এবার এনআরসির দাবি জানাল মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী

0
323

ভারতের মিজোরাম রাজ্যে বসবাসকারী চাকমা জাতিগোষ্ঠীর লোকজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে অভিযোগ তুলেছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গা। মিজোরাম সরকার এসব অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করতে আসামের মতো এনআরসি বা জাতীয় নাগরিকপঞ্জি কার্যকর করতে চাইছে বলে জানিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী।

ভারতের উত্তর-পূর্বের পাহাড়বেষ্টিত রাজ্য মিজোরামের বেশির ভাগ নাগরিক মিজো সম্প্রদায়ের। পাশাপাশি রয়েছে চাকমারাও। মিজোরামের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গার অভিযোগ, এই রাজ্যের চাকমারা বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে মিজোরামে এসেছে।

জোরামথাঙ্গা গত বছরের নভেম্বর মাসে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়। সে মিজোরামের মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্টের (এমএনএফ) প্রেসিডেন্ট।

চাকমা মানবাধিকার সংগঠনের নেতা সুহাস চাকমা অভিযোগ করেছে, ১৯৮৯ সাল থেকে মিয়ানমার থেকে আসা লক্ষাধিক শরণার্থীকে মিজোরামের চাম্পাইয়ে শিবির গড়ে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৫ সালে ওই শিবির ভেঙে দেওয়ার পরও মিয়ানমারের কোনো শরণার্থীকে মিজোরাম থেকে তাড়ানো হয়নি। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো কথা বলেনি মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গা। অথচ এ বছরের জুলাই মাসে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে আসা ১১০ জন শরণার্থীকে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছিল মিজোরাম সরকার। মুখ্যমন্ত্রী এসব অনুপ্রবেশের কথা বলল না। বরং লুসাই হিলের আদি বাসিন্দা চাকমাদের তাড়ানোর কথা বলেছে।

১৮৯৮ সালে ইংরেজ আমলে লুসাই হিলকে আসামের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়। সেই লুসাই হিল ছিল চাকমাদের। এখন সেই লুসাই হিল পশ্চিম মিজোরামের অন্তর্ভুক্ত। চাকমারা তাই নিজেদের মিজোরামের আদি অধিবাসী এবং ভূমিপুত্র বলে দাবি করে। ১৯৭২ সালে লুসাই হিলকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করে চাকমাদের তফসিলভুক্ত উপজাতির মর্যাদা দিয়ে গঠন করা হয় স্বশাসিত অঞ্চল।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন