ভারতের আসামে বন্দিশিবিরগুলোতে না খেয়ে ও মালাউনদের জুলুমে ২৬ জনের মৃত্যু!

1
290

আসামে বিদেশি তকমা দিয়ে বাংলাভাষী মানুষ তাড়ানোর অংশ হিসেবে অনেক বাঙালি হিন্দু-মুসলিমকে বন্দী করা হয়েছে। আসামের ৬টি কারাগারে স্থাপিত বন্দিশিবির বা ডিটেনশন ক্যাম্পে তাদের রাখা হয়েছে। এসব বন্দিশিবিরে এর মধ্যে ২৬ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে।

সংবাদ মাধ্যম প্রথম আলোর  সূত্রে জানা গেছে, আসামের তেজপুর, গোয়ালপাড়া, শিলচর, ডিব্রুগড়, কোকড়াঝাড় ও জোরহাট জেলায় এসব বন্দিশিবির রয়েছে। এর মধ্যে তেজপুর ও গোয়ালপাড়ার বন্দিশিবিরে ১০ জন করে বন্দী মারা গেছে। শিলচর বন্দিশালায় ৩ জন, কোকড়াঝাড়ে ২ জন এবং জোরহাটে ১ জন মারা গেছে। বন্দিশিবিরগুলোতে না খেয়ে ও কারারক্ষীদের জুলুমের শিকার হয়ে বন্দীদের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

গত বৃহস্পতিবার সকালে আসামের মানবাধিকার সংগঠন ‘আমরা বাঙালি’র সচিব এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটির সচিব প্রধান সাধন পুরকায়স্থ এ জন্য আসামে সন্ত্রাসী বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী সদানন্দ সনোয়ালকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনায় আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা করা উচিত। কারণ, রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষকে ‘বিদেশি’ বানিয়ে হত্যা করছে। তিনি জানান, এই মৃতের তালিকায় ৪৫ দিনের শিশু থেকে ৮৬ বছরের প্রবীণ ব্যক্তিরা রয়েছেন।

মৃত লোকজনের মধ্যে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে ৩ বছর আগে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সন্ত্রাসী দল বিজেপি সরকারের আমলে। এই মৃতের তালিকায় আছে ১২ জন হিন্দু ও ১৩ জন মুসলিম। মৃত অপর ব্যক্তি অন্য সম্প্রদায়ের। আসামের ৬টি কারাগারে বিদেশিদের, বিশেষ করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বন্দী রাখার জন্য তৈরি হয়েছে বন্দিশিবির।

বন্দীদের মধ্যে সর্বশেষ ১৩ অক্টোবর মারা গেছেন দুলাল চন্দ্র পাল (৬৪)। তাঁর বাড়ি আসামের ঢেকিয়াজুলির আলিসিঙ্গা গ্রামে। তবে দুলাল চন্দ্র পালের পরিজন তাঁর দেহ সৎকারে অস্বীকার করেছে। তাঁদের দাবি, যেহেতু দুলাল পালকে বিদেশি তকমা দিয়ে বন্দিশিবিরে আটক রাখা হয়েছিল, তাই তাঁকে নাগরিকত্ব দিয়ে সৎকারের ব্যবস্থা করতে হবে। নইলে তাঁর মরদেহ পাঠিয়ে দেওয়া হোক বাংলাদেশে। তাঁর আত্মীয় পরিজনেরা এই দেহ নেবেন না। এখনো এই দেহ পড়ে আছে গুয়াহাটির মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।

আসামের আমরা বাঙালি, নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটি, সারা ভারত বাঙালি যুব ছাত্র সংস্থাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংস্থা দুলাল পালকে ভারতের নাগরিকত্ব দিয়ে তাঁর দেহের শেষকৃত্য করার দাবি জানিয়েছে। এই দাবিতে

গত বৃহস্পতিবার থেকে দুলাল পালের গ্রাম ঢেকিয়াজুলির আলিসিঙ্গায় শুরু হয়েছে প্রতিবাদ অবস্থান কর্মসূচি।

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন