‘ভারতীয় মালাউনদের এমনিতেই ছেড়ে দিব না’- ক্রোধে ফুঁসছে কাশ্মীরী জনগণ

2
542

গত ৫ আগস্ট তড়িঘড়ি করে ভারত জবরদখলকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে। হাজার হাজার কাশ্মীরী রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্টজনদেরকে কোন ধরনের অভিযোগ ছাড়াই আটক করে এবং সেখানকার ইন্টারনেট ও ফোন সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।।

দুই মাসের বেশি সময় চলে গেলেও এখনও অবরুদ্ধ অবস্থা অব্যাহত রয়েছে। শত শত রাজনীতিবিদ, একাডেমিক ও অধিকার কর্মী এখনও আটক রয়েছেন, যাদের মধ্যে রাজ্যের শীর্ষ নির্বাচিত নেতৃবৃন্দও রয়েছেন।

এছাড়া, নির্বিচারে গ্রেফতার, নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক পেটানো এবং নির্যাতনের খবর প্রতিনিয়তই প্রকাশিত হচ্ছে এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ বছর বয়সী শিশুরাও রয়েছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট  ১৩টি গ্রামের ১৯ জন মানুষের সাথে কথা বলেছে, যারা বলেছেন যে, তাদের উপর ৫ আগস্টের পর নির্যাতন চালানো হয়েছে; তাদেরকে “রড, লাঠি ও তার দিয়ে পেটানো হয়েছে, বিদ্যুতের শক দেয়া হয়েছে, এবং দীর্ঘ সময় ধরে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে”। ভারতীয় মালাউনদের অত্যাচারে আজাদপ্রেমী কাশ্মীরীদের ধৈয্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেছে।

ফলে ক্রমেই কাশ্মীর বড় ধরনের আযাদী আন্দোলনের দিকে যাচ্ছে এবং অবরুদ্ধ উপত্যকার চারপাশে চক্কর দিলে এর আগাম পূর্বাভাস কারো দৃষ্টি এড়াবে না। কোনো নীরব উদ্যানে জনা বিশেক ছেলেই হোক (তাদের প্রত্যেকের আছে সামরিক বাহিনীর হাতে অত্যাচারিত হওয়ার স্মৃতি) কিংবা বন্ধ দোকানের বাইরে সমবেত অপেক্ষাকৃত বয়স্ক লোকই হোক (স্নাইপারদের দিকে নজর রেখেই তারা কথা বলে), সবাই নয়া দিল্লির বিরুদ্ধে ক্রোধে ফুঁসছে। জম্মু ও কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করার পর তীব্রবেগে এই ক্রোধ তাদের মধ্যে সঞ্চারিত হয়েছে। সবার মুখে একই কথা: আমরা ভারতীয় মালাউনদের ছেড়ে দেব না।

শ্রীনগর, বান্দিপোরা, সপোর, পুলওয়ামা ও সোফিয়ানে নানা শ্রেণি-পেশার লোকজনের সাথে আলোচনায়  করে সংবাদ মাধ্যম ফ্রন্ট লাইন জানিয়েছে, , দিল্লিতে মালাউন সন্ত্রাসী বিজেপির সরকারের অধীনে তাদের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার কোনো আশা নেই। তারা বলছে রাজপথে বিক্ষোভ আপাতত বন্ধ থাকার মানে এই নয় যে জনগণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। সাপোরের ইকবাল মার্কেটের একজন জানালেন, এটা আরো বিপুল বেগে ধেয়ে আসতে যাচ্ছে।

১৯৮০ সাল থেকে কাশ্মীর বিদ্রোহ নিয়ে লেখালেখিতে নিয়োজিত শ্রীনগরের এক সিনিয়র বাসিন্দা আশঙ্কা করছেন যে আসন্ন শীতকালটি হতে পারে ‘কয়েক দশকের মধ্যে উত্তপ্ত।’

উপরে যে লেখকের কথা বলা হয়েছে, তার মতে, প্রতিরোধপন্থী নেতাদের আটক করে সরকারই নিজের স্বার্থই ক্ষুণ্ন করছে। তিনি বলেন, নেতাহীন সংগ্রাম আরো তীব্র ও রক্তক্ষয়ী হতে পারে। হুরিয়াতকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে দেয়া হলে কী হতো কল্পনা করে দেখুন। তারা বিক্ষোভের একটি পঞ্জিকা তৈরি করত। বন্ধ পালন করত ধাপে ধাপে, আর তা একপর্যায়ে প্রশমিত হয়ে পড়ত। অতীতে এমনই দেখা গেছে।

রাজ্যের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা একান্ত আলাপচারিতায় স্বীকার করেছেন যে সরকার মনে করছে না যে লোকজন বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে। সরকারের মতে, তাৎক্ষণিক বিস্ফোরণের পর সরকার এক মাসের মধ্যে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা ঠাণ্ডা করে দিতে পারে। বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে বিক্ষোভকারীরা হাল ছেড়ে দেবে।

কিন্তু এই সাংবাদিককে এক আমলা বলেন, বিষয়টি এত সহজ হবে না। সোফিয়ানের পিনজুরার লোকজনের ক্ষোভের কথা এখানে বলা যেতে পারে। এখানে এক দিন পরপরই ঘেরাও করে নিরাপত্তা বাহিনী। চলতি বছরের প্রথম দিকে পেলেটে একটি চোখ হারানো ২৫ বছরের এক তরুণ জানান, আমরা রাতে ঘুমাতে পারি না। অন্ধকারে সামরিক বাহিনীর লোকজনের আগমন টের পাই। তবে তারা নিজেরা নিজেদের জীবন নিয়ে যতটা না ভীত, তার চেয়ে তাদের বাড়ির নারীদের ইজ্জত নিয়ে বেশি শঙ্কিত। কারণ নারীরা ঘরের ভেতরেই থাকেন।

তার এই কথা বলার সময়ই আরো কয়েকটি ছেলে সমবেত হয়। তাদের একজন জানান, মালাউন মোদির সময় আমাদের কাছে মাত্র দুটি বিকল্পই আছে। একটি হলো আত্মহত্যা করা কিংবা লড়াই করে শেষ হয়ে যাওয়া। ইসলাম আত্মহত্যার অনুমতি দেয় না। এ কারণে আমাদের লড়াইই করতে হবে। ক্ষুব্ধ তরুণেরা চান্দগাম গ্রামে ইয়ারব আহমদ বাট নামের এক কিশোরের আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করে। সেনাবাহিনীর হাতে লাঞ্ছিত হয়ে সে আত্মহত্যা করেছিল। ছেলেরা জোরালোভাবে জানায়, তারা চরম পদক্ষেপ গ্রহণের চেয়ে বরং মুজাহিদই হবে। কেন আত্মহত্যা করব? কেন নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না?

সোফিয়ান, পুলওয়ামা, সোপর ও বন্দিপোরে রাতে বাড়ি বাড়িতে তল্লাসির সময় ও ডিটেনশন ক্যাম্পে সেনা নির্যাতনের ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই বলছে, রাতের বেলায় অভিযান চালিয়ে ছোট ছোট ছেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

আবার অনেক শিশু অভিযোগ করছে, তাদেরকে প্রায়ই সেনা সদস্যরা ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। সোফিয়ানের এক কিশোর জানায়, তারা আমাদের মনে ভয় ধরানোর জন্য এভাবে ডেকে যায়। তবে সে জানায়, এর ফলে তাদের মধ্যে বিদ্রোহের ভাব আরো তীব্র হচ্ছে।ফলে কাশ্মীরীদের মধ্যে আরো বেশি ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। পিনজারার এক তরুণ জানান, এখন প্রয়োজন কোরবানির, আর আমরা সেজন্য প্রস্তুত।

সপোরে স্থানীয় লোকজন জানায়, স্বাধীনতাকামীদের দলে ভর্তি হওয়ার হার অনেক বেড়ে গেছে। একজন জানান, এই হার ১৯৯০ সালের চেয়েও বেশি।

কাশ্মীরীরা ব্যক্তিগত ক্ষতি স্বীকার করেও আন্দোলন চালিয়ে যেতে চায়। এক পরিবহন ব্যবসায়ী বলেন, আপেল মওসুমে তার ট্রাকগুলো ৬০০-এর মতো ট্রিপ দেয়। এবার তার ট্রাকগুলো চলেনি। এতে তার ক্ষতি হয়েছে ছয় থেকে আট লাখ টাকা। কিন্তু তবুও তিনি বলছেন, প্রতিরোধ চালানোই দরকার।

মালাউন সন্ত্রাসী বাহিনীর একটি অংশও মনে করছে, তাদের ওপর হামলা হতে পারে। বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ আশঙ্কা করছে, তারাই হতে পারে স্বাধীনতাকামীদের সহজ শিকার।

2 মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন