটির সাথে জড়িত। এগুলোর মূলে রয়েছে পশ্চিমাদের আদলে গড়ে ওঠা এ সমাজব্যবস্থা। এ সমাজব্যবস্থার ভেতরে থেকে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে হয়তো সাময়িক কিছু ক্ষতি এড়ানো যাবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য এ সমাজব্যবস্থা পরিবর্তনের বিকল্প নেই।

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন