ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীদের কবলে অচল কাশ্মীর:মোবাইল ফোন বাজার অর্থ স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসা নয়

0
338

কাশ্মীর উপত্যকায় মোবাইল ফোন বেজে ওঠাটা এখন একটা ঘটনা হয়ে উঠেছে। ৫ আগস্ট কেন্দ্রীয় সরকার যখন জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে এটাকে দুটো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার ঘোষণা দেয়, তখন পুরো উপত্যকা ছিল নিরব। মোবাইল সংযোগ, ল্যান্ডফোন, মোবাইল এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ, কেবল টেলিভিশন – যোগাযোগের সব মাধ্যমকে সে সময় বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। সব ধরনের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার পর এখন আবার মালাউন সরকার বিশ্ববাসীকে বিভ্রান্ত করতে একটু একটু করে হিসেব কষে কিছু সেবা চালু করতে শুরু করেছে।

সংবাদ সংস্থা স্ক্রল. ইনের বরাতে জানা গেছে, কাশ্মীরে প্রথমে কেবল টেলিভিশন চালু করা হয়েছে, এরপর ল্যান্ডফোনের সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়েছে। ৭২ দিন পর ১৪ অক্টোবর পোস্টপেইড মোবাইল লাইনগুলো চালু করা হয়েছে। তবে ইন্টারনেট এখনও বন্ধ আছে। বন্ধ আছে প্রিপেইড মোবাইলও।

বিশ্বের বহু জায়গায় ইন্টারনেট সুবিধা বন্ধ করাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১১ সালে জাতিসংঘ ইন্টারনেট সেবাকে মৌলিক অধিকার ঘোষণা করেছে। অন্যান্য অধিকার – যেমন মত প্রকাশের অধিকারের মতো বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য এই ইন্টারনেট এখন গুরুত্বপূর্ণ। মানবাধিকার লঙ্ঘন করে মালাউনরা ইন্টারনেট এখনও বন্ধ করে রেখেছে।

কাশ্মীরে বিশেষ করে রাজনৈতিক সিস্টেমকে এমনভাবে বিকৃত করে ফেলা হয়েছে যে, এখন সেটাকে চেনাই যাচ্ছে না। মালাউনরা আশা করছে, স্বাভাবিক বলতে কি বোঝায়, সেটা যেন মানুষ ভুলে যায়।

উপত্যকা এখনও মালাউন সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য দিয়ে ভর্তি এবং দক্ষিণ কাশ্মীর থেকে পাওয়া খবরে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, সামরিক কর্তৃত্ব আরও কঠোর করা হচ্ছে। ৫ আগস্টে কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের উদ্দেশ্য যদি হয় স্বাধীনতাকামীদের আজাদী আন্দোলন করা, তাহলে বলতে হবে তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। দুই সপ্তাহে কাশ্মীরে অন্তত দুটি গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটেছে। উপরন্তু, পুরো উপত্যকা জুড়ে সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দোকানপাট এখনও বন্ধ রয়েছে, যে সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে সরকার কাশ্মীরের কোন পক্ষের সাথেই আলোচনা করেনি।

দুই মাসের দুর্বিসহ পরিস্থিতির মধ্যে পরিবারের সদস্যরা একে অন্যের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, চিকিৎসা সেবা দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে, দৃষ্টিসীমার বাইরে কোথায় কি ঘটছে জানার কোন উপায় নেই সেখানে। মোবাইল ফোন যে বাজতে শুরু করেছে, এটা শুধু বিশ্ববাসীকে কাশ্মীর বিষয়ে বিভ্রান্ত করা অচেষ্টা ব্যতিত আর কিছুই নয়। অন্যথায় পরিস্থিতি মোটেই স্বাভাবিক হয়নি।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন