বুয়েটের মেধাবী মুসলিম ছাত্রকে নির্মমভাবে খুন করলো ভারতপন্থী লীগ-সন্ত্রাসীরা!

1
430
আবরার ফাহাদ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হল থেকে আবরার ফাহাদ (২১) নামে একজন ছাত্রকে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে ভারতপন্থী ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। আবরার ফাহাদ ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরে দেশবিরোধী কিছু  চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে ফেসবুকে যৌক্তিক পোস্ট দেওয়ার ফলেই আবরারকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ গণমানুষের।

রবিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে, সাধারণ ছাত্র ও কর্তৃপক্ষ ফাহাদের মরদেহ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ফাহাদের মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব হোসেন।

ফাহাদের সাথে একই বর্ষে অধ্যয়নরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সন্ধ্যা সাতটার দিকে একই বর্ষের কয়েকজন ছাত্র আবরারকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর আনুমানিক রাত ২টার দিকে সিঁড়িতে আবরারকে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। সে সময় তার শরীরে বেশকিছু আঘাতের চিহ্ন ছিল।

ঢাকা ট্রিবিউন নামক বার্তাসংস্থা পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরাই আবরারকে ডেকে নিয়ে পরে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের অভিযোগ, আবরার ছাত্রশিবিরের লোক। তাই, তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ।

এ প্রসঙ্গে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিতু বলে, “নিহত ফাহাদের ফেসবুক একাউন্ট ও ইনবক্স ঘেঁটে তার সঙ্গে ছাত্র শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়।” এমনকি শিবির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ফেসবুক পেজ ‘বাঁশের কেল্লা’তে তার লাইক দেওয়া আছে বলেও সে জানায়।

সহপাঠীদের মতে, আবরার ফাহাদ ধার্মিক প্রকৃতির ছেলে ছিলেন। মেধাবী এই মুসলিম শিক্ষার্থী কঠোর পরিশ্রম করে বুয়েটে চান্স পান এবং ২০১৮ সাল থেকে বুয়েটে পড়াশোনা শুরু করেন। গতকাল রবিবার রাতে ছাত্রলীগের কিছু ভারতপন্থী হিন্দু সন্ত্রাসী শিক্ষার্থীদের মদদে মেধাবী মুসলিম শিক্ষার্থী আবরারকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা যায়।

বার্তাসংস্থা ঢাকা ট্রিবিউনের বরাতে জানা যায়, আবরারকে হত্যার জড়িতরা হলো- মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, সে শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। অপর অভিযুক্ত ব্যক্তি অমিত সাহা, সে আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত।

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন