ভারতীয় মালাউন সন্ত্রাসীদের শিশু নির্যাতন ও আটকে কাশ্মীরীদের ক্রোধ বাড়াচ্ছে

0
458

ভারত-জবর দখলকৃত কাশ্মীরে দশম গ্রেডের ছাত্র আফান পক্ষকাল কাটিয়েছে একটি কারাগারে। এই অঞ্চলের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার ভারতীয় মালাউনদের  সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কঠোর পাবলিক সেফটি অ্যাক্টে (পিএসএ)মামলা করেছিল পুলিশ।

আনাদুলু এজেন্সির বরাতে জানা যায়, সে যে কিশোর, এই মর্মে তার স্কুল থেকে দেয়া একটি নথি আদালত গ্রহণ করে তাকে মুক্তির আদেশ দিয়েছিল। আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীর রাতের অভিযানে যেসব শিশুকে ছিনিয়ে নিয়ে কারাগারে পাঠায় আফান তাদেরই একজন। আফানের বাবা মঞ্জুর আমদ গনাই বলেন কারাগারে এক পক্ষকাল কাটানোর পর পুরোপুরি বদলে গেছে তার ছেলে।

রাজ্যের হাইকোর্টের জুভেনাইল জাস্টিস কমিটি ১৪৪ জন কিশোরের গ্রেফতার নিশ্চিত করেছে। ৩৬ জনকে শ্রীনগরের উপকণ্ঠে হারওয়ানের জুভেনাইল হোমে পাঠানো হয়েছে।

৯ বছরের বালকসহ অন্যান্য বেশির ভাগ শিশুর বিরুদ্ধে দাঙ্গা সৃষ্টি, জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সন্ত্রাসী বাহিনীর ওপর পাথর নিক্ষেপের মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।

আনাদুলু এজেন্সি অনেক শিশুর পরিবারের সন্ধান পেয়েছে যারা দাবি করছে যে তাদের সন্তানেরা অবৈধভাবে কারাগারে রয়েছেন, আদালতে তাদের বিষয়টি জানানো হয়নি এবং তাদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে।

তারা বলেন, পুলিশের হেফাজতে, কারাকক্ষে ও আদালতের শুনানিতে অনেক দিন অতিবাহিত করার পর আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়া শিশুরা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে।

আনাদুলু এজেন্সিকে গনাই বলেন, আফান খুবই বিষণ্ন ও সন্ত্রস্ত্র। তার পুরো দেহে ব্যথা রয়েছে। তার পিঠে ক্ষত দৃশ্যমান।

তার গ্রেফতারের সুপারিশে বলা হয়েছিল, তাকে দুই বছর আটক রাখা যাবে। সে সহিংসতায় নেতৃত্ব দিয়েছিল, দেশবিরোধী স্লোগান দিয়েছিল। সরকার প্রমাণ করতে পারবে যে সে প্রাপ্তবয়স্ক। কিন্তু আদালত স্কুলের সার্টিফিকেট গ্রহণ করে। তাতে লেখা ছিল যে তার জন্ম হয়েছে ২০০৩ সালে।

তিনি বলেন, আমার ছেলেকে অন্যান্য অপরাধীর সাথে একটি ছোট্ট সেলে রাখা হয়েছিল। এটা তার মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, এ ধরনের কঠোর আচরণ কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না।

এক সপ্তাহ কাশ্মীরে অতিবাহিত করে ভারতীয় নাগরিক সমাজের গ্রুপ ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ওম্যানও বিচার বিভাগীয় কমিটি শিশু গ্রেফতারের যে সংখ্যা উল্লেখ করেছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। গ্রুপটি দাবি করেছে, ৫ আগস্টের পর থেকে তারা ১৪ বছরের সহ ১৩ হাজার শিশুকে গ্রেফতার করার বিষয়টি জেনেছে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে এসব শিশুকে কারাগারে আটক রাখা ও নির্যাতনের জন্য চড়া মূল্য দিতে হতে পারে। অ্যাডভোকেট শাফকাত নাজির বলেন, এটা টাইম বোমার মতো। বয়স্কদের চেয়ে শিশুদের ওপর নির্যাতন চালানো আরো বিপজ্জনক। এটা হলো তাদেরকে প্রতিশোধ গ্রহণ করা ও স্বাধীনতাকামী হওয়ার জন্য তৈরী করা।

শ্রীনগর নগরীর উমর (১৫) পুলিশ হেফাজতে ছিল ১১ দিন। সে জানায়, থানায় তাকে প্রহার ও নির্যাতন করা হয়েছিল। আমাকে চড় দেয়া হয়েছিল, মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল। এটা আমাকে সারা জীবনের জন্য বদলে দিয়েছে। জানি না কী করব।

এদিকে, শিশু-কিশোরদের গ্রেফতার করা মাত্রই তাদের বন্ধু ও স্কুল মেটদের মধ্যে ক্রোধ বাড়ে। আটক শিশুরা আটক কেন্দ্র থেকে ফিরে এসে তাদের ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দেয়। এতে প্রতিরোধ আন্দোলন প্রবল হয়ে ওঠে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন