আযাদপ্রেমী কাশ্মীরীদের ভারতীয় মালাউন সরকারের আইন অমান্য করার আন্দোলন

0
299

নয়া দিল্লির মালাউন  সরকার গত ৫ আগস্ট মুসলিম সংখ্যাগুরু অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্য মর্যাদা বাতিল করার পর সেখানে যে অবরোধ আরোপ করা হয় তা কাশ্মীরীরা কীভাবে মোকাবেলা করছে তার ধারাবাহিক বিবরণ তুলে ধরে একটি নতুন রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন চার শিক্ষাবিদ, এক্টিভিস্ট ও সাংবাদিকের একটি দল।

দি ওয়্যার সূত্রে জানা যায়, এই ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টে বলা হয়েছে, দোকান-পাট ও অফিস আদালত বন্ধ। কিন্তু এগুলো স্বাধীনতাকামী কিংবা রাজনৈতিক নেতাদের আহ্ববানে  হচ্ছে না। এটা হচ্ছে মূলত ভারত মালাউন শবিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনের অংশ হিসেবে।

টিমের সদস্যরা অন্তত তিনটি ঘটনায় দেখেছেন, জনগণ তাদেরকে বলেছে যে তারা কিছু পোস্টার দেখেছেন, যেগুলো স্বাধীনতাকামীদের হতে পারে। এগুলোতে জনগণকে তাদের দোকানপাট বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ বলছেন যে ভারতীয় সন্ত্রাসী বাহিনী তাদেরকে দোকান-পাট খোলা রাখার জন্য বাধ্য করছে।

রিপোর্টে বলা হয়, সব কাশ্মীরীই এসব লোককে নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে। এরাই নির্দেশ দিয়ে কাশ্মীরীদের আটক করাচ্ছে। তাই তাদের নির্দেশ অমান্য করার বিষয়টি তাৎপর্যবহ ও সাহসিকতাপূর্ণ। এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ কাশ্মীরী এই পথ বেছে নিয়েছেন। দোকান-পাট খোলার নির্দেশ অমান্য করা। আর যতদিন পারা যায় এই আইন অমান্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া।

ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টে বলা হয়, সত্যি কথা হলো কাশ্মীরী জনগণ সহিংসতায় জড়াচ্ছে না। তারা এখন প্রতিদিন সক্রিয় ও সম্মিলিতভাবে আইন অমান্য আন্দোলন করে যাচ্ছে। ভারত রাষ্ট্রের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত ও প্রতারিত হওয়ার অনুভুতি তাদেরকে পাল্টা প্রক্রিয়া দেখানোর পথে ঠেলে দিয়েছে, যা মূলত অহিংস প্রতিবাদ।

লেখকরা বলছেন যে অতীতে কাশ্মীরীরা যেভাবে প্রক্রিয়া দেখিয়েছে এবারের ধরণটি তারচে আলাদা। কাশ্মীরের জনগণ আর ভারত রাষ্ট্রের সঙ্গে লেনদেন করতে চায় না। সেই জায়গাটি নষ্ট হয়ে গেছে।

রিপোর্টে বলা হয়, কাশ্মীরের সর্বস্তরের মানুষ -আজাদি চায়, অথবা যারা ভারতপন্থী তাঁরাও – সম্মিলিত যন্ত্রণা ও মানসিক আঘাতের শিকার হয়েছে। এগুলো বেশিরভাগ কাশ্মীরীকে নীরব প্রতিবাদকারীতে পরিণত করেছে।

রিপোর্টে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয় যে এই নীরব প্রতিবাদ ও আইন অমান্য হলো আসন্ন প্রবল ঝড়ের আগের শান্ত অবস্থা মাত্র।

টিম জানায় যে তারা জম্মুতে ভিন্ন অবস্থা দেখেছেন। বেশিরভাগ ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন যে তাদের প্রতিষ্ঠান ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে।

রিপোর্টে ভারত সরকার, বিচারবিভাগ, নাগরিক সমিতি, মিডিয়া ও মনবাধিকার সংগঠনগুলোর মন্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে।

এতে অবিলম্বে অনুচ্ছেদ ৩৭০ ও ৩৫এ পুনর্বহাল ও জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে সরকারের প্রতি যোগাযোগের সকল ব্যবস্থা খুলে দেয়া, রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিক এক্টিভিস্টদের মুক্তি এবং সেনা ও প্যারামিলিটারি বাহিনীকে প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়। রাজ্যটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সেখানকার বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

বিভিন্ন আদালতে অন্যায়ভাবে দায়ের করা মামলাগুলো জরুরিভিত্তিতে নিষ্পত্তি করতে বিচারবিভাগের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে রিপোর্টে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন