ভারতীয় মালাউনদেরকে বছরে ১৫ হাজার টন এলপিজি রফতানি করবে দালাল সরকার!

1
381

শুরুতে বছরে ১৫ হাজার টন লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ভারতে রফতানি করা হবে। ভারতীয় দালাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে এলপিজি রফতানির ব্যাপারে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ভিত্তিতে এই বৃহৎ পরিসরে এলপিজি রফতানি শুরু হবে।

জ্বালানি বিভাগ জানায়, ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেডের (আইওসিএল) সঙ্গে দেশের বেক্সিমকো পেট্রোলিয়াম লিমিটেড এবং ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড যৌথ উদ্যোগে এলপিজি বাণিজ্য করবে। আইওসিএল ত্রিপুরায় এলপিজি বোতলজাত করার পাশাপাশি বিতরণ করবে।

ওমেরা পেট্রোলিয়ামের পরিচালক আজম জে চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বুধবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একসময় ভারতের ওই অংশে গ্যাস একবারেই ছিল না। রান্নার জন্য তারা কাঠ ব্যবহার করতো। ভারত সরকার তাই গ্যাসের ব্যবস্থা করতে চাইছিল। বাংলাদেশ থেকে গ্যাস নিয়ে তারা ভর্তুকি দিয়ে সেখানকার গ্যাসের চাহিদা পূরণ করতে চাইছে। এজন্য এলপিজি বাংলাদেশের দুই কোম্পানি বেক্সিমকো ও ওমেরার সঙ্গে ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশনের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এলপিজি এখনই রফতানি করছে ওমেরা। বেক্সিমকো খুব শিগগিরই শুরু করবে।’

এই উদ্যোক্তা আরও বলেন, ‘মোংলা বন্দর দিয়ে এলপিজির কাঁচামাল আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি অংশ ঘোড়াশালে নিয়ে গিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে বোতলজাত করে দেশের মধ্যেই সরবরাহ করি। আর অন্য অংশটি রোড ট্যাংকারে করে ত্রিপুরা পাঠাই। সেখানে যে প্ল্যান্ট আছে সেখানেই বোতলজাত করা হয়।’

তিনি জানান, এখন ৪০ থেকে ৫০ টনের মতো এলপিজি রফতানি করা হচ্ছে। প্রথম বছরে তারা ৫ থেকে ১৫ হাজার টন গ্যাস রফতানি করতে চান বলে জানান তিনি।

ভবিষ্যতে এর পরিমাণ বাড়বে কিনা জানতে চাইলে আজম চৌধুরী বলেন, ভারতের এখন যে ফিলিং সেন্টার রয়েছে তার সক্ষমতা কম। ওরা বাড়ালে আমরাও বাড়াতে পারবো। এখন ওদের সর্বোচ্চ ক্যাপাসিটি ১০ থেকে ১৫ হাজার টনের মতো।

তিনি বলেন, কুমিল্লা হয়ে ভারতে গ্যাস যাওয়ার পথটি অনেক দীর্ঘ। তাই চাহিদা বাড়ালে আমরা সীমান্তের কাছে একটি স্টোরেজ করতে পারি। কিন্তু সেটি পুরো নির্ভর করছে তাদের চাহিদার ওপর।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, বেক্সিমকো ও ওমেরা ছাড়াও আরও কিছু কোম্পানি দেশের বাইরে এলপিজি ব্যবসা সম্প্রসারণের আবেদন করেছে। তবে প্রাথমিকভাবে দুটি কোম্পানিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, অন্য কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করা হবে।

তিনি জানান, সব মিলিয়ে সরকার ৫৬টি এলপিজি প্ল্যান্ট নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি বেসরকারি উদ্যোক্তা এলপিজি সরবরাহ করছে। এদের অনেকেই বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে এসেছে। কিন্তু চাহিদা না থাকায় সক্ষমতার পুরো উৎপাদন করতে পারছেন না। তাই তাদের রফতানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে শর্ত হচ্ছে দেশের চাহিদা পূরণের পর রফতানি করবে তারা।

জানতে চাইলে জ্বালানি বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছে, ‘ভারতে এলপিজি রফতানি হলে আমরা বিভিন্ন ধরনের কর আদায় করতে পারবো। এছাড়া আমাদের এখানে কিছু কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’

তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী যেকোনও উদ্যোক্তা যেকোনও পণ্য আমদানি করে পুনঃরফতানি করতে পারেন। দেশের পোশাক কারখানার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা বিদেশ থেকে কাপড় এনে সেলাই করে আবার বিদেশে পাঠাই। এক্ষেত্রেও তাই; আমাদের বেসরকারি কোম্পানি এলপিজির কাঁচামাল আনবে, এরপর তারা প্রক্রিয়া করে ত্রিপুরায় বিক্রি করবে। এখানে সরকারের কোনও বিষয় নেই।’

বেসরকারি উদ্যোক্তারা বিদেশ থেকে এলপিজির কাঁচামাল প্রপেন ও বিউটেন আমদানি করে। এরপর দেশেই সেগুলো প্ল্যান্টে মিশ্রণ করে এলপিজি তৈরি করে। বর্তমানে দেশের একটি বড় অংশের মানুষ এলপিজি রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে। এর বাইরে দেশে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং মোটর গাড়ির জ্বালানি হিসেবে এলপিজির (অটোগ্যাস) ব্যবহার শুরু হয়েছে। সিএনজির চেয়ে কিছুটা দাম বেশি হলেও পেট্রোলের তুলনায় এলপিজি কিছুটা সাশ্রয়ী।

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন