মালিতে ম্যাসীনা এবং ড্রাগন দুটি বিদ্রোহী গ্রুপের মাঝে যুদ্ধবিরতি চুক্তি, প্রধান ভূমিকায় আল-কায়েদা!

0
461

আল-কায়েদা পশ্চিম আফ্রিকান ভিত্তিক শাখা জামা’আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন (JNIM) একজন দায়িত্বশীল শাইখ মুহাম্মাদ কুফা হাফিজাহুল্লাহ জানিয়েছেন যে, মালির ম্যাসীনা ব্যাটালিয়ন এবং ড্রাগন ব্যাটালিয়ন উভয় বিদ্রোহী গ্রুপ একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

দীর্ঘদিন যাবত ম্যাসীনা ও ড্রাগন দুটি বিবাদমান বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাদের আসল শত্রু ক্রুসেডার ফ্রান্স ও তাদের তাবেদার মালির গোলাম মুরতাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে একধরণের যুদ্ধ বন্ধ করে দিয়ে নিজেদের মাঝে বিবাদে লিপ্ত হয়ে পড়ে, এতে উভয় গ্রুপের সদস্য নিহত হওয়া ছাড়াও অনেক সাধারণ মানুষও হতাহতের শিকার হন।

অবশেষে গত ৬ অক্টোবর মালিতে বর্তমানে সবচাইতে মজবুত অবস্থানে থাকা আল-কায়েদা শাখা JNIM এর কমান্ডার শাইখ মুহাম্মাদ কুফা হা. উভয় বাহিনীরকে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করান।

আল-কায়েদা কমান্ডার উক্ত চুক্তিতে বেশ কিছু শর্তও যুক্ত করেন। যার মাঝে রয়েছে,
১) ফোলানী গোত্রসহ মালির মুসলিম গোত্রগুলোর নিরাপত্তায় সব সময় উভয় বাহিনীকে সামনে এগিয়ে আসতে হবে, মুসলিমদের জান-মালের হেফাজত করতে হবে।
২) নিজেদের মধ্যকার যুদ্ধের পরিসমাপ্তি টেনে, নিজেদের সামরিক শক্তিকে দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে অর্থাৎ দখলদার ক্রুসেডার ও তাদের মিত্র বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাবহার করতে হবে।
৩) JNIM এর কোন সাহায্যের প্রয়োজন হলে তারা তা করবে।
৪) নিজেদের এই সামরিক শক্তিকে অপাত্রে ব্যাবহার করলে JNIM উভয় গ্রুপের উপর হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবে।

মালি কেন্দ্রস্থলে দুটি বিবাদমান গোষ্ঠীর মধ্যে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর অনেকটাই দুশ্চিন্তায় পড়ে ক্রুসেডার ফ্রান্স ও তাদের তাবেদার দেশটির মুরতাদ বাহিনী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আল-কায়দা মালিতে শুধু ফ্রান্স ও তাদের তাবেদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধের ময়দানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তারা স্থানীয় বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর উপরেও নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছেন, এর মাধ্যমে তারা অনেক বিদ্রোহী গ্রুপেকেই ইতিমধ্যে নিজেদের করে নিতে সক্ষম হয়েছেন। কোন কোন বিদ্রোহী গ্রুপকে বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে নিজেদের অনেক কাজকেই তাদের মাধ্যমে করে নিচ্ছে। সার্বশেষ ম্যাসীনা ও ড্রাগনের মত দুটি শক্তিশালী গ্রুপকেও একটি চুক্তিতে আবধ্য করতে সক্ষম হয়েছে তারা, আর এতে আল-কায়েদাই লাভবান হবে বেশি। যদিও ড্রাগনের অনেক নেতাই এখনো এই চুক্তি মেনে নেয়নি, কিন্তু মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের সামনে অন্য কোন পথও খোলা নেই।

মূলত আল-কায়েদা শুধু নিজেদেরকে যুদ্ধের ময়দানেই ব্যাস্ত না রেখে কৌশলের ময়দানের আশ্বরোহীর মত ছুটে চলছে, তারা বিভিন্ন বিদ্রোহী গ্রুপগুলোকে ধীরে ধীরে নিজেদের দলে বাড়াচ্ছে। জনসাধরণের সমর্থণ আদায়ের ক্ষেত্র বিভিন্ন গোত্র প্রধানদের সাথে দফায় দফায় বৈঠকও করছে আল-কায়েদার এই শাখাটি।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন