অবৈধ(!) অভিবাসীদের আটকাতে লোহার দরজা আর কাঁটাতারের অন্দর তৈরী করল ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী নেতারা!

0
309

অবৈধ অভিবাসীদের জন্য বিশাল আকারে নতুন আটক কেন্দ্র বা ডিটেনশন সেন্টার তৈরি হয়েছে কর্ণাটকের নেলামঙ্গলায়! বেঙ্গালুরু থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে, অবৈধ অভিবাসী বা বিদেশি নাগরিকদের রাখার জন্য এই নতুন আটক কেন্দ্রটির প্রায় প্রস্তুত। এই আটক কেন্দ্রের অভ্যন্তরেই ঢুকে পড়েছিল এনডিটিভি। প্রাথমিকভাবে একটি ছাত্রাবাস ভবন হিসাবেই এটির নির্মাণ কার্য শুরু হয়। ৮ টি প্রকাণ্ড ঘর, তাতে লোহার বিশালাকার দরজা। ভবনের সামনে একটি ছোট্ট বাগানও রয়েছে। অসমের গোয়ালপাড়া জেলায় তৈরি হওয়া আটক কেন্দ্রের থেকে আকারে ছোট এটি, অসমের কেন্দ্রটি আড়াই হেক্টর জুড়ে বিস্তৃত, আর এটি কয়েকশ বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। তবে কাঁটাতারের বেড়া ও বিশাল লোহার দরজা বুঝিয়ে দিয়েছে ছাত্রাবাস নয় আদতে মানুষকে আটকে রাখার জন্যই এই প্রভূত আয়োজন।

কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছে কেন্দ্রটি শীঘ্রই চালু হবে এবং এটি যদি অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের বসবাসের পক্ষে অপ্রতুল প্রমাণিত হয়, তবে বেঙ্গালুরু পুলিশ কমিশনার ভাস্কর রাও জানিয়েছে যে রাজ্য আরও জায়গা চাইবে। গত বৃহস্পতিবার কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাসভরাজ বোম্মাই সাংবাদিকদের বলেছে, “নাগমঙ্গলার কাছে একটি আটক কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে, এটি পরিচালিত হওয়া দরকার। আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং এটির পরিচালনায় আর কোনও বিলম্ব হবে না।”

এই হোস্টেলকে একটি ডিটেনশন সেন্টারে রূপান্তরিত করার বিষয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে রাজ্যবাসীর কপালেও। বিশেষত অগাস্টে আসামে বিতর্কিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি প্রকাশের ফলে ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ার পর থেকে আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। কর্ণাটকেও এনআরসি হবে কিনা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। রাজ্যে এখন বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে এবং এই মাসের শুরুর দিকে বাসভরাজ বোম্মাই স্বীকার করেছে যে, সরকার রাজ্যে এনআরসি প্রয়োগের বিষয়ে বিবেচনা করছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও সম্প্রতি বলেছে যে এনআরসি সারা দেশেই পরিচালিত হবে এবং অবৈধ অভিবাসীদের “দেশের বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া” হবে

কর্ণাটকের বিজেপি সাংসদ পিসি মোহন এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ঘোষণা করেছে যে বাংলাদেশি অভিবাসীরা “অবশ্যই আমাদের দেশের জন্য হুমকি।” “এটি মুখ্যমন্ত্রীর একটি খুব ভাল সিদ্ধান্ত…বেঙ্গালুরুতে প্রচুর অবৈধ অভিবাসী… বিশেষত বাংলাদেশি, যাদের কাছে আধার কার্ডও রয়েছে। এরা অবশ্যই আমাদের দেশের জন্য হুমকি,” বেঙ্গালুরু (কেন্দ্রীয়) সাংসদ  পিসি মোহন এনডিটিভিকে জানিয়েছে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন