‘নেশাখোর’ সন্ত্রাসী আওয়ামী নেতার ভিডিও ভাইরাল

0
307

উপজেলা সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের নেশা সেবনের ভিডিও দৃশ্য প্রকাশ নিয়ে বগুড়ার নন্দীগ্রামে তোলপাড় শুরু হয়েছে। চায়ের স্টল থেকে শুরু করে সর্বত্র সমালোচনার ঝড় বইছে।

ভাইরাল হয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে স্থানীয় জনগন ক্ষুব্ধ। কালের কণ্ঠ’র হাতে আসা এই ভিডিও চিত্রে আয়েশি ভঙ্গিতে সহযোগীদের নিয়ে নেশা সেবন করতে দেখা গেছে আলোচিত সন্ত্রাসী নেতা আনিছুর রহমানকে।

জানা গেছে, বরাবর জাসদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকা আনিছুর রহমান ২০১২ সালের শুরুতে সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। এর ৯ মাসের মধ্যেই পেয়ে যায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ। আর পদ পেয়েই বেপরোয়া হয়ে ওঠে আনিছুর। এলাকার মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্য এবং প্রকাশ্যে মাদক সেবনকে দৈনন্দিন কাজের অংশ বানিয়ে নেয়। আর শুরু থেকেই সহযোগী হিসেবে পেয়ে যায় উপজেলা
আওয়ামী লীগের নেতা সন্ত্রাসী শেখ শামীম ও তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক আফতাব হোসেনকে। তাঁরা কখনো নিজ বাড়িতে, কখনো নাটোরের সিংড়া উপজেলায় আবার কখনো বগুড়া শহরের বিভিন্ন বাড়িতে অবস্থান করে মাদক সেবন করে।

তিন মিনিট আট সেকেন্ডের ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, স্যান্ডো গেঞ্জি পরিহিত আনিছুর রহমান ইয়াবা সেবন করছে।

পাশে বসে তাঁকে সঙ্গ দিচ্ছে সহযোগীরা। ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার পর চায়ের স্টল থেকে শুরু করে অফিসপাড়া পর্যন্ত সর্বত্র আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

একাধিক সূত্র জানায়, সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগ নেতা আনিছুর রহমানের মাদক সেবনের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। এর আগেও আনিছুর রহমানের ইয়াবা ও গাঁজা সেবনের ছবিসহ পোস্টার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দেয়ালে দেয়ালে দেখা গেছে। পোস্টারে লেখা ছিল—‘আওয়ামী লীগ নেতা আনিছুর রহমান শুধু মাদকসেবীই নয়, উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার মাদক ব্যবসাও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাবরেজিস্ট্রার অফিসে দলিল লেখক সমিতি নিয়ন্ত্রণ করে আনিছুর রহমান। সেখানে প্রতিদিন অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়, যার একটি অংশ নিয়মিত পেয়ে যায় সে। এ ছাড়া অটোটেম্পো মালিক সমিতিসহ হাট-বাজার, রাস্তা ও ফুটপাটের চাঁদাবাজিও তাঁর নিয়ন্ত্রণে।

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার সিমলা গ্রামে মদখোর আনিছুর রহমানের জন্মস্থান। আগে সম্পদ বলতে ছিল শুধু মাটির বাড়ি। বর্তমানে এই সন্ত্রাসী নেতা সিমলা বাজারে নির্মাণ করেছে তিনতলাবিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন একটি ভবন। এর বাইরে গ্রামে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজির টাকায় নিজস্ব জমিসহ পুকুর করেছে।

চাঁদাবাজ আনিছুরের ভাই আসাদুজ্জামান আসাদ নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ছিল। অন্য ভাইয়েরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি সরকারের সময়ও উপজেলার বিভিন্ন পুকুর ক্ষমতাবলে দখল করে রেখেছিল আনিছুর রহমান।

নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ এ ব্যাপারে বলেছে, “সে সব সময় ইয়াবায় মত্ত থাকে। এ কারণে এলাকায় এই নেতার নাম ‘বাবা আনিছ’। সে নিজে মাদক সেবন করে এবং পরিবারের সদস্যদের দিয়ে মাদকের কারবার চালায়।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন